• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

বাড়ল বাস ভাড়া-এবার ভাড়া টাঙ্গানো জরুরী


প্রকাশিত: ৮:১৩ পিএম, ৭ নভেম্বর ২১ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০৩ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : অবশেষে বাড়ল বাসভাড়া। ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়লেও প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ২৭ শতাংশ নির্ধারন করা হয়েছে। এতে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ৮০ পয়সা হচ্ছে। অন্যদিকে মহানগরীতে বিভিন্ন রুটের বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সার থেকে বেড়ে হচ্ছে ২ টাকা ১৫ পয়সা। মিনিবাসের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হচ্ছে ২ টাকা ৫ পয়সা।

এ অবস্থায় বাস ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য রোধে বেশ কিছ কার্যকর ব্যবস্তা নেয়া উচিত বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এরমধ্যে বাস ভাড়ার বর্ধিত হার কোথা থেকে কত তা প্রতিটি বাসে বড় করে টানিয়ে রাখার বিধান করা জরুরী। তা না হলে সংশ্লিষ্ঠরা ইচ্ছেমত ভাড়া হাতিয়ে নিতে পারেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। বাস ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কমিটি থাকলেও কোনো মনিটরিং না থাকায় প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ সঙ্গি বাসযাত্রীদের। কোন বাস সিএনজি কোন বাস ডিজেলে চলছে তাও বাসের সামনে লিখে রাখা উচিত। এতে বোঝা যাবে এই বাসের ভাড়া ডিজেলের না সিএনজির। এজন্য মনিটরিং খুবই জরুরী।

যাহোক, ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়লেও প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে ধর্মঘটের মুখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ এবং বাস মালিকদের দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সারা দেশে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ৮০ পয়সা হচ্ছে। আর মহানগরীতে বিভিন্ন রুটের বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সার থেকে বেড়ে হচ্ছে ২ টাকা ১৫ পয়সা। মিনিবাসের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হচ্ছে ২ টাকা ৫ পয়সা।

ঢাকায় ৯৫ শতাংশ বাস ভাড়া বাড়বে না

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পরিবহন মালিকদের দাবির মুখে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তবে যেসব গাড়ি সিএনজি চালিত সেসব বাসের ভাড়া বাড়বে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার। রবিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে গণপরিবহনে ভাড়া পুনর্নির্ধারণে পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যদি সিএনজি চালিত বাসের ভাড়া বাড়ানো না হয় তবে ঢাকা শহরের প্রায় ৯৫ শতাংশ বাস ভাড়া বাড়ানো যাবে না। কারণ তথ্য অনুযায়ী রাজধানীতে ১২ হাজার ৫২৬টি বাসের মধ্যে ১১ হাজার ৯০০টি বাসই চলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে।

এছাড়া ঢাকা থেকে দূরপাল্লার ১৬ হাজার বাসের মধ্যে ১১ হাজার ২০০ বাস গ্যাসে চলে। বাকি ৪ হাজার ৮০০ চলে ডিজেলে। অর্থাৎ দূরপাল্লার ৭০ শতাংশ বাস গ্যাসে চলাচল করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যদি সিএনজি চালিত বাসের ভাড়া বাড়ানো না হয় তাহলে রাজধানীতে ৯৫ শতাংশ ও দূরপাল্লার ৭০ শতাংশ বাস ভাড়া বাড়ানো যাবে না।এদিকে নতুন সমন্বিত ভাড়া অনুযায়ী, দূরপাল্লার বর্তমান বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ কিলোমিটার প্রতি যাত্রীকে বাড়তি ৩৮ পয়সা গুনতে হবে। এছাড়া বড় বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা, মিনিবাসে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া মহানগরে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা, সেটা ২ টাকা ১৫ পয়সা করা হয়েছে। কিলোমিটারে ভাড়া বেড়েছে ৪৫ পয়সা। মহানগরে মিনিবাসের বর্তমান ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৬০ পয়সা। সেটি বাড়িয়ে ২ টাকা ৫ পয়সা করা হয়েছে। কিলোমিটার প্রতি ৪৫ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।ডিজেল-কেরোসিনের দাম বাড়ানোর পরদিন থেকেই পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করে শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করে বাস, ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহনের মালিকেরা।

এতে সারাদেশে মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ধর্মঘট অনির্দিষ্টকালের হওয়ায় দুর্ভোগ কবে শেষ হবে, এ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ে মানুষ।তবে তেলের দাম বাড়ানোর পর শুরু থেকেই পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টরা বলছিলেন, ডিজেলের দাম না কমানো হলে গণপরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহনে ভাড়া সমন্বয় করতে হবে। এনিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিআরটিএকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।