‘নো ট্রেন ফাউন্ড’ টিকিট গেল কই!

লাবণ্য চৌধুরী : অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে “নো ট্রেন ফাউন্ড” আসছে। মঙ্গলবার রাত ৮টা ছিল এ অবস্থা। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম বলেছিলেন, ‘মঙ্গলবার বিকাল থেকে শুধুমাত্র অনলাইনে টিকেট বিক্রি শুরু হবে। বিকাল কয়টা থেকে টিকেট পাওয়া যাবে তা পরে জানানো হবে’। কিন্তু রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে আর কোনো টিকিট পা্ওয়ার তথ্য নেই। এদিকে টিকিট না পেয়ে ফেসবুকে গুষ্ঠি উদ্ধার চলছে।
সজল নামের একজন ফেসবুক কমেন্ট করেছেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং রেল মন্ত্রী মহাদয় সাহেব আপনাদের নিকট অনুরোধ, আপনারা জনগণের কথা চিন্তা করুন, দেশের মানুষ যেন অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট কাটতে পারে সে বিষয়ে লক্ষ রাখুন, আমরা দেখি যে অনলাইনে টিকিট কালোবাজিরা আগেই উধাও করে দেয়। সেটি যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এতো দুর্নীতি কোথায় রাখবো বিকাল ৫টা থেকে ট্রাই করছি। লোডিং……। আগেরবারও একই কাহিনী হয়েছিল। এখন কাউন্টারে গিয়ে দেখবেন টিকিট নাই, পাশে কেউ ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি শুরু করবে।’
যাহোক, লকডাউন শিথিল হওয়ায় আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ৩৮টি আন্তঃনগর এবং ১৯টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করবে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।কিন্তু টিকিট গেল কই??বাংলাদেশ রেলওয়ের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। কিন্তু বিকাল ৫টার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টিকিটের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস দিয়ে প্রবেশের পর দেখানো হচ্ছে “নো ট্রেন ফাউন্ড”।রাত ৯টার পরও ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপসে ‘নো ট্রেন ফাউন্ড’ লেখা আসছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের ৩৬২টি ট্রেনের মধ্যে স্বাভাবিক সময়ে ১০২টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২৬০টি লোকাল, কমিউটার ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। ঈদ সামনে রেখে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সকল বিধিনিষেধ শিথিল করে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।এই সময়ে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করবে বলে সোমবার রাতেই জানিয়েছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়।করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ২২ জুন যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ১ জুলাই শুরু হয়েছিল সর্বাত্মক লকডাউন, যার মেয়াদ ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত।
ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ অগাস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত আগের বিধিনিষেধগুলো আবারও কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।এ সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিঃ মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী জাতিরকন্ঠ কে বলেন, বিকাল ৫টা থেকে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছিল বিকালে শুরু হবে। কিন্তু কখন শুরু হবে তা বলতে পারছি না। সন্ধ্যা ৭টা অথবা সাড়ে ৭টার পর হতে পারে। হঠাৎ করে এমন একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। কাজ করতে করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু টিকিট যে মিলবে তার নিশ্চয়তা মিলছে না।



