পূর্ব রাজাবাজারে অস্থির সময়

লাবণ্য চৌধুরী : লকডাউনে পূর্ব রাজাবাজারবাসী অস্থির সময় পার করছেন বলে জানালেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্ব রাজাবাজারে প্রবেশের আটটি গেটের মধ্যে শুধু আইবিএ হোস্টেলের পাশেরটি খোলা রয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে ওই এলাকায় অবস্থানরত সংবাদকর্মী, চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া কাউকেই প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রবেশ ও বের হওয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন পুলিশ।বুধবারের (১০ জুন) সকালটা কেটেছে নানা উত্তেজনায়। অফিসযাত্রীরা বের হতে পারেননি। অফিসের কার্ড দেখালেও পুলিশ কাউকেই বের হতে দেননি। কাঁচা বাজারের জন্য রাজাবাজারে আগে থেকেই ভিতরে ভ্যান ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এলাকাবাসীকে পুলিশ বলেছে লকডাউন শেষ হোক তারপর বের হবেন। আর এভাবেই করোনা প্রভাব কমাতে ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করলোপূর্ব রাজাবাজার এলাকাবাসী।সরেজমিনে পূর্ব রাজাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশপথে পুলিশ অবস্থান নিযে আছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন পেশার লোকজন পরিচয়পত্র নিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আসলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও বারবার অনুরোধ করেও এলাকা থেকে বের হতে পারেননি। কর্মস্থলে যেতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বাসায় ফিরে গেছেন।
এলাকাবাসীকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করতে কাউন্সিলরের নির্দেশে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি বাহিনী। সকাল থেকে তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান ‘শুভ’ নামের এক স্বেচ্ছাসেবক। তিনি আরও জানিয়েছেন, এলাকাবাসীর সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজারের ভ্যান আগে থেকেই প্রস্তুত করা ছিল। সেগুলো এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করবে।সকালে কাজে যোগ দিতে বের হন বারডেম হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট রাহিলা খানম। তিনি জাতিরকন্ঠ কে বলেন, সরকার জনসাধারণের ভালোর জন্যই কঠিন সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। যদিও এলাকাবাসীর বেশ কয়েকদিন কষ্ট হবে, তবু উচিত বিষয়টি মেনে চলা। অন্যদিকে, কাজে যোগ দিতে যেতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সায়মন সিয়াম নামে একজন। তিনি বলেন, অফিসের উদ্দেশে বের হয়েছি। কিছুতেই বের হতে দিচ্ছেন না পুলিশ সদস্যরা। এভাবে ১৪ দিন লকডাউন থাকলে হয়তো চাকরিটা নাও থাকতে পারে।
মূলত কারা কারা এই মুহূর্তে এলাকা থেকে বের হতে এবং প্রবেশ করতে পারছেন, জানতে চাইলে সেখানে কর্তব্যরত শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সনজিৎ জাতিরকন্ঠ কে বলেন, এই মুহূর্তে আমরা এই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে যারা সাংবাদিক, ডাক্তার ও নার্স শুধুমাত্র তাদের বের হতে এবং প্রবেশ করতে দিচ্ছি। এর বাইরে অন্য কোনও পেশার কাউকেই বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু, একান্ত জরুরি প্রয়োজন হলে সে ক্ষেত্রে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।তিনি বলেন, পূর্ব রাজাবাজার আপাতত ১৪ দিন লকডাউন থাকবে। তারপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না হলে ২১ দিন পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থা থাকতে পারে।



