• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে’ আস্কারায়’ সরকারের মুখোমুখি হেফাজত


প্রকাশিত: ৯:৩১ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩৯৭ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এখন সরকারের মুখোমুখি অবস্থানে। হেফাজত বলছে ‘ভাস্কর্য’ শিরকের প্রতীক । তাই তারা মূর্তির বিরুদ্ধে কথা বলছে। ইতিমধ্যে ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।

এরও আগে হেফাজতে ইসলামের দাবির মুখে ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে এই জাস্টিস লেডির ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।সেই আস্কারা’ই কি ফের কাল হল? এ প্রশ্ন নানা মহল ও রাজনীতিকদের। ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে সরকার ‘আশকারা’ দেওয়ায় তারা এখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যও অপসারণের দাবি তোলার সাহস দেখাচ্ছে বলে প্রতিক্রিয়া এসেছে আওয়ামী লীগেরই জোটসঙ্গী দলের কাছ থেকে।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক ওই দাবি তোলার পর আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

তবে দলটির যুগ্ম সাধারণ সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ইসলামী দলটির ওই নেতার বক্তব্যকে ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, এর জবাব জনগণই দেবে।
রাজধানীর ধোলাইরপাড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে সে কাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি তুলেছেন মামুনুল হক।

শুক্রবার ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ধোলাইখালে (ধোলাইরপাড়ে) বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে গাদ্দারি করার শামিল। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে তারা বঙ্গবন্ধুর সু-সন্তান হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান একজন মুসলিম হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার মূর্তি তৈরি করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থাপন, এটা বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে বেইমানি করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বারবার দেখতে পাচ্ছি, এই মসজিদের শহরের গৌরবময় পরিচয়কে মুছে দিয়ে এটাকে মূর্তির শহরে পরিণত করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। এ দেশের তৌহিদী জনতা আবার শাপলা চত্বরে যাবে।” আওয়ামী লীগের জোট সঙ্গী দল জাসদ এক বিবৃতিতে বলেছে, “সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্য স্থানান্তরিত করার মধ্য দিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীদের আশকারা দেওয়ার ফলেই আজ এই অপশক্তি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করার দুঃসাহস দেখাতে পারছে।”এই ধরনের দলগুলোকে আর এক চুলও ছাড় না দিতে আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, “আর এক চুল ছাড় না দিয়ে পাকিস্তানপন্থি ধর্ম ব্যবসায়ী, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী জঙ্গিবাদী ভাস্কর্য বিরোধীদের কঠোরভাবে দমন করার জন্য সরকারের প্রতি এবং এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানাই।”জাসদ বলছে, ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে অবস্থান আসলে বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিরুদ্ধেই অবস্থান এবং যারা এই দাবি তুলেছে, তারা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চায়।

যাহোক, শুক্রবার মামুনুল তার ফেসবুক লিখেছেন, আমি যখন জুলুমের শিকার, এক মজলুমের পক্ষে দাঁড়াতে হাজারো তৌহিদী জনতা রাজপথে নেমেছে৷ তাদের এ বিক্ষোভ ছিল তাওহিদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ৷ ছিল একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা ও শিরকের প্রতীকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানানোর কর্মসূচি৷ওদিকে শুক্রবার ২৭ নভেম্বর আরো একধাপ এগিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, যদি কোথাও কোনো ভাস্কর্য হয়, যে দলই করুক, সেটি যদি আমারও হয়, আমি টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেব।

এর আগে বাদানুবাদে পুলিশে হাতে গ্রেপ্তারকৃতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। আজ শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি স্ট্যাটাস দিয়ে একথা জানান।হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক আজ শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে একথা জানান।

তিনি বলেন, ‘শিরকের প্রতীক মূর্তির বিরুদ্ধে কথা বলায় আমি যখন জুলুমের শিকার, এক মজলুমের পক্ষে দাঁড়াতে হাজারো তৌহিদী জনতা রাজপথে নেমেছে৷ তাদের এ বিক্ষোভ ছিল তাওহিদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ৷ ছিল একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা ও শিরকের প্রতীকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানানোর কর্মসূচি৷ এই সাহসী জনতাকে স্বশ্রদ্ধ সালাম! তাদের উপর নির্মম লাঠিচার্জ ও নির্যাতনের দৃশ্য জাতি দেখেছে৷ বিক্ষোভকারী প্রায় অর্ধশত তৌহিদী জনতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মুক্তি না দিলে বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে৷ এক জুলুমের প্রতিবাদে হাজার মানুষের বিক্ষোভ হলে পরবর্তী জুলুমের প্রতিবাদে লক্ষ জনতার বাঁধভাঙা বিক্ষোভ নেমে আসবে রাজপথে এটাই স্বাভাবিক৷ দায়িত্বশীল মহলের যথাযথ পদক্ষেপের প্রতীক্ষায় রইলাম৷’

অপরদিকে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের হুমকিদাতা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের প্রবেশ মুখে দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আজ সকাল থেকে তারা বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে সড়কের ওপর অবস্থান নেন। এ সময় তারা মামুনুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ওদিকে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, যদি কোথাও কোনো ভাস্কর্য হয়, যে দলই করুক, সেটি যদি আমারও হয়, আমি টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেব।আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, মদিনা সনদে দেশ চলবে। আমরাও তাই চাই। কিন্তু, মদিনা সনদে তো ভাস্কর্যের কোনো উল্লেখ নেই।’এরপর রাত পৌনে ৮টার দিকে জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্য শেষ হলে কোরআন মাহফিল সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।