• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

নোবেলের ঝুলিতে শতকোটি- গুরু জানেআলমকে কে ধরবে?


প্রকাশিত: ৮:৩৯ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০৪ বার

নোবেলের গুরু জানেআলম

বিশেষ প্রতিনিধি/কক্সবাজার প্রতিনিধি : ভূমি দালাল নোবেলের ঝুলিতে শতকোটি টাকা মিললেও তার গুরু ফটিকছড়ির ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

এই গুরু শিষ্য দীর্ঘদিন ধরে সুদের কারবার আর দালালি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছে এ অঞ্চলে। ফটিকছড়ির ২ নম্বর দাঁতমারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানে আলম ৪৬টি টিআর প্রকল্পের টাকা মেরে দিয়েছে। এ ঘটনায় ভুয়া একাউন্ট খুলতে জানে আলমকে সহযোগীতা করেছে কৃষি ব্যাংকের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

দুদকের তদন্তে এসব তথ্য উদঘাটিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থানীয় দুদক কর্মকর্তা মামলার সুপারিশ এবং সম্পদের বিবরন চেয়ে নোটিশ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে জানে আলম এখনও বহাল তবিয়তে। এছাড়াও জড়িত রয়েছে আরো একাধিক দুর্নীতিবাজ। যাদের টিকিটিও স্পর্শ করছে না তদন্তকারীরা।

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেলের তৃতীয় দফায় আরও ৪২ লাখ টাকা জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দীনের নেতৃত্ব দুদকের একটি দল ইউনিয়ন ব্যাংক কক্সবাজার শাখা থেকে টাকাগুলো জব্দ করেন।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে নোবেলের নামে সঞ্চয়ী হিসাবে থাকা ৮০ লাখ টাকা জব্দ করেছিল দুদক। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর চারটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে তার ২০ কোটি টাকা জব্দ করে দুর্নীতি দমনে নিয়োজিত সরকারি এই সংস্থাটি। সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ মো. কায়সার নোবেল একজন উচ্চমাপের সুদি কারবারি হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

দুদক সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে প্রেক্ষিতে জাবেদ মো. কায়সার নোবেলসহ আরো ১০ জনের নাম আসায় তাদের ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাব অনুসন্ধান করেছে দুদকে। অনুসন্ধানে বেসিক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় নোবেলের নামীয় একাউন্টে ২০ কোটির বেশি টাকার সন্ধান পাওয়া যায়। গত ১ সেপ্টেম্বর এসব টাকা জব্দ করা হয়।

অনুসন্ধানে নোবেলের নামে জেলা ডাকঘরে আরো বিপুল টাকার সন্ধান মিলে। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করার পর তৃতীয় বারের মতো ইউনিয়ন ব্যাংকে মিলেছে ৪২ লাখ টাকার সন্ধান। ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কথিত মধ্যস্থতার (দালালি) মাধ্যমে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। তাই নোবেলের নামীয় এসব ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাবে রক্ষিত টাকাগুলো জব্দ দেখানো হয়েছে।

এদিকে ফটিকছড়ি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকে সরকারী প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করে বিপাকে পড়েছে দুই ইউপি সদস্যসহ সাক্ষীরা। দুদকে অভিযোগ করায় অভিযোগকারী ইউপি সদস্যসহ স্বাক্ষীদেরকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দুদকে বাদী হওয়া উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের দুই মেম্বার আনোয়ার হোসেন ও সুব্রত দেসহ যুবলীগ নেতা শাহিদুল আলম নাহিদ এ অভিযোগ করেন।ইতোমধ্যে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনকে এক মাসের ব্যবধানে দুটি মিথ্যা কাল্পনিক মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে জানান ইউপি সদস্য আনোয়ার।

ওদিকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলমকে প্রশাসনিকভাবে প্রশ্রয় দেয়া উপজেলার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে যে সব লোক দুদকে সাক্ষ্য দিয়েছে তাদেরকে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানির পরিকল্পনা করেছে উক্ত সিন্ডিকেট।