বিএনপি হেরেছে স্বাধীনতাবিরোধী ও ‘পালক নেতা’দের কারণে-
শফিক রহমান : স্বাধীনতাবিরোধী এবং ‘পালক নেতা’দের সঙ্গে হাত মেলানোর চরম খেসারত দিলো বিএনপি। এবার বিএনপির নিজেদের যে ভোট ছিল সেটাও তারা হারিয়েছে। ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের প্রতি। কিন্তু কেন? ঢাকার লালবাগ আমলিগোলা এলাকার ভোটার মুশফিক হাসান জাতিরকন্ঠকে জানালেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে স্বাধীনতাবিরোধীরা রাজনৈতিক অঙ্গণ থেকে সর্বত্র কোনঠাসা হয়ে পড়ে। বিষয়টি সবাই উপলব্ধি করলেও বিএনপি সেপথে হাটেনি। এর ফল তারা পেয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে হাত মেলানো ঐক্যফ্রন্টকেও ভালভাবে নেয়নি এবারের তরুণ ভোটাররা।এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল জাতিরকন্ঠকে জানালেন, দেখুন রাজনীতিতে যারা ক্ষমতালোভী তাদের এবার তরুণ সমাজ পছন্দ করেনি। তিনি উদাহরণ দিয়ে জানালেন, দেখুন ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষমতার ভাগ আগেই দাবি করেছিল। মান্না বলেছিলেন,
নির্বাচিত হলে তাদের প্রথম তিন বছর ক্ষমতায় থাকতে দিতে হবে। অন্যদিকে ড. কামাল তো বলেছিলেন বিএনপি জামায়াত এর সঙ্গ না ছাড়লে তারা ঐক্য করবেন না। কিন্তু দেখা গেল বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ না ছাড়লেও ড. কামাল বিএনপির সঙ্গ ছাড়েনি। ফলে ড. কামালের মতো এসব পালক নেতাদের কারণে বিএনপি তাদের নিজেদের ভোটটাও হারিয়েছে।এজন্য বিএনপি’র মাঠ পর্যায়ের নেতারা চরম হতাশ। নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিরোধীদল বিএনপি’র তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে হতাশা এবং অনিশ্চয়তা’ও তৈরি হয়েছে। অনেতে দল ত্যাগ করার চিন্তাও করছেন।
বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অনেকে জাতিরকন্ঠ কে নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, সরকার কারচুপির করেছে কিন্তু বিএনপি ভোটারদের কাছে তাদের স্বচ্ছতা দেখাতে পারেনি।এমনকি ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রয়োজনীতা বোঝাতে সক্ষম হননি। ভোটাররা এবার আওয়ামী লীগের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাছাড়া বিএনপিতে আসা পালক নেতারাও দলের ক্ষতি করেছে। তবে দলটির সিনিয়র নেতাদের অনেকে বলেছেন, তাদের হতাশা কাটাতে এখন দল গোছানোর বিষয়ে বেশি নজর দেবেন।
দেখা গেছে, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া জেলে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। দলটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে এই নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তৃণমুলের নেতাকর্মিরা তাদের জন্য একটা অনুকুল পরিস্থিতির স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তাতে গুড়েবালি ঘটেছে।শেষপর্যন্ত ফলাফল বিপর্যয়কে তারা এখন দলের জন্য বড় সংকট হিসেবে দেখছেন।
দক্ষিণ পশ্চিমের জেলা যশোরে বিএনপির ভাল অবস্থান ছিল। সেখান থেকে দলটির একজন নেতা মকবুল হোসেন বলছিলেন, এবার তাদের মাঝে অনিশ্চয়তা বেশি কাজ করছে।”আমরা আশা করেছিলাম, এই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসুক আর না আসুক, অন্তত প্রধান বিরোধীদল হিসেবে থাকবে। এবং গণতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করতে পারবো। কিন্তু যেহেতু সম্মানজনক আসন পায় নাই। সেকারণে তৃণমুলে দীর্ঘমেয়াদী বিরোধীদল বা সংগ্রাম করার ক্ষেত্রে কর্মিদের মাঝে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এটা সংগঠনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বা সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
একযুগ ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এই পুরো সময়টায় দলটিকে বিপর্যয়ের মধ্যে থেকে চলতে হয়েছে।সর্বশেষ খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার বিষয়টি দলটিকে বড় সংকটে ফেলেছিল।তৃণমুলের নেতাকর্মিরা এসব পরিস্থিতির শিকার বেশি হয়েছেন বলে তারা মনে করেন। তাদের একটা বড় অংশ মামলার কারণে এলাকার বাইরেই পালিয়ে থেকেছেন। সেখানে আরও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা থেকে বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, এখনকার বিপর্যয়কে তারা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখছেন।



