• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ভাঙ্গা’য় আতঙ্ক-ইউএনও’র গুলি


প্রকাশিত: ৮:৪০ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০৯ বার

ভাঙ্গা সংবাদদাতা : ভাঙ্গায় কোন কারণ ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি এবং রাতে ফরিদপুর ভাঙ্গা ইউএনও রকিবুর রহমান খানের ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিয়ে তোলপাড় চলছে প্রশাসনে। আইন রক্ষকের ‘এ এ্যাকশন’ কার কারণে তা নিয়েও তুমুল বিতর্ক চলছে। ভাঙ্গা থানার ওসি জানান, রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে সময় উপজেলায় নিজ বাস ভবনে শটগান থেকে এই গুলি ছোড়েন তিনি।

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও ব্যবহার বিধিমালা ২০১৬ এর ২৯ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন অস্ত্র ক্রয় ও মেরামতের সময়ে টেস্ট ফায়ারিং, আত্মরক্ষা ও টার্গেট অনুশীলনের উদ্দেশ্যে গুলি ব্যবহার করা যাবে। টেস্ট ফায়ারিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি গুলি ব্যবহার করা যাবে। ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-৪-এর এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অস্ত্র কেনার সময় টেস্ট ফায়ারিং করা যাবে এবং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এ সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দেবে। এই বিধিমালা অনুযায়ী, অস্ত্র কিনে আনার আগে দোকানেই পরীক্ষা করতে হবে। বাড়িতে এনে পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। আইনের এ অধ্যায়ে ওই বিধিমালার ২৫ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অন্যের ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। সেহিসেবে ভাঙ্গা ইউএনও’র বেআইনী কার্যকলাপের কি সাজা তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের কাছাকাছি বসবাসরত এক ব্যক্তি জানান, এখানে হঠাৎ করেই পরিবেশ থমথমে হয়ে গেছে। সারাদিন ১৪৪ ধারা, আবার রাতে ভয়ংকর গুলির শব্দে আতঙ্কে রয়েছি আমরা। কেন এমনটা করা হচ্ছে জানা নেই আমার।এদিকে চার রাউন্ড গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার ওসি শফিকুর রহমান জাতিরকন্ঠ কে বলেন, ‘রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে উপজেলা পরিষদ ও আশেপাশে থাকা বাসিন্দারা। তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনা তদন্তের জন্য যাই আমরা। সেখানে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন এবং উপজেলা পরিষদের ওখানে কর্মরত আনসার সদস্যদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান গুলি চালিয়েছেন। কিন্তু তিনি কেনো গুলি চালিয়েছেন তা জানতে বেশ অনেকবার তার ব্যক্তিগত এবং সরকারি ফোন নম্বরে ফোন দিয়েও পাইনি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানাতে পারব।

ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ এলাকায় ৪ রাউন্ড গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম বলেন, ‌’ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ এলাকায় চার রাউন্ড গুলি করার বিষয়ে আমি শুনেছি। সেখানে তদন্তের জন্য আমাদের ফোর্স গিয়েছিলো। জানা গেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুলি চালিয়েছিলেন। এরপর আমি তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অবশ্য গুলি করা বা কোন গোলাগুলি হওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান। তিনি জানান, গোলাগুলির কোন ঘটনাই ঘটেনি। চার রাউন্ড গুলিসম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কোন বিষয় না।’কিন্তু ভাঙ্গা থানার ওসি শফিকুর রহমান ও ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম নিশ্চিত করে জানান, গুলি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চালিয়েছেন। সেখানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা এ কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কেনো গুলি চালিয়েছেন সে বিষয়ে কোন তথ্য এখনো জানা যায়নি।

রবিবার ভাঙ্গায় কোন সমাবেশ না থাকার পরও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। তিনি অকারণে ১৪৪ ধারা জারি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘১৪৪ ধারা খেলার বিষয় নয়। আজকে সারাদিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করাতে এমনিতেই নেতাকর্মী ও জনসাধারণের ভেতরে আতঙ্ক বিরাজ করছিলো। রাতে এই গুলির ঘটনায় এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।