বঙ্গবন্ধুর খুনী নূরচৌধুরীকে ধরার পালা-
বিশেষ প্রতিনিধি: খুনী নূরচৌধুরীকে ফেরাতে নানা তদবির চলছে। এবার কানাডার আদালত দিয়ে তাকে ধরার চেষ্ঠা চলছে জোরালো ভাবে। বঙ্গবন্ধুর খুনী পলাতক মেজর (অব.) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরীকে ফেরত আনার বিষয়ে কানাডার ফেডারেল কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। যেমন কানাডাসহ বেশ কিছু পশ্চিমা দেশ মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে।
বিশেষত কানাডার আইনে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণেই কানাডার ফেডারেল কোর্ট কর্তৃক নূর চৌধুরীর ‘রিফিউজি স্ট্যাটাস’-এর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন আদেশ জারি হয়েছে।এরপরও নানা ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ওদিকে বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় জড়িত পলাতক ছয় খুনির মধ্যে দুজনের অবস্থান জানা গেলেও অন্য চারজন কোথায় আছে সে ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত নয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। তিন খুনির বিষয়ে কিছুটা ধারণা থাকলেও চতুর্থজন রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের হদিসই পাওয়া যায়নি। আর যাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে তাদের ফেরানোর চেষ্ঠা তদবির চলছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে সামরিক বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। একই বছরের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাংলাদেশে থেকে থাইল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরিও দেয় তৎকালীন সরকার। খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দিতে জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে খুনিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার পথ উন্মুক্ত করে। বিচার শেষে ১২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১২ জন আসামির মধ্যে পাঁচজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়।ওই পাঁচজন হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, মেজর (অব.) শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যানসার), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি) ও মেজর (অব.) বজলুল হুদা। অন্য এক আসামি মেজর (অব.) মো. আবদুল আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।
অন্য ছয় খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা হলেন লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন খান। গ্রেফতার ও প্রত্যার্পণ ঠেকাতে এই খুনিরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পাকিস্তান, লিবিয়া ও আফ্রিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বারবার অবস্থান বদল করছেন।
গত ১১ জুলাই জাতীয় সংসদে প্রশ্ন-উত্তর পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, দণ্ড পাওয়া পলাতক ছয় আসামি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশে পালিয়ে আছে। এদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় ও রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অন্য পলাতক আসামিদের মধ্যে খন্দকার আবদুর রশিদ পাকিস্তানে, শরিফুল হক ডালিম লিবিয়া অথবা জিম্বাবুয়ে ও আব্দুল মাজেদ সেনেগালে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়। রিসালদার (অব.) মোসলেহ উদ্দিন জার্মানিতে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হলেও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।পলাতক এসব খুনির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কূটনৈতিকসহ সব ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।



