• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

পুলিশী নিরবতায় মাদ্রাসাছাত্র তাণ্ডব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাংচুর


প্রকাশিত: ১১:১২ পিএম, ২৬ মার্চ ২১ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৩৯ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/বি-বাড়িয়া প্রতিনিধি : এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও সরকারি স্থাপনায় নির্বিচারে তাণ্ডব চালিয়েছে মাদ্রাসাছাত্ররা। শুক্রবার (২৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে যখন ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল ঠিক তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে মাদ্রাসা ছাত্রদের তান্ডব। পুরো নগরী হয়ে ওঠে বিভীষিকাময়। পুরো শহরে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ জন নিহতের খবর ছড়িয়ে বিকেলে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ তাণ্ডব চালানো হয়। জামিয়া ইউনুছিয়া ও জামিয়া সিরাজিয়া মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী জুমার নামাজের পর নেমে আসে রাস্তায়। হাতে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে।হামলাকারীরা সরকারি-বেসরকারি অফিস, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, স্বাধীনতার নানা স্থাপত্য, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ পুড়িয়ে দেয় রেলস্টেশনও। রেললাইন উপড়ে আগুন দেওয়া হয়। ফলে বিকেল চারটা থেকে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে বিক্ষুব্ধরা পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, স্কয়ারসংলগ্ন আব্দুল কুদ্দুস মাখন মুক্তমঞ্চ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, পৌর মার্কেট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় টানানো ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ছিঁড়ে অগ্নিসংযোগ করেন।এ সময় ভাঙচুর করা হয় বঙ্গবন্ধুর ছবিও। তবে পুরো সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নীরব থাকতে দেখা যায়।একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ঝটিকা হামলা চালায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। হামলাকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে রাখে তারা। এ সময় থানা সংলগ্ন দুটি সেতুতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করা হয়। হামলায় পুলিশের অন্তত ২০ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এছাড়া ছবি তুলতে গিয়ে মারধরের শিকার হন সংবাদকর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. শোয়েব আহমেদ জাতিরকন্ঠ কে জানান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। বন্ধ করেছে ট্রেন চলাচল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জাতিরকন্ঠ কে বলেন, মাদ্রাসাছাত্ররা মিছিল করে বিভিন্নস্থানে ভাঙচুর করেছে। এটিকে প্রতিরোধ করার জন্য আমরা কার্যক্রম চালিয়েছি। শহরের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।