প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে ছুরিকাঘাতকারী আশ্রয়ণ লুটেরাদের ধরতে নামল পিএম টিম

বিশেষ প্রতিনিধি : অবশেষে জাতিরকন্ঠ’র রিপোর্টের পর ”প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে ছুরিকাঘাতকারী আশ্রয়ণে লুটেরাদের-” ধরতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ৫টি টিম নামছে তদন্তে। আজ শুক্রবার থেকেমাঠে নামবে সব টিম। বৃহস্পতিবার জাতিরকন্ঠে প্রকাশিত হয়েছিল-” প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে ছুরিকাঘাতকারী আশ্রয়ণে লুটেরাদের বহিস্কার করুণ-”। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের গরীব গৃহহীন মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে দেশনেত্রী শেখ হাসিনা ”আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” এই শীরনামেই প্রকল্পটি ছিল। কিন্তু চোরে শোনেনা ধর্মের কাহিনী তাই-লুটপাট করে ইউএনও ও চেয়ারম্যানরা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে ছুরিকাঘাত করে বসেছিল আর মজা মারছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হলোনা বর্ষার কারণে-। কারণ বর্ষার পানির টানে ইতিমধ্যে আশ্রয়নের অনেক ঘর বাড়ির বারান্দা, টয়লেট, কোথাও বা রান্নাঘর মাটিতে দেবে উল্টে গেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তরের কয়েকদিন পর এবং কিছু কিছু ঘর হস্তান্তরের আগেই ভেঙে পড়েছে। এসব ঘর নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তৈরি হওয়ায় ভেঙে পড়ছে বলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এই অনিয়ম ও সমালোচনাকে সামনে রেখে কঠোর লকডাউনের মধ্যেই সারাদেশে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে মাঠে নামছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঁচটি টিম।
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮০ জন ভূমিহীনকে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম বিভিন্ন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তবে ইতোমধ্যে অনিয়মের দায়ে পাঁচ কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। আরও কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পরিদর্শনের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাকে ভাগ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (০৯ জুলাই) ৫টি টিম ঘরগুলো পরিদর্শনে মাঠে নামবে। পরিদর্শনকারী টিমগুলোকে নির্মিত এবং নির্মাণাধীন বাড়িগুলোর নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান, অনুমোদিত ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উচ্চ পর্যায়ের পাঁচটি টিমের একটিতে নেতৃত্ব দেবেন আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রতিটি কেসই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন জড়িত। এজন্যই এরকম একটি মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিদর্শনে নামছি। তিনি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় মানবিক প্রকল্প। এ প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে আমাদের অবস্থান শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স। ইতোমধ্যে যেসব জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে সেসব জায়গায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। পরিদর্শন শেষে আরও কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের অনেক জায়গায় অতিবৃষ্টি, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা সেসব জায়গায় পুনরায় বাড়ি নির্মাণ অথবা সংস্কার করে দিচ্ছি। তবে প্রধানমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্টকে বিতর্কিত করতে একটি সংঘবদ্ধ মহল অপপ্রচারে লিপ্ত আছে, যা কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওপর আস্থা রাখুন। ভূমিহীন-গৃহহীন সবাইকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনিয়মে জড়িত ১৮০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রয়েছেন। ইতোমধ্যে দুইজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। ওএসডি করা হয়েছে পাঁচজনকে।



