প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে ছুরিকাঘাতকারী আশ্রয়ণে লুটেরাদের বহিস্কার করুণ-

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের আশ্রয়ন প্রকল্পে লুটপাট করে প্রমোশন নিলেও তদন্তে ধরা পড়েছে ওরা। ইতিমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের জন্য পাঁচ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। কিন্তু এতেই এদের শেষ রক্ষা উচিত নয়। এদের চাকরী থেকেই বহিস্কার করা উচিত। কারণ এরা দেশের কলংক। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নকারী দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে ছুরিকাঘাত করেছে এরা। ‘আশ্রয়ণ’ হচ্ছে গৃহহীন পরিবারদের জন্য পুনর্বাসনের প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল, অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন করা; ঋণ প্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা। প্রথম পর্যায় শেষে এখন এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় চলছে।
ওদের লুটপাটে সংশ্লিষ্ঠতা ও দুর্নীতিতে গরীব মানুষের স্বপ্নের আবাসনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক আশ্রয়ন প্রকল্পের লাল নীল টিনের বাড়ি গুলির মাটি দেবে ঘর কাৎ হয়ে গেছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে আশ্রয়নে এন্তার দুর্নীতি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে ধরা পড়বে অনেক রাঘববোয়াল।আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের জন্য পাঁচ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। গত ৪ ও ৫ জুলাই এই পাঁচ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়। ওএসডি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত উপ-সচিব মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের সাবেক ইউএনও। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।
এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত হাসান শিপলুকে ওএসডি করা হয়েছে। তিনি মুন্সীগঞ্জ সদরের সাবেক ইউএনও ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. লিয়াকত আলী সেখও ওএসডি হয়েছেন। তিনি বগুড়ার শেরপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে ছিলেন।এছাড়া বরগুনার আমতলীর ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান এবং মুন্সীগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মেজবাহ-উল-সাবেরিনকে ওএসডি করা হয়েছে।
এই পাঁচ কর্মকর্তা ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মে জড়িয়েছিলেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮০ জন ভূমিহীনকে দুই কক্ষের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় এই ঘর ভেঙে পড়েছে। ঘর নির্মাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।



