‘দল দেখে এডিস মশা কাউকে কামড় দেবে না’
স্টাফ রিপোর্টার : ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে এ রোগের বাহক এডিস মশার বিরুদ্ধে ‘সামাজিক লড়াই’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দল দেখে এডিস মশা কাউকে কামড় দেবে না। কাজেই সবাইকে এ বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে হবে, সতর্ক হতে হবে। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব আসে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়ান, তাদেরকে বলব, আসুন, আমরা সকলে মিলে সামাজিকভাবে লড়াই গড়ে তুলি। এই বিপদজনক মশা, এর কামড়ের ফলে মৃত্যুও ঘটতে পারে, সে কারণে সহজভাবে দেখার কোনো উপায় নেই। রাজনৈতিকভাবেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, আমাদের দলকে আমরা অন্তর্ভুক্ত করছি। সচেতনতামূলক এবং সতর্কতামূলক সভা সমাবেশ করে আমাদের দলও এ ব্যাপারে অংশ নেবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সাড়ে আট হাজারের বেশি মানুষ মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল জুলাই মাসেই হাসপাতালে গেছেন রেকর্ড সাড়ে ছয় হাজার মানুষ। তবে আক্রান্ত রোগীদের সবার তথ্য সরকারের নজরদারির মধ্যে আসে না বলে ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের অনেকের ধারণা। ডেঙ্গু ইতোমধ্যে মহামারীর আকার ধারণ করেছে কি না, সেই প্রশ্ন যেমন কেউ কেউ তুলছেন, ঢাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন আদৌ প্রস্তুত ছিল কি না- সেই প্রশ্নও আসছে।
ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের উদ্যোগ জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, চীন, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে গেছে। এটা এখন দেশীয় রোগ নয়, এখন দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবেও প্রকোপ বাড়ছে। সেজন্য আমাদের এটাকে উপেক্ষা করার কোনো কারণ নেই। আমাদের জনগণ ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগে আছে, আতঙ্কে আছে। কাজেই আমাদের জনগণকে আমাদের এই কঠিন রোগ থেকে এবং ডেঙ্গু মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে হবে। জনগণকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর অফিসও এ ব্যাপারে খুব সক্রিয়। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকেও একটা মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, দুই সিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু মোকাবেলায় সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, যারা সংশ্লিষ্ট, তাদের সবারই একটা দায়িত্ব এখানে রয়েছে এবং আমরা মনে করি, আমাদের দলেরও একটা দায়িত্ব রয়েছে।ডেঙ্গু আর মশা ছাড়াও গুজব, গণপিটুনি ও প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের মত আলোচিত সাম্প্রতিক বিষয়গুলোও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলনে আসে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য, গণপিটুনি, গুজব এই বিষয়গুলোর মধ্যে কোনো যোগসুত্র আছে কি না এই বিষয়গুলো আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। এ ধরনের কোনো যোগসূত্র থেকে থাকলে তা অবশ্যই সরকারের বিরোদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মনে করা হবে। তখন যা যা করা দরকার সব প্রস্তুতি সরকারে আছে।
গুজব ও গণপিটুনি রোধে সারা দেশে আওয়ামী লীগ সচেতনতামূলক সভা সমাবেশ করবে জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণপিটুনি এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এটাকে পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। এর জন্য সারা দেশে আওয়ামী লীগের সকল শাখাকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমি নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে সকলে মিলে সভা সমাবেশ করে সচেতনতামূলক এবং সতর্কতামূলক প্রচার করে। যাতে করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি না পায়। অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।



