• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ৭মার্চে বদলাচ্ছে শিশুপার্ক


প্রকাশিত: ২:৩৭ পিএম, ২১ মার্চ ১৮ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২২৭ বার

 

 

 

Bangabandhu-shisupark-www.jatirkhantha.com.bdএস রহমান  :  এবার শিশুরা আরো ভালভাবে জানবে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার জয়গান বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনকে। এজন্য শিশু পার্কে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের বিশেষ ম্যুরাল। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের স্থান ছিল ঢাকা শিশু পার্কে। দেশের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্থানটি নিশ্চিহ্ন করতে সেখানে ঢাকা শিশু পাকর্কে ‘শহীদ জিয়া শিশুপার্ক’ নামকরন করেছিল।

কিন্তু ইতিহাস বরই নির্মম। তাই ফের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের স্থান নির্ধারন করা হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত ‘শহীদ জিয়া শিশুপার্ক’ এর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম ‘শিশু পার্ক’ রাখা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পুরাতন নামফলক সরিয়ে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক। বুধবার সচিবালয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী বলেন, শিশু পার্কের নাম আমরা পরিবর্তন করেছি। অনেকে হয়তো এটা জানেন না। ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য আমরা নতুনভাবে (শিশু পার্ক) যখন করব সেটির (নতুন নামের) প্রতিফলন হবে। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে শিশু পার্কের গেটটি ভেঙে ফেলা হবে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্থান নির্ধারণ এবং ইন্দিরা মঞ্চ নামে একটি ম্যুরাল নির্মাণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, শাহবাগে অবস্থিত পুরানো জরাজীর্ণ এই শিশু পার্কটি নতুন করে নির্মাণ করা হবে। শিশুদের জন্য অত্যাধুনিক রাইড বসানো হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাচাই স্থগিত আছে। নতুন করে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে কমিটি গঠন করে  প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করবে সরকার। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কারের কোনো চিন্তা ভাবনা নেই।

7 march-www.jatirkhantha.com.bdজানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দাঁড়িয়ে সেই অগি্নঝরা ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানেই পরাজয় মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তাানি হানাদার বাহিনী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঐতিহাসিক এই ময়দানের ১৫ একর জায়গা নিয়ে নির্মাণ করা হয় শিশুপার্ক। পার্কের সীমানার মধ্যেই রয়েছে ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের স্থান দুটি। অথচ শিশুপার্ক নির্মাণের সময় বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এই দুটি স্থান বিশেষভাবে চিহ্নিতই করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে এ দুটি স্থানে দুটি ফলক বসানো হলেও তা ছিল চোখের আড়ালেই।

অবশেষে বর্তমান সরকার ৭ মার্চের ভাষণ ও হানাদারের আত্মসমর্পণের স্থান চিহ্নিত করে নতুন করে শিশুপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে স্থান দুটি। সেই সঙ্গে শিশুপার্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের সঙ্গে। চলতি মাসেই প্রকল্পটির তৃতীয়
পর্যায়ের নির্মাণ কাজের ডিপিডি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালে স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হয়। এরপর থেকেই তৃতীয় পর্যায়ের কাজ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আওতায় এরই মধ্যে ৭ মার্চের ভাষণ ও আত্মসমর্পণের স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে তৃতীয় পর্যায়ের কাজের একটি নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসেই তৃতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। এ বছরের জুনেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ২০১৮ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে আশা করছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এ বছর জুনের মধ্যে স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। আশা করছি, দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এর আওতায় শিশুপার্ক ভেঙে আধুনিক করে গড়ে তোলা হবে। পার্কের বর্তমান রাইড পুরনো হয়ে গেছে, তাই নতুন ও আধুনিক রাইড কেনা হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। কিন্তু জিয়াউর রহমান সেসব স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য সেখানে পরিকল্পিতভাবে শিশুপার্ক নির্মাণ করেন।

বর্তমান সরকার শিশুপার্কটি ভাঙবে না, তবে সেটাকে সময়োপযোগী করে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে।’ এর মধ্য দিয়ে পার্কটির প্রতি শিশুদের আকর্ষণও বাড়বে বলে মনে করেন মন্ত্রী মোজাম্মেল হক।শাহবাগে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে শিশুপার্ক নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৩ সালে ‘শহীদ জিয়া শিশুপার্ক’ নামে এটি উন্মুক্ত হয়। পার্কে বর্তমানে ১২টি রাইড রয়েছে। যদিও এর অধিকাংশই ভাঙাচোরা এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তদারকির আওতায় থাকা এই পার্কের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে শিশুরা।

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘শিশুপার্কের বেশিরভাগ রাইড পুরনো হয়ে গেছে। সেগুলো বাদ দিয়ে নতুন রাইড আনার পরিকল্পনা হয়েছে। একই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় শিশুপার্কে আগত শিশুরাও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ধারণা পাবে। স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কাজের মুখ্য স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও শিশুপার্ক একীভূত করতে একটি সেতু তৈরি করা হবে। সেতুর দু’পাশে থাকবে জলাধার। এরই এক পাশে ৭ মার্চের ভাষণের স্থান কেন্দ্র করে বিশেষ স্থাপনা তৈরি হবে। যদিও স্থাপনাটি কী ধরনের হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী জুনের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সৌন্দর্যবর্ধন এবং শিশুপার্কে ৭ মার্চ ও আত্মসমর্পণের রেপ্লিকার স্থাপনা তৈরি করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অন্য দিকে শিশুপার্কের ভেতরের কাজ করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের অধীনে শিশুপার্কের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায়ও নির্মাণ করা হবে।স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কাজের প্রকল্প পরিচালক মিজান-উল-আলম বলেন, এ পর্যায়ে নির্মাণে নান্দনিকতা গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ চলছে।শিশুপার্কটিকে উদ্যানের সঙ্গে এমনভাবে একীভূত করা হবে যেন পার্কে বেড়াতে আসা শিশুরা সহজেই মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ধারণা পায়।
প্রকল্প পরিচালক মিজান আরও জানান, নান্দনিকতার প্রয়োজনে উদ্যানে অপরিকল্পিতভাবে লাগানো গাছ কেটে ফেলা হতে পারে। সেই সঙ্গে স্তম্ভের গ্গ্নাস টাওয়ার, মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল, শিখা চিরন্তন যেন উদ্যানের সব জায়গা থেকে দেখা যায়_ এমন চিন্তা থেকেই নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।