নির্বাচনী খুন:কে দায়ী নানক না সাদেক!
বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় আওয়ামী লীগের নানক সাদেকের নির্বাচন দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে ২ জন খুন হওয়ার নেপথ্যে বরিশাল গ্রুপ জড়িত। এরমধ্যে জন্মসূত্রে সাদেক খান স্থানীয় নেতা এবং নানক বরিশাল থেকে আগত নেতা। এলাকাবাসীর মতে, নানক প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় পর্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। পরে বড় নেতার ‘ভাব’ নেয়ায় এবং জনসেবায় ঘাটতি হতে থাকলে এবং জনগন তাকে কাছে না পেয়ে অসন্তুষ্ঠ হতে থাকে। এছাড়াও এলাকার চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস রুখতে নানক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী নানকের অনুসারী আরিফুল ইসলাম তুহিন।এলাকাবাসী জানায়, নানক এলাকার এমপি হলেও তিনি বরিশাল থেকে আগত মোহাম্মদপুর এর আ’লীগ নেতা। আগে জনগন তার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে তাঁরা সাদেক খানকে চান। লীগের বড় নেতার হওয়ার সুবাদে তিনি ধরা কে সরা জ্ঞানও করেন। এলাকার বাসিন্দারা তাকে সমসময় ডেকে পান না। এক সময় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমদের পত্রিকা বাংলার বানীর সার্কুলেশন ম্যানেজার ছিলেন এই নানক। শেখ সেলিমই তাকে রাজনীতিতে এনেছে বলে জানা যায়।
উইকিপিডিয়ার সূত্র মতে, জাহাঙ্গীর কবির নানক (জন্ম: ১৪ জানুয়ারি ১৯৫৪) বাংলাদেশের ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।তার পৈতৃক বাড়ি বরিশাল জেলার বরিশাল সদর উপজেলার ড: খিরদ মুখার্জী লেন এলাকায়। তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।পেশার আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির নানক রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত আছেন। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে সাদেক খানকে এলাকার বাসিন্দারা সবসময় পান বলে মত প্রকাশ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. সাদেক খান বর্তমানে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক।তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন।এলাকার মানুষ তাকে সবসময় কাছে পান বলে জানা যায়।
১৯৯৭ সালে সাদেক খান অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তৎকালীন ৪৭ নং ওয়ার্ড ও বর্তমান ৩৪ নং ওয়ার্ড থেকে চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পেয়েছেন সর্বশ্রেষ্ঠ কাউন্সিলরের পুরস্কারও।
১৯৯৭ সালে সাদেক খান দু’বার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ৪৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সাদেক খান।আলোচিত ১/১১’র সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কারাবন্দি হলে তার মুক্তির দাবিতে জনতার মঞ্চের সংগঠক হিসেবে সাড়ে ৪ লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন সাদেক খান।
যাহোক নানক সাদেকের রাজনৈতিক কোপানলে পড়ে নিহত আরিফ (১৫) ও সুজন (১৭) এর লাশ এখনও পড়ে আছে মর্গে। নিহত আরিফের ভাই আলাউদ্দিন জাতিরকন্ঠকে জানান, নানকদের সহযোগী তুহিন বাহিনী এই খুনে জড়িত। তারা সাদেক খানের পক্ষে থাকায় তুহিনরা হামলা করে। তুহিন বাহিনীর ধারাল অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় অন্তত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার সকালে উত্তর আদাবরের সুনিবিড় হাউজিংয়ের ১৬ নম্বর সড়ক, ১০ নম্বর সড়ক, শম্পা মার্কেট এলাকায় এ সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। একটি পিকআপভ্যানে করে কয়েকজন তরুণ লোহার গেটের কাছে আসলে সেখানে তাদের উপর হামলা হয়। কিছুক্ষণ পর রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের শরীরে ধারাল অস্ত্রের আঘাত ছিল।



