পাবলিক গেলেনি বিএনপি’র হাকডাক!
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির আজকের (৩০ সেপ্টেম্বর ) মহাসমাবেশে তেমন শোডাউন হয়নি। নির্বাচনের আগ মূহুর্তে কথিত গনতন্ত্র রক্ষা নিয়ে বিএনপি নেতারা যেভাবে হাকডাক দিচ্ছিলেন সমাবেশে তার প্রতিফলন দেখাতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশাল লোকসমাবেশ করে বিএনপি আজকের মহাসমাবেশে ভোটের বাজার গরম করতে পারতো। কিন্তু মহাসমাবেশে যে লোক সমাবেশ হয়েছে তাতে নেতারাই হতাশ। বিকাল ৫টায় তোলা ছবিতে দেখা গেছে, মাঝ মাঠে লোক হাঁটছে।
সে হিসেবে ভোটের বাজারে বিএনপি তাদের কথা পাবলিককে গেলাতে পারেননি। অথচ বিএনপি নির্বাচনের আগে যেভাবে বাজার গরম করতে পারতো তেমনটা তৎপরতাও দেখায়নি। এ বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতাদের মতিগতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।এবার বিএনপির মহাসমাবেশে খালেদার মুক্তির চেয়ে সেলফিতে ব্যস্ত ছিল নেতারা। যদিও সমাবেশে প্রধান অতিথি খালেদা জিয়ার জন্যে চেয়ার খালি রেখেছিলেন নেতারা । কিন্তু অনেক নেতাই ছিলেন সেলফি নিয়ে ব্যস্ত। এর কারণ হিসেবে কতিপয় নেতা জানান, দল যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তবে এই সেলফিই হবে তার কাজের প্রমাণ। তখন তার কাজের স্বীকৃতি মিলবে?
ওদিকে মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে পুলিশ কয়েক বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করেছে। যাহোক খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার সহ ৭ দফা দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বিএনপি সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, দাবি আদায়ে নেতা কর্মীদের রাজপথে নামার আহবান জানান তিনি।
পাশাপাশি ৩ অক্টোবর জেলায় জেলায় ও ৪ অক্টোবর মহানগরে সমাবেশ করবে বিএনপি। নেতারা বলেন, রাজপথ দখল করতে না পারলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। চেয়ারপার্সন কারাগারে তবু তাকেই প্রধান অতিথি করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ। নেতাকর্মী সবার দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তি।
দুপুর ২টায় মিছিলে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন নেতা কর্মীরা। বিএনপি নেতারা বলেন, জাতীয় ঐক্য ও ভোটের মাধ্যমে আবারো প্রধানমন্ত্রী হবেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র বাঁচাতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ইভিএম বাতিল, নির্বাচন কমিশন পূনর্গঠন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার সহ সাত দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে-
•নির্বাচনের সময় একটি নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে
•সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে
•নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে
•ম্যাজিস্টেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে
•ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করতে হবে বা চালু করা যাবে না
সমাবেশে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের এর অতিরিক্ত দাবি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সেই সঙ্গে হাজার হাজার যে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং যারা কারাগারে রয়েছে, সেই সব রাজবন্দীর মুক্তি চাই। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সময় নতুন করে যেন আর মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের আর গ্রেপ্তার করা না হয়। কারণ বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে আমরা মনে করি।



