বিলের ‘মেলিন্ডা’র ভীমরতি- সংসার চুরমার!দেনমোহর ভরসা!

লাবণ্য চৌধুরী : কথায় বলে সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে..! সেই কথা সত্যি হয়ে ছিল…! তাহলে কি মেলিন্ডা সেই সংসার সুখের হয় রমনী নন…! এতো প্রাচুর্য থাকার পরও কি এমন ভীমরতি ধরল তার। তাহলে কি বাসর রাতে বেড়াল মারেননি বিল গেটস! করেছেন প্রেম! আর সেজন্যই কি ডলারের নেশায় ভেঙ্গে গেল সংসার! এবার বিলিয়নার ক্লাবে নাম লেখাতে চলেছেন মেলিন্ডা। কোভিড মহামারির আগে আরেক শীর্ষ ধনী অ্যামাজনের বেজোসের সঙ্গে ম্যাকেঞ্জির বিচ্ছেদ ঘটে যায়। সেখানেও ছিল নাকি ডলার এর নেশা। কিন্তু মেলিন্ডা কি পাবে গেটস এর কাছে? তার কোনো চুক্তি নেই গেটসের সঙ্গে। জানা গেছে, বিশ্বে চতুর্থ শীর্ষ ধনী মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে বিয়ের আগে কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি। ফলে এই দম্পতির গড়ে তোলা প্রায় ১৩০০০ কোটি ডলার কীভাবে ভাগ হবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বিল গেটসের বয়স এখন ৬৪ বছর। মেলিন্ডা ৫৬। আদালতে তারা যে আবেদন জমা দিয়েছেন তাতেই দেখা গেছে যদি বিচ্ছেদ হয় তাহলে সম্পদ তাদের মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে সে সম্পর্কে কোনো চুক্তি নেই।কেন এমন ঘটল? মিলিয়ন ডলার এর ভাগাভাগি’তে কেন এই বিবাহ বিচ্ছেদ ? ‘ডলার’ এর গন্ধ তাদের এই সুখের সংসারে হানা দিল কেণ? এ প্রশ্ন এখন সারা বিশ্বের।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিয়ে নিয়ে খুবই সিরিয়াস মানুষ ছিলেন বিল গেট্স। এতটাই সিরিয়াস যে, তিনি একটি সাদা বোর্ডে বিয়ের পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তিগুলোর একটি তালিকা পর্যন্ত করেছিলেন। ২০১৯ সালে নেটফ্লিক্সের তিন পর্বের ‘ইনসাইড বিলস ব্রেইন: ডিকোডিং বিল গেট্স’- নামের তথ্যচিত্রে বিল গেট্স ও মেলিন্ডা গেটসের আলোচনাতে এই তথ্য উঠে এসেছে। যে মানুষটি বিয়ে নিয়ে এতটাই সিরিয়াস তিনি কি এখন সাদা বোর্ডে বিয়ের বিপক্ষের যুক্তিগুলো লিখবেন?
জানা গেছে, প্রথমে প্রেম, পরে বিয়ে হয় তাদের। ১৯৮৭ সালে প্রথম দেখা হয়েছিল ওদের। এরপর ৭ বছরের প্রেম করে ১৯৯৪ সালে বিয়ে করেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা।
১৯৮৭ সালে প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে মাইক্রোসফটে যোগ দিয়েছিলেন মেলিন্ডা। ওই বছরই নিউ ইয়র্কে প্রতিষ্ঠানের একটি আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন তারা। সেখানেই প্রেম হয় দুজনার। নেটফ্লিক্সে প্রচারিত এক তথ্যচিত্রে বিল গেটস বলেন, আমরা একে অপরের খুব খেয়াল রাখতাম। এখানে দুটি সম্ভাবনা ছিল। হয় আমাদের প্রেমে বিচ্ছেদ হবে, নয়তো আমাদের বিয়ে করতে হবে। মেলিন্ডা বলেন, তিনি বিল গেটসকে একজন সুশৃঙ্খল মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করেছিলেন। এমনকি তাকে বিয়ে করার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিও দিয়েছিলেন বিল। ভালো লাগা থেকেই মেলিন্ডা অ্যান ফ্রেঞ্চ হয়ে গেলেন মেলিন্ডা গেটস।
তারপর থেকে সুখে-দুঃখে একসঙ্গে কেটে গেছে দীর্ঘ ২৭টি বছর। সব মিলে তাদের প্রেম ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে কেটে গেছে ৩৩টি বছর। এ সময়ে তারা তিনটি সন্তানের পিতামাতা হয়েছেন। বড় মেয়ে জেনিফারের বয়স এখন ২৫ বছর। এরপরে রয়েছে ছেলে রোরি (২১) এবং ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ফোইবি। ভরপুর সংসার, হাসিখুশি মাখা সন্তান, অর্থবিত্তে সয়লাব পরিবার, দাতা হিসেবে ব্যাপক সুনাম বিশ্বজুড়ে, দাতব্য সংস্থা পরিচালনায় আছে সুনাম। তারপরও এত বছর পরে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস। কিন্তু কেন?
অ্যামাজন বস জেফ বেজোসের সংসার ভেঙেছে লঁরা সানচেজ নামে এক যুবতীর সঙ্গে গোপন প্রেমের কারণে। কিন্তু মাইক্রোসফ্ট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেট্স ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের সংসার ভাঙছে কি কারণে, তা কঠিন এক রহস্যে ঘেরা। যার চোখে চোখ রেখে বিল গেট্স দেখেছিলেন তার ভালোবাসার স্বর্গ, তার সঙ্গেই ২৭ বছর সংসার করার পর দু’জনেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন! এ খবরে বিশ্বজুড়ে তুমুল আগ্রহ। পশ্চিমা সব অনলাইন বা প্রিন্ট ভার্সনের পত্রিকায় প্রধান সংবাদ শিরোনাম হয়ে উঠে এসেছেন তারা। সবাই জানার চেষ্টা করছে কি কারণে এই বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। তবে এর আগে এক সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা বলেছিলেন, নিজের কাজ এবং পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে তার স্বামী বিল গেটসের।
সোমবার তারা ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটানোর ঘোষণা দেন। আকস্মিক এ ঘোষণায় বিস্মিত মানুষ। তাদের সন্তানদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। তবু বিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে ভেঙে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মেলিন্ডা। তিনি বিচ্ছেদ আবেদন করে দরখাস্ত করেছেন। এতে বলেছেন, তিনি এবং বিশ্বে চতুর্থ শীর্ষ ধনী মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে বিয়ের আগে কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি।
জানা গেছে, এই দম্পতির রয়েছে ৫টি এস্টেট, একটি প্রাইভেট জেট, বিস্ময়কর সব আর্ট কলেকশন এবং বিলাসবহুল গাড়ির ভাণ্ডার। বড়মেয়ে জেনিফার গেট্স (২৫) জানিয়েছেন, তার পরিবার কঠিন এক হতাশাজনক চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। এরপরই মেলিন্ডা গেটসের বিচ্ছেদের আবেদন আলোর মুখ দেখে। সোমবার স্থানীয় সময় বিকালে ইন্সটাগ্রামে পিতা-মাতার বিচ্ছেদের ঘোষণা নিয়ে তিনি হতাশার কথা লিখেছেন।
বিল গেট্স এবং মেলিন্ডা দু’জনেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তাদের বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করেছেন। এতে তারা লিখেছেন, অনেক চিন্তাভাবনা এবং অনেক বিষয়ে কাজ করে আমরা সিদ্ধান্তে এসেছি বিবাহ বিচ্ছেদের। এতে তারা আরো লিখেছেন, ২৭টি বছর ধরে আমরা বড় করেছি অসাধারণ তিনটি সন্তানকে। গড়ে তুলেছি একটি ফাউন্ডেশন। এটি সারা বিশ্বে মানুষকে সুস্থ এবং উৎপাদনক্ষম জীবন-যাপনে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এই মিশন সম্পর্কে আমাদের অভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে। তা হলো, আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও একসঙ্গে অব্যাহতভাবে এই ফাউন্ডেশনের জন্য কাজ করে যাবো।



