বিরোধীরা প্রতিহিংসা কবে ভুলবেন!!
শফিক রহমান : দেশবাসীর ভালবাসায় বিপুল সংখ্যক আসন পেয়ে মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানাতে উদ্যোগ নিলেন তখন তাদের ফের ‘রাজনীতিকে’ পেয়ে বসলো। অনেকে বললেন সুর্নির্দিষ্ঠ এজেন্ডা হলে তারা আলোচনায় বসবেন। তাদের কথায় মুখ খুলতে বাধ্য হলেন ওবায়দুল কাদের।তিনি বললেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্টসহ যে রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপে অংশ নিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তাদের নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চান বলে।তিনি বলেন, এখানে কোনো সংলাপের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। কেবল শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকবেন প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু দেশপ্রেমিক রাজনীতিকদের প্রশ্ন বিরোধীরা প্রতিহিংসা ভুলে কবে ভাল হবে! রাজনীতিতে সবার আগে হোক দেশ; তারপর জনগন-দল ও ব্যাক্তিস্বার্থ। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনের আগে নিজেদের চাওয়া পাওয়া নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। দেশকে কিভাবে এগিয়ে নেবেন তার ফর্মুলা তাদের কাছে ছিলনা। একমাত্র শেখ হাসিনাই দেশগড়ার ইশতেহার দিয়েছেন এবং দেশকে কিভাবে উন্নয়নের মহাসড়ক থেকে প্রাচ্য’র সুইজারল্যান্ড বানাবেন তা তুলে ধরেছিলেন। এদেশের জনগন তাই ভুল করেনি তাকে ভোট দিতে। আর এই জ্বালাটাই সামলে নিতে পারছেনা বিরোধীরা।
গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্থানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় ওবায়দুল কাদের বললেন, দল ও সরকার আলাদা করার প্রক্রিয়া চলছে। কাদের বলেন, নিরঙ্কুশ বিজয়কে সংহত করতে চাইলে আমাদের দল গোছাতে হবে। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ বিজয় চাইলে দলের ভেতরের সমস্যা আগে ঠিক করতে হবে। এই সমস্যাগুলো অনতিক্রম্য নয়, অতিক্রম্য।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় উদযাপনে ১৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের জনসমাবেশ সফল করতে ওই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় কাদের বলেন, নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো বিষয় নেই। যে নির্বাচন নিয়ে গণতান্ত্রিক বিশ্বে কোনো প্রশ্ন নেই সেখানে সংলাপের প্রশ্ন হাস্যকর।১৯ জানুয়ারির সমাবেশের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিজয়ী দলের অনেক দায়িত্ব। তাই জনদুর্ভোগকে মাথায় রাখতে হবে। মহাবিজয়ে কেউ যেন মহাদাপট দেখাতে না যান। এখন থেকে জনগণের কাছে আরও বিনয়ী হবেন। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কিছুটা জনদুর্ভোগ হতে পারে আশঙ্কা করে আগাম দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।
ওই সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আর বক্তব্য দেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।সভায় উপস্থিত ছিলেন- নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর প্রমুখ।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘সংলাপ’ নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও একটি সংলাপ করবেন।’আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে জাতিরকন্ঠকে এ কথা বলেন।এইচ টি ইমাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো সবার। তাকে সবাই অবশ্যই মেনে নেবে এবং সহযোগিতা করবে, করতে হবে। তিনি আবার একটি সংলাপ করবেন বলেছেন। আগের সংলাপে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদেরও তিনি আমন্ত্রণ জানাবেন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে আলোচনাসংক্রান্ত যে কথাটি বলা হচ্ছে, তা অত্যন্ত অবাস্তব এবং হাস্যকর।নতুন নির্বাচন বাস্তবে সম্ভব নয় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাস্তবতা মেনে নিয়ে সবাই সহায়তা করুন’।



