• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

বিদ্যুৎ আমদানি উদ্বোধনে হাসিনা-মোদি


প্রকাশিত: ১২:৪৪ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ১৮ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০২ বার

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি : ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে নয়াদিল্লি এবং ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানি উদ্বোধন করবেন। ভারতের সময় বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট আর বাংলাদেশে ৪টা ৪৫ মিনিটে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ আমদানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়।

এদিকে আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কাজের উদ্বোধন হবে আজ সোমবার। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কাজের’ও উদ্বোধন করবেন। বিকালে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে সরাসরি এ অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে বলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে জানিয়েছেন।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালিদ মাহমুদ বলেন, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সোমবার হলেও রবিবার দিবাগত রাত ১২টায় বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়েছে। ভারতকে এজন্য ৩০০ মেগাওয়াটের একটি চাহিদা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বরের প্রথম প্রহরে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করতে যাচ্ছি আমরা।

ভারত-বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বাণিজ্য এরমধ্য দিয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এর আগে ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছিল। এখন যা এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।ভারতের বহরামপুর এবং বাংলাদেশের ভেড়ামারায় নির্মাণ করা ব্যাক টু ব্যাক সাব-স্টেশন দিয়ে এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হবে।ভেড়ামারা থেকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি পিজিসিবির প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কিউএম শফিকুল ইসলাম টেলিফোনে জানান, আমরা সবাই এখানে রয়েছি। আপাতত ভারতকে ৩০০ মেগাওয়াটের একটি চাহিদা দেওয়া হয়েছে।

গত ১১ এপ্রিল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বিষয়টি অনুমোদন করে। পিডিবি সূত্র জানায়, স্বল্প মেয়াদে ৩০০ ও ২০০ মেগাওয়াট করে ভারতের দুটি কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। সরকার স্বল্প এবং দীর্ঘ দুই মেয়াদে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বল্প মেয়াদে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দীর্ঘমেয়াদে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩৩-এর ৩১ মে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

এদিকে আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ৩নং প্লাটফরমে একটি বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষে এখানে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওই সমাবেশে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

জানা গেছে, আখাউড়া থেকে আগরতলা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মিত হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অংশে ১০ কিলোমিটার এবং ভারতের অংশে ৫ কিলোমিটার। আখাউড়া থেকে গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শিবনগর পর্যন্ত হবে বাংলাদেশের রেললাইন। রেললাইন নির্মাণে বেশির ভাগ অর্থ ব্যয় করবে ভারত সরকার।

প্রকল্পটি নির্মিত হলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পথে প্রথম দিকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে। যাত্রী পারাপারের বিষয়ে পরে দুদেশের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজ জিন্নাত জানান, এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮০ কোটি রুপি। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশের ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রায় ৪৭৮ কোটি টাকা এবং ভারতের ৫ কিলোমিটার অংশের জন্য ৫৮০ কোটি রুপি।

ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্স মেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ প্রকল্পের রেললাইন নির্মাণ করবে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ১৮ মাস।২০১৬ সালের ৩১ জুলাই একই প্রকল্পের ভারতের আগরতলা অংশে কাজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এবং ভারতের রেলপথমন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু। ইতোমধ্যে ভারতের অংশে রেলপথের নির্মাণকাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।