• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ধানে আগুন-খাদ্যমন্ত্রীর উষ্মা’য় হুইপের বাঁশ!


প্রকাশিত: ৪:০৬ পিএম, ১৬ মে ১৯ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৫৭ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : ধানের দাম না পেয়ে ধানে আগুন দিয়েছে কৃষক। এনিয়ে খাদ্যমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেছেন কৃষকের প্রতি। এমনি অবস্থায় সরকারের হুইপ খাদ্যমন্ত্রীকে দিলেন লম্বা ফেসবুক বাঁশ। তারপর থেকে সেই উত্তেজনায় সরগরম সারা দেশ। অভিযোগ উঠেছে খাদ্যমন্ত্রী অন্ধ হয়ে গেলেন এসির ঠাণ্ডা বাতাসে!একথা বলেছেন খোদ জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি। ফেসবুকে হুইপের এই স্যাটাস ইতিমধ্যে ‘হিট’ অবস্থায় সবার মুখে মুখে ছড়াচ্ছে। হুইপ বলেছেন, কৃষকের সঙ্গে দয়া করে মসকরা করবেন না মাননীয় মন্ত্রী!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে ধানের কম থাকায় হতাশায় ভূগছেন কৃষকেরা। আর সেই হাহাকারের সঙ্গে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। এমতাববস্থায় হুইপ বলেছেন, আপনি কৃষেকদের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না।জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, আপনি, আমি কৃষকের ভোটে, কৃষকের দয়ায় সংসদে এসেছি। দাম না পেয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে টাঙ্গাইলে ক্ষেতের ধানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি খাদ্যমন্ত্রী অবিশ্বাসের চোখে দেখায় তার কঠোর সমালোচনাও হচ্ছে।

বুধবার (১৫ মে) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে প্রান্তিক কৃষক ও মিলারদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান ও চাল ক্রয় উদ্বোধন শেষে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কৃষকদের অসহায় মুখ দেখে ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে তাদের সন্তানরা। এতে যোগ দিয়েছেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া উচ্চশিক্ষিতরাও।

এসব নিয়ে সংসদ হুইপ বলেন, নিজের সন্তান বিকলাঙ্গ হলেও কোনো মা-বাবা কখনো গলা টিপে তাকে হত্যা করবে না। ঠিক তেমনি কোনো কৃষক আগুনে পুড়িয়ে তার ধান নষ্ট করবে না। কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না—এটা স্বীকার করলেও মন্ত্রী বলেন, ধানের দাম ২০০ টাকা মণ হলেও একজন কৃষক কখনো ধান পোড়ানোর মতো কাজ করবে না। এটি একটি মহলের পরিকল্পিত ঘটনা, যাতে সরকারকে বিপর্যস্ত অবস্থায় ফেলা যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উৎপাদিত চাল বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছে সরকার। আমরা সরকারিভাবে প্রান্তিক কৃষক ও মিলারদের কাছ থেকে ধান-চাল ক্রয়ের যে বরাদ্দ দিয়েছি তাতে যেন জোরেশোরে ক্রয় শুরু করা হয়, যেন বাজারে প্রভাব পড়ে। স্থায়ী সমাধানের জন্য যেসব এলাকায় বোরো ধান বেশি উৎপাদিত হয়, সেখানে প্যাডিক সাইক্লোডাই এবং ফ্যানি মেশিন দিয়ে আমরা যাতে ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান কিনতে পারি সে ব্যবস্থা করা হবে।’

খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই ফেসবুক পোস্টে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন তার উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না।’ তিনি লেখেন, ‘ক্ষমতা কি মানুষকে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দেয়? আমার জানা মতে, সুস্থ চোখ অন্ধ হতে সময় লাগে। কিন্তু মাত্র চার মাসে ধানের ভাণ্ডার নওগাঁর গাঁও-গ্রাম থেকে উঠে আসা খাদ্যমন্ত্রী গাঁয়ের কৃষকদের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক ভুলে গেলেন! অন্ধ হয়ে গেলেন এসির ঠাণ্ডা বাতাসে! তিনি বলেছেন, সরকারকে বিব্রত করার জন্য নাকি কৃষক ষড়যন্ত্র করে পাকা ধানে আগুন দেওয়ানো হয়েছে!’

স্বপন আরও লিখেন, ‘একজন অসহায় কৃষকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও সহ্য করতে পারবেন না? আপনি তো সামরিক স্বৈরাচারের মন্ত্রী নন। আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে, আপনি পরম ধৈর্যশীল, পরমতসহিষ্ণু, উদার গণতান্ত্রিক বিশ্বসেরা রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রী এবং তাঁর সম্মানিত সহকর্মী।’ স্বপন আরো লেখেন, ‘আগুন দিয়েছে নিজের ক্ষেতে, আপনার পাঞ্জাবিতে দেয়নি। তাতেই সহ্য হচ্ছে না! শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারটুকুও দেবেন না কৃষককে।

কৃষক বলে কি তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই! কৃষক উৎপাদন করে, ন্যায্য মূল্য পায় না। এ কথা অন্য রাজনীতিবিদ না জানলেও আপনার, আমার অজানা নয়। ধানের দামের খোঁজ নেন, দেখেন, হাটে-বাজারে ধানের প্রকৃত দাম কত? আপনি এই মন্ত্রণালয়ে নতুন। কথিত আছে, এই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ খাদ্য বিভাগের শুধু কর্মচারী নয়, অফিসের দেয়ালও নাকি ঘুষ চায়। ভূমিমন্ত্রীর মতো সচল হোন, দুর্নীতির জঞ্জাল পরিষ্কার করুন।’