বিশ্বখ্যাত ১৩ লীড গ্রিনফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে
বিশেষ প্রতিনিধি : বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ, বাংলাদেশ টেকসই সবুজ শিল্পায়নে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গ্রিন কারখানাগুলোর পাশে নিজের অবস্থান সুসংহত
করেছে। বর্তমানে দেশের ৬৭টি কারখানা ইউনাইটেড ষ্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল থেকে ‘লীড’ (লিডারশীপ ইন এনার্জি এন্ড এনভাইরনমেন্টাল ডিজাইন) সনদ পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৩টি কারখানাই হচ্ছে লীড প্লাটিনাম রেটেড। আরও ২৮০টির অধিক কারখানা ইউএসজিবিসি থেকে সনদ পাওয়ার পথে রয়েছে।
লীড গ্রিন ফ্যক্টরি এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ১৩টি কারখানা হলো ১) রেমি হোল্ডিংস লিঃ, ২) তারাসিমা এ্যাপারেলস লিঃ, ৩) প্লামি ফ্যাশনস লিঃ, ৪) ভিনটেজ ডেনিম ষ্টুডিও লিঃ, ৫) কলামবিয়া ওয়াশিং প্লান্ট লিঃ, ৬) ইকোটেক্স লিঃ, ৭) এসকিউ সেলসিয়াস ইউনিট-২ লিঃ ৮) কানিজ ফ্যাশনস লিঃ, ৯) জেনেসিস ওয়াশিং লিঃ, ১০) জেনেসিস ফ্যাশনস লিঃ, ১১) এসকিউ বিরিকিনা লিঃ, ১২) এসকিউ কোলব্লাংক লিঃ এবং ১৩) এনভয় টেক্সটাইলস লিঃ।
লীড সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোকে সম্মাননা প্রদানের জন্য বিজিএমইএ’র সহযোগিতায় ইউএসজিবিসি (ইউনাইটেড ষ্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল) ও জিবিসিআই (গ্রিন বিজন্যাস সার্টিফিকেশন ইনকর্পোরেট) এর যৌথ উদ্যোগে আজ ১লা মার্চ ২০১৮ তারিখে এ্যাপারেল ক্লাবে ‘লীড গ্রিন ফ্যাক্টরি এ্যাওয়ার্ড সিরোমনি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১৩টি লীড প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত কারখানাকে সম্মাননা প্রদান করে সবুজ শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তাদের উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএসজিবিসি (ইউনাইটেড ষ্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল), জিবিসিআই (গ্রিন বিজন্যাস সার্টিফিকেশন ইনকর্পোরেট) এর এশিয়া, প্যাসিফিক এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব গোপালা কৃষ্ণনান পাদনামাভন।
বিজিএমইএ সভাপতি জনাব সিদ্দিকুর রহমান এর সভাপতিত্বে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি জনাব মইনউদ্দীন আহমেদ, সহ-সভাপতি জনাব এস এম মান্নান (কচি), সহ-সভাপতি (অর্থ) জনাব মোহাম্মদ নাছির, সহ-সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান (বাবু) এবং পরিচালকবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী জনাব আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাগন শিল্পকে সবুজায়নের জন্য যে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পোশাক শিল্পের গ্রীন করখানাগুলোকে সম্মাননা প্রদানের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহনের জন্য তিনি বিজিএমইএ ও ইউএসজিবিসি – উভয়কেই আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অন্যান্য শিল্পগুলোও পোশাক শিল্পের দৃষ্টান্ত অনুসরন করে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
বিজিএমইএ সভাপতি জনাব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের একটি নিরব বিপ্লব ঘটে গেছে। এখন পর্যন্ত এই শিল্পের ৬৭টি কারখানা টঝএইঈ থেকে লীড সনদ লাভ করেছে, এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি প্লাটিনাম কারখনা। আরো প্রায় ২৮০টি কারখানা খঊঊউ সার্টিফিকেশনের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে, যারা অচিরেই কারখানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ র্যাংকিং প্রাপ্ত লীড প্লাটিনাম ডেনিম কারখানা, নীটওয়্যার কারখানা, ওয়াশিং ও টেক্সটাইল মিল বাংলাদেশে অবস্থিত। এই সাফল্যের যাঁরা রুপকার তাঁদের মহৎ উদ্যোগকে সম্মান জানানোর জন্যই আজকের এই আয়োজন।”
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মাননীয় রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ষ্টেফেনস ব্লুম বার্নিকাট এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একটি প্রকৃত মাইলফলক এবং সাম্প্রতিককালে তৈরি পোশাক শিল্পখাত শিল্পকে টেকসই করার জন্য যে বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহন করেছে, তারই বহিঃপ্রকাশ। এই ‘লীড’ সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলো শিল্পের ভাবমূর্তি আধুনিক, নিরাপদ ও সবুজ ভাবমূর্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখছে। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমের সাথে সংহতি রেখে কারখানাগুলো রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করছে!’’
জিবিসিআই এর এশিয়া, প্যাসিফিক এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব গোপালা কৃষ্ণনান পাদনামাভন তার বক্তব্যে বলেন, আমরা এই গুরুত্বপূর্ন অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে পেরে আনন্দিত। বাংলাদেশ অঞ্চলে পরিবেশের উন্নতিকল্পে আমাদের উদ্যোগকে সহযোগিতা করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। যেসব প্রকল্প ‘লীড’ সনদ পেয়েছে, তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই, এবং সুস্থ ও টেকসই ভবিষ্যত গড়ার জন্য আপনাদের যে প্রতিশ্রæতি, তার জন্য আপনাদের আবারও ধন্যবাদ জানাই।



