• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

প্রতারণায় পিএইচডি করোনা জালিয়াত রিজেন্ট সাহেদের গোমর-ফাঁস


প্রকাশিত: ৯:৫১ পিএম, ১৫ জুলাই ২০ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৩৬ বার

বিশেষ প্রতিনিধি: করোনা জালিয়াত মহাপ্রতারক রিজেন্ট সাহেদ অবশেষে ধরা পড়ে একের পর এক গোমর ফাঁস হচ্ছে।করোনার নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের মামলায় গ্রেফতার মো. সাহেদের কাছে ‘অনেক তথ্য’ পেয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এক কথায় প্রতারণায় পিএইচডি রিজেন্ট সাহেদ গ্রেফতারের আগে কেই জানতো না সে ভুয়া লাইসেন্স’ও দিতেন। সাহেদ পাথর ও বালু ব্যবসায়ীসহ রিকশাচালকদেরও ভুয়া লাইসেন্স দিতেন।
উত্তরায় শাহেদের জাল টাকা ব্যবসাও ছিল।

ভুয়া লাইসেন্স দিত সাহেদ- র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদ গ্রেপ্তার এড়াতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় একেক দিন একেক জায়গায় অবস্থান করতেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে সাহেদ ঢাকা, কুমিল্লা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় একেক দিন একেক জায়গায় অবস্থান করতেন। সর্বশেষ বুধবার ভোরে দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। কোমরপুর সীমান্ত দিয়ে নৌকায় করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তিনি জিন্সের প্যান্ট ও নীল রঙের শার্টের ওপর কালো রঙের বোরকা পরে ছিলেন। পরে সাতক্ষীরা থেকে সাহেদকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়। র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, সাহেদ পাথর ও বালু ব্যবসায়ীদের ভুয়া লাইসেন্স দিতেন। এমনকি রিকশাচালকদেরও ভুয়া লাইসেন্স দিতেন।

উত্তরায় শাহেদের জাল টাকা ব্যবসা- বুধবার সাহেদকে গ্রেপ্তারে পর তাকে নিয়ে তার উত্তরার একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয় বলে জানান র‌্যাব ডিজি।

করোনার ৬হাজার ভুয়া রিপোর্ট– র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, সে (সাহেদ) করোনা পরীক্ষার রিপোর্টের নামে প্রতারণা করছিল। এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের অধিক করোনা পরীক্ষা করে ৬ হাজার ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে সাহেদের প্রতিষ্ঠান।তিনি বলেন, বিনামূল্যে পরীক্ষা করার কথা থাকলেও ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা করে নেয়া হতো এবং পুনরায় পরীক্ষার জন্য ১০০০ গ্রহণ করতো। আইসিইউতে ভর্তি করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতো। একদিকে রোগীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, আরেক দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিলও জমা দিয়েছে সাহেদের হাসপাতাল রিজেন্ট।র‌্যাব ডিজি বলেন, সাহেদ করিম নিজেকে যতোই ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করুক না কেন, সে মূলত চতুর ধুরন্ধর, অর্থলিপ্সু। তার বিরুদ্ধে অনেক মামলার বিষয়ে জানা গেছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

ভুয়া আইনজীবী সাহেদের ‘ল-চেম্বার’ ভুয়া আইনজীবী সাহেদের ‘ল-চেম্বার’ছিল উত্তরায়।রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম আইনজীবী না হলেও রাজধানীর উত্তরায় ছিল তার ‘ল-চেম্বার’। বুধবার সকালে তাকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বর ভবন সিএইচএল বায়তুল এহসানের ওই গোপন চেম্বারে অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। পরে সাহেদকে আবারও নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরায় র‌্যাব সদর দপ্তরে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ ঘটনাস্থলে বলেন, ‘এটি সাহেদের দ্বিতীয় অফিস। এ ব্যাপারে আগে জানতে পারেনি র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার এই অফিসের তথ্য পাওয়া যায়। সিএইচএল বায়তুল এহসানের চতুর্থ তলায় অভিযানের সময় ভবনটির সামনে অবস্থান নেন বিপুল সংখ্যক র‌্যাব সদস্য। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।