ধর্ষণ বিরোধী মিছিলে হামলা ৬০ জন আহত

বেগমগঞ্জ প্রতিনিধি : ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এর ব্যানারে ছাত্র-ছাত্রী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগে চলমান লংমার্চে ফেনীতে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত প্রায় ৬০ জনকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়া হয়েছে বলে জানান লংমার্চের নেতৃবৃন্দ। এদিকে লংমার্চকে পণ্ড করতে সরকার দলীয় ক্যাডার বাহিনী ও পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ফেনীতে লংমার্চের সমর্থনে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার পরপরই তাদের মিছিলে হামলা করা হয় এবং তাদের গাড়ি বহরে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাংচুর করা হয়। অন্যদিকে নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত জানান, আজকে সাধারণ জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে, বিচারহীনতার বিরুদ্ধে এবং সরকারের মাস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে এবং আমরা সাধারণ জনগণের পক্ষ হয়ে আজকে মাঠে নেমেছি। এ লংমার্চ যে কোনো মূল্যে সফল করা হবে।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি জাতিরকন্ঠ কে বলেন, হামলার ঘটনার সঙ্গে দলীয় লোকজন জড়িত নয়। এটা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় এমপি নিজাম হাজারীকে কটূক্তি করায় সাধারণ জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী জানান, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হামলায় নেতৃত্ব দিতে দেখেছেন তারা।
এদিকে লংমার্চের প্রায় ছয়টি গাড়ি ভাংচুর করা হয় বলে কর্মসূচিতে থাকা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল জানিয়েছেন। পুলিশ এসময় নিশ্চুপ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফেনী মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন জাতিরকন্ঠ কে বলেন, সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর ছবি নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে সরকার দলীয় লোকেরা লংমার্চে হামলা চালায়। এসময় উভয়পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এতে ৭/৮ জন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, হামলাকারীদের প্রতিহত করা চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার পর লংমার্চে অংশকারীদের নোয়াখালী পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে শুক্রবার নোয়াখালীর পথে লংমার্চ শুরু করে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’। বাম ছাত্র সংগঠনগুলো ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নারী সংগঠন এতে যোগ দিয়েছে। শনিবার বিকালে নোয়াখালী শহরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হবে, যে জেলায় বিবস্ত্র করে এক নারীকে নির্যাতন করা হয়।



