প্রধানমন্ত্রীর নয়া মুখ্য সচিব হিসেবে ড.কায়কাউস যোগ্যতার পদোন্নতি
শফিক রহমান : অবশেষে প্রশাসনের চৌকস কর্মকর্তা ১৯৮৪ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডার দেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও লোডশেডিং বন্ধের অন্যতম কারিগর ড. আহমদ কায়কাউস এর যোগ্য মূল্যায়ন করলেন বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নেয়া রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর নতুন মুখ্য সচিব হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ড. আহমদ কায়কাউসকে বদলি করে এই আদেশ জারি করেছে। আদেশে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউসকে প্রধানমন্ত্রীর নতুন মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।ওদিকে একই দিনে পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানকে অবসর দেয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর তার বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী তাকে অবসর দেয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। ১৯৮৪ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ড. আহমদ কায়কাউস ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হন। ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি সচিব পদে পদোন্নতি পান। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডঃ আহমদ কায়কাউস বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে সেক্রেটারি ইন-ইনচার্জ হিসাবে যোগদান করেন এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে তিনি সেক্রেটারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাওয়ার ডিভিশনে যোগদানের আগে ডঃ আহমদ আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইএফপিআরআই) পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্রাটেজি সাপোর্ট প্রোগ্রামের (পিআরএসএসপি) ডেপুটি চিফ অফ পার্টি হিসাবে তিন বছর কাজ করেছিলেন, যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি দ্বারা অর্থায়িত ছিল।
‘প্রতিটি গ্রাম হবে বাংলাদেশের শহর’ এমন দৃষ্ঠিভঙ্গি ছিল তাঁর সিভিল সার্ভিস কেরিয়ারে। তিনি গ্রামীণ ও শহর উভয় অঞ্চল সমান দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। গবেষণামূলক পটভূমি থেকে তিনি উন্নয়নের নীতি দৃষ্টিকোণ ঠিক করতেন। আর এটা সফল হয়েছে ড. কায়কাউস এর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস, উইলিয়ামস কলেজ, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স থেকে ডেভলপমেন্ট ইকোনমিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের কারণে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক পলিসি এবং পলিটিকাল ইকোনমিতে পিএইচডি করেছেন।
তাঁর গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রশাসন, দারিদ্র্য, উন্নয়ন, শ্রমবাজার, মাইগ্রেশন ইত্যাদির মতো আন্তঃশৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয় রয়েছে। ডঃ আহমদ আইএফপিআরআইয়ের জন্য গবেষণা পত্র এবং জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য জার্নাল নিবন্ধগুলির একটি ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কাঠামোগত রূপান্তর সম্পর্কিত ওয়ার্ল্ড ডেভলপমেন্ট জার্নালে। জরিপের জন্য প্রশ্নমালা এবং নমুনা ফ্রেম বিকাশ করার বিষয়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে । পাশাপাশি তিনি ক্লাস্টার ভিত্তিক অর্থনৈতিক রূপান্তর, ফিশ ভ্যালু চেইন, গ্রামীণ ননফর্ম অর্থনীতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জনসাধারণের ব্যয় নিয়েও গবেষণা করছেন।
ড. আহমদ কায়কাউস ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রশাসনিক ক্যাডারে যোগদান করেন। তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরের যেমন সহকারী কমিশনার, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি আবাসন অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি সংস্থায় ডেপুটেশনেও কাজ করেছিলেন। এছাড়াও ডঃ আহমদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অতিরিক্ত সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বাংলাদেশ শক্তি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (ইপিআরসি) চেয়ারম্যান ছিলেন। কায়কাউস আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কলিন কাউন্টি কমিউনিটি কলেজ এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে, খণ্ডকালীন অনুষদ হিসাবেও কাজ করেছেন। তিনি নিয়মিত পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস একাডেমি, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি বক্তা হিসাবে উপস্থিত হন।



