• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

বিচ্ছৃঙ্খল দানখয়রাত-কেএসআরএম এমডি’র পলায়ন:গ্রেফতার-৪


প্রকাশিত: ৪:৫৯ পিএম, ১৬ মে ১৮ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৭১ বার

বিশেষ প্রতিনিধি :  চট্টগ্রামের সাতকানিযায় বিচ্ছৃঙ্খলভাবে  দান খয়রাত করায় ৯ মহিলা নিহত হওযার মূল আসামী ksrm-ctg-satkania-www.jatirkhantha.com.bdকেএসআরএম এমডি মোঃ শাহজাহান আত্মগোপন করেছেন।তিনি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন বলেও সন্দেহ করছেন সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হোসেন। তবে এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তাঁরা কেএসআরএম’র ৪ কর্মচারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। ওসি জাতিরকন্ঠকে বলেন, তাকে গ্রেফতারে সর্বত্র নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সাতকানিয়া পুলিশ জানায়, ”গতকাল ১৪ মে সাতকানিয়া থানাধীন পূর্ব গাটিয়াডাঙ্গা (হাঙ্গরকুল) সাকিনে কেএসআরএম এর এমডি’র বাড়ীর পেছনের মাঠে যাকাত-ইফতার সামগ্রী বিতরনকালে ৯ জন অসহায় মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় নিহত হাসিনা আক্তারের স্বামী মোঃ ইসলাম  মামলা দায়ের করেন”।

দায়েরকৃত এজাহারে বলা হয়, ”মোহাম্মদ শাহজাহান-৬৫ (ম্যানেজিং ডিরেক্টর কবির গ্রুপ) পিতা-মৃত কবির আহমদ সাং-পূর্ব গাটিয়াডাঙ্গা (হাঙ্গরকুল) ৩নং নলুয়া ইউনিয়ন, থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম এবং তার বিভিন্ন পদের অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে”।

মামলার তদন্তকারী অফিসার মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাতকানিয়া থানা) চট্টগ্রাম তার সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স সহ অভিযান পরিচালনা করে কেএসআরএম এর এমডি’র বাড়ী ও আশপাশ থেকে এই ঘটনার সম্পৃক্ততা থাকায় চার জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

এরা হচ্ছেন, মুরিদুল আলম প্রকাশ মুরাদ (২৭) পিতা-ছিদ্দিক আহম্মদ সাং-মক্কার বাড়ী মাদার্শা ,  মোঃ ইদ্রিছ (২৬) পিতা-জাকির হোসেন সাং-পূর্ব গাটিয়াডাঙ্গা, হাবিব আহমদ সাহেদ (৩২) পিতা-সোলায়মান সাং-আমিলাইশ (গুনা পাড়া) ও আজগর আলী (২৮) পিতা-মোঃ ইদ্রিছ সাং-হাঙ্গরমুখ (খন্দকার পাড়া) সর্বথানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রামদের গ্রেফতার করা হয়েছে।তারা প্রত্যেকেই গতকালের যাকাত-ইফতার সামগ্রী বিতরনকালে সেখানে উপস্থিত থেকে মাঠে দায়িত্বপালনরত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

মামলা দায়ের-
সাতকানিয়া থানাধীন ৩নং নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাটিয়াডাঙ্গা (হাঙ্গরকুল) সাকিনে কেএসআরএম এর এমডি’র বাড়ীর পেছনে তাদের নিজস্ব মসজিদ ও মাদ্রাসার মাঠে যাকাত-ইফতার সামগ্রী বিতরনকালে ৯ জন অসহায় মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় নিহত হাসিনা আক্তারের স্বামী মোঃ ইসলাম (৪৪) পিতা-মৃত মনির আহমদ সাং-খাগরিয়া (চৌধুরী বাড়ী) ৭নং ওয়ার্ড থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

এতে ১ নম্বর আসামী করা হয়, কেএসআরএম’র এমডি মোহাম্মদ শাহজাহান-৬৫ কে।এ ঘটনার তারিখে যাকাত-ইফতার সামগ্রী বিতরন কাজে নিয়োজিত তার বিভিন্ন পদের অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে সাতকানিয়া থানা মামলা গ্রহণ করে। মামলা নং-১৭ তারিখ-১৫.০৫.২০১৮খ্রিঃ ধারা-৩০৪-ক, ৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন যে, কেএসআরএম এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিবাদী মোহাম্মদ শাহজাহান এবং তার বিভিন্ন পদের অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের ইচ্ছাকৃত অবহেলা, অব্যবস্থাপনা এবং তাচ্ছিল্যপূর্ণ আয়োজনের কারনেই ১৪.০৫.২০১৮খ্রিঃ তারিখ সকাল ০৮.৩০ মিনিট হতে ১০.০০ টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে উক্ত মাঠে ঠাসাঠাসি, প্রচন্ড গরম অবস্থার মধ্যে বিতরন সামগ্রী আগে নেওয়ার ইচ্ছায় সেখানে ঠেলা-ধাক্কার ঘটনা ঘটে।

এতে তার স্ত্রী হাসিনা আক্তারসহ ১) রিনা বেগম (৩০) স্বামী-মোঃ হাসান পিতা-মৃত কমল মিয়া সাং-দক্ষিণ ঢেমশা (মজিদ কোম্পানীর বাড়ী) থানা-সাতকানিয়া ২) বুলু আক্তার  (৩৫) স্বামী-বেলাল উদ্দিন মাতা-কুলচুমা খাতুন সাং-দক্ষিণ পুঁটিবিলা (আশ্রয়ন প্রকল্প, উম্মে হাবিবার বর বাড়ী) থানা-লোহাগাড়া ৩) টুনটুনি বেগম (১৫) পিতা-আব্দুস সালাম মাতা-কোরবানী বেগম সাং-উত্তর কলাউজান থানা-লোহাগাড়া ৪) রশিদা আক্তার (৫০) পিতা-আহমদ শফি স্বামী-নুর হোসেন সাং-খাগরিয়া (রসুলপুর)

২নং ওয়ার্ড থানা-সাতকানিয়া ৫) জোসনা বেগম (২৫) পিতা-শামসুল আলম স্বামী-আব্দুল হাফেজ সাং-রবারট্রাম (রসুলাবাদ) থানা-লোহাগাড়া ৬) নুরজাহান (১৮) পিতা-মোঃ আলাউদ্দিন স্বামী-শফি আলম সাং-উত্তর কলাউজান থানা-লোহাগাড়া ৭) আনোয়ারা বেগম (৬০) স্বামী-নুরুল ইসলাম সাং-পূর্ব দোহাজারী থানা-চন্দনাইশ ৮) সাকি (২২) পিতা-মোবারক হোসেন স্বামী-আবুল কালাম মিন্টু সাং-উত্তর ঢেমশা মাইজপাড়া থানা-সাতকানিয়া, সর্বজেলা-চট্টগ্রামদের নির্মম মৃত্যু ঘটে।

একই ঘটনায় আরো ২০/২৫ জন বিভিন্ন বয়সী অসহায় মহিলা অসুস্থ্য/আহত হয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাতকানিয়া উপজেলা হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে।