পরের ধনে পোদ্দারি করে সম্পদের পাহাড় ইভ্যালি রাসেল’দের
বিশেষ প্রতিনিধি : পরের ধনে পোদ্দারি করতেন ইভ্যালির রাসেল। নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা দিতেন পুরনো গ্রাহকদের। আর বাকি টাকা মেরে দিতেন। গ্রাহকের টাকাহাতে রেখে অল্প অল্প পণ্য ফেরত দিত ইভ্যালি। এভাবে মেরে দেয়া টাকা দিয়ে সাভারে বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন ধুরন্ধর রাসেল। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন তাদেরকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চলতি বছরের গত জুন থেকে ইভ্যালির কর্মচারীদের অনেকের বেতন বকেয়া থাকলেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন পদাধিকার বলে মাসিক ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা বেতন নিয়েছেন। এছাড়া তারা কোম্পানির অর্থে ব্যক্তিগত দুটি দামি গাড়ি (রেঞ্জ রোভার ও অডি) ব্যবহার করতেন। তারা নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুরনো গ্রাহকদের অল্প অল্প পণ্য ফেরত দিয়ে সাভারে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন নিজেদের নামে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ রাসেল আমাদের হাজার কোটি টাকার দেনার কথা জানান।
ইভ্যালির দায় ও দেনা সম্পর্কে নানা প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দায় ছিল ৪০৩ কোটি টাকা, যেখানে তাদের সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংস্থার এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে গ্রেপ্তার রাসেল আমাদের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।র্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ইভ্যালি তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান। কোনো ব্যবসায়িক লাভ এ যাবত করতে পারেন নাই মোহাম্মদ রাসেল। গ্রাহকদের অর্থে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করতেন তিনি। ক্রমে ক্রমে তার দেনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মঈন জানান, গ্রেপ্তার রাসেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন ইভ্যালির অ্যাকাউন্টে বর্তমানে ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি গেটওয়েতে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা আছে, যা গ্রাহকদের।
এর আগে, প্রতারণার অভিযোগে গুলশান থানায় বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক গ্রাহকের করা মামলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে (১৬ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে প্রতিষ্ঠানটির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে সেখান থেকে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।২০১৬ সালে প্রথমে অনলাইনে ডায়াপার বিক্রি দিয়ে যাত্রা শুরু করেন রাসেল। ২০১৭ সালে এই ব্যবসা করতে গিয়ে বড় একটি অনলাইন প্লাটফর্মের কথা চিন্তা করেন তিনি। সেই চিন্তা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন দেশীয় ই-কমার্স কোম্পানি ‘ইভ্যালি’। প্রায় ১৭ লাখ নিয়মিত ক্রেতা, ২০ হাজারের বেশি বিক্রেতা নিয়ে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতে স্বল্প সময়ে প্রথম সারিতে উঠে আসে ‘ইভ্যালি’।
বিশাল অফার ছাড়ের ছড়াছড়ি আর ক্যাশব্যাকের আকর্ষণ দিয়ে ক্রেতা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে সফল হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন গ্রাহক ভোগান্তির শীর্ষে অবস্থান করছে। ক্যাশব্যাক দীর্ঘদিন কোম্পানির হিসাবে পড়ে থাকলেও জটিল নিয়মের কারণে গ্রাহক তা ক্যাশ (নগদায়ন) করাতে পারে না। ক্যাশব্যাক অফারের সঙ্গে আরও টাকা যোগ করে তবেই সে টাকা দিয়ে নতুন করে পণ্য কিনতে হয়।মোটরসাইকেল, গাড়ি, মোবাইল, ঘরের সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্রের মতো উচ্চমূল্যের পণ্যে লোভনীয় ছাড় দেয় ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠার শুরুতে সাইক্লোন, আর্থকোয়েক ইত্যাদি নামে তারা ক্রেতাদের ১০০ শতাংশ ও ১৫০ শতাংশ ক্যাশব্যাকের মতো অত্যন্ত লোভনীয় অফার দেয়। ইভ্যালির ব্যবসার এ কৌশলের ফলে মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি অনেক সমালোচনারও সৃষ্টি হয়।বিশাল অফার, ছাড়ের ছড়াছড়ি আর ক্যাশব্যাকের আকর্ষণ দিয়ে ক্রেতা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে গ্রাহকদের টাকা মেরে দেয় রাসেলগংরা।




