বিহারী ক্যাম্পের জায়গা দখলে ব্যর্থ চক্রের পিরোজপুরে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় বিহারী ক্যাম্প এর জায়গা দখল করতে না পেরে একই চক্র এবার পিরোজপুরের কথিত এক বিথী বেগমকে দিয়ে মানবপাচারের মামলা সাজিয়েছে পল্লবীর কথিত ভূমিদস্যু কাজী আলমগীর কবির। আজ রবিবার ২২ নভেম্বর দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিহারীরা এক মানব বন্ধনে এসব তথ্য জানায়। বিহারীরা ওই ভূমিদস্যু চক্র ও তাদের সহযোগী বিথী বেগমেরও গ্রেফতার দাবী করেছে। প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ ও মানববন্ধনে পল্লবীর তালাব ক্যাম্পের উর্দুভাষী ক্যাম্পের বিহারীরা বলেন,ঢাকায় বিহারী ক্যাম্পের জায়গা দখল করতে না পেরে চক্রটি পিরোজপুুরে মানবপাচার আইনে মিথ্য মামলা দায়ের করেছে।
মানববন্ধনে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ও নিরীহ বিহারী নিপিড়ন বন্ধ এবং বিশ্ব ব্যাংকের ভূয়া কর্মকর্তা কাজী আলমগীর কবির ও তার সহযোগী বীথি বেগমকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে পুলিশের আইজির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন তালাব ক্যাম্পের মোঃ শামীম। সভায় বিহারীগন ভূমিদস্যুদের নিপিড়ন হতে রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ও পল্লবীর ভূমিদস্যু কাজী আলমগীর কবির কে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। সভায় বক্তাগন বীথি বেগম কর্তৃক পিরোজপুরের মানবপাচার আদালতে নারী পাচারের মিথ্যা মামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং এই মামলার দায়ের এর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি বিধানের দাবি জানিয়েছেন।
বক্তাগন বলেন যে, ২০১৭ সালের ঘটনা সাজিয়ে ও নগদ ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সৌদীআরবে কথিত পাচার হওয়া ও তথায় বিভিন্ন দেশের লোকের দ্বারা মনগড়া ধর্ষনের কাহিনীর অবতারনা করে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার পশ্চিম বানিয়াড়ী গ্রামের বাসিন্দা দাবিদার বীথি বেগম (২২), স্বামী-মোহাম্মদ সাহেদ আলী শেখ গত অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে পিরোজপুর মানব পাচার প্রতিরোধ ও ট্রাইব্যুনালে ৮ জনকে আসামী করে বানোয়াট মামলা করেছেন। মামলা নং-০২/২০২০। বর্ণিত মিথ্যা মামলার ৮ জন আসামীর ৭ জনই ঢাকার পল্লবী থানার মিরপুর-১১ এর উর্দূভাষী বিহারী ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা। আলোচিত মানবপাচার মামলার ৬নং আসামী পারভীন বেগম, স্বামী মোদাচ্ছের শেখ, পিরোজপুর জেলার একমাত্র আসামী।
পারভীন বেগম (৫০) সহ উল্লেখিত মামলায় অভিযুক্ত ৮ জনের ৪ জন হলেন মহিলা। মামলার বর্ণনা অনুসারে পিরোজপুর, পল্লবী, পল্টন, শাহজালাল এয়ারপোর্ট ও সৌদী আরব উল্লেখ থাকলেও বাদী বীথি বেগম (২২) তারই নাজিরপুর থানার পশ্চিম বানিয়াড়ী গ্রামের ৮ জন কথিত বাসিন্দাকে স্বাক্ষী বানিয়েছেন। রাজধানীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১১, বি ব্লকস্থ বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দা বিহারী ড্রাইভার জাবেদ এর ক্যাম্পস্থ জায়গা গত মে হতে জুলাই ২০২০ মাসে দখলে ব্যর্থ হয়ে বরিশাইল্লা বলে পরিচিত ভুমিদস্যু ও প্রতারক কাজী আলমগীর কবির বীথি বেগমকে দিয়ে নিরিহ বিহারীদের বিরুদ্ধে মামলার দায়ের করে বিহারী তালাব ক্যাম্পের জায়গা দখল করে অবৈধ ভবন নির্মান করতে চায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বলিষ্ঠ ভূমিকায় ড্রাইভার জাবেদ এর ক্যাম্পস্থ ঘর রক্ষা পাওয়ায় বিশ্ব ব্যাংকের ভূয়া কর্মকর্তা, তথাকথিত ডঃ আলমগীর কবির বীথি বেগমকে বাদী বানিয়ে পিরোজপুরে মামলা করেছে। পরস্পরে জানা গেছে যে, কাজী আলমগীর কবির একজন আদম ব্যবসায়ী। বিহারী ক্যাম্পের কেহই তার গ্রামের বাড়ীর ঠিকানা জানে না।সমাবেশে উপস্থিত উর্দুভাষী বিহারীদের নিকট হতে জানা যায় যে, পিরোজপুর মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধ ট্রাইবুনালের নির্দেশে পিরোজপুর পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে। তদন্ত কর্মকর্তা হলেন ইন্সপেক্টর বায়জিদ আকন।
বক্তারা আরোও বলেন যে, মানব পাচার মামলাটি মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্য প্রনোদিত। বিথী বেগম, স্বামীঃ মোঃ সাহেদ আলী শেখকে পল্লবী থানাধীন এলাকার ৭ জন অভিযুক্তের কেহই তাকে চেনে না। মানববন্ধনে বক্তারগণ বাংলাদেশী বিহারী পুনর্বাসন সংসদ (বিবিআরএ) এর পল্লবী থানা শাখার নেতা মোঃ টিটু ইসলামকে মামলায় আসামী করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মানববন্ধনে সভাপতি মোঃ শামীম তার বক্তব্যে বীথি বেগমকে নিরীহ বিহারী হয়রানি করার দায়ে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে মামলা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন মোঃ মুরাদ, হালিম, মোঃ মিঠুন, মোঃ জাবেদ, শামিনা, মুস্তারি, হালিম, হাসিলা, টিটু ইসলাম, বেবি প্রমুখ।



