• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

তারেকের নির্দেশে শপথ ফখরুলের তবে-


প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ২৯ এপ্রিল ১৯ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৪১ বার

 

বিশেষ প্রতিনিধি : এবার তারেকের নির্দেশে কাল শপথ নিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন স্পিকারের কাছে। সোমবার বিএনপি মহাসচিবের প্রেরিত বিশেষ দূত স্পিকারের কাছে শপথের সময় চেয়ে আবেদেনের চিঠি নিয়ে যান।এখন স্পিকার তাকে সময় দেবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে; তবে এ নিয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও আছে।

ওদিকে মঙ্গলবার তিনি শপথ নিবেন বলে বিএনপির ঘনিষ্ঠ এবং মহাসচিবের খুব কাছের একটি সূত্র অনলাইন দৈনিক জাতিরকন্ঠ কে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্রটি বলেছে, যেহেতু বিএনপির সব সদস্যই শপথ নিয়েছেন সেক্ষেত্রে ফকরুল সাহেব অসুস্থতার কথা বললেও স্পিকার সময় না দিলে তিনি ঠিকই শপথ নিবেন।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই দলের চারজন এমপি হিসেবে আজ (সোমবার) শপথগ্রহণ করেছেন। সোমবার (২৯ এপ্রিল) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তাকেও ফুরফুরে মেজাজে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও শপথ নিবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সংসদে কথা বলার সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদ, রাজপথের সংগ্রাম যুগপৎভাবে চালিয়ে যাওয়াকে যুক্তিযুক্ত মনে করছি।’সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শপথ নেবেন কি না এবং জাহিদুর রহমান জাহিদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সময় হলেই আপনারা সব জানতে পারবেন।

সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তে জোট ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, এ ধরনের আশঙ্কা করছি না।তৃণমূল নেতারা বিএনপির সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কীভাবে নেবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই মেনে নেবেন। আমরা কোনো চাপে নই, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ আপনাদের (বিএনপি) এ সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন, এ বিষয়ে কি বলবেন? জবাবে ফখরুল বলেন, এটা ওনার মন্তব্য।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত চার সংসদ সদস্য আজ (সোমবার) শপথগ্রহণ করেছেন। এর ফলে একমাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া দলটি থেকে নির্বাচিত বাকি সবাই শপথগ্রহণ করলেন।শপথ নেয়া চারজন হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া এবং বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি শপথ না নেয়ার ঘোষণা দিলেও গত বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ শপথগ্রহণ করেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তবে-স্পিকারের দপ্তর বলছে-

স্পিকারের দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, তিনিও এক সপ্তাহের মধ্যে শপথ নিতে পারেন। তবে তার জন্য সময় চেয়ে আবেদন জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মির্জা ফখরুল।স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে মির্জা ফখরুল শারীরিক অসুস্থার কারণে শপথ গ্রহণে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানান।সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত চার নেতা এমপি হিসেবে শপথ নেন সোমবার বিকেলে। এর আগে শপথ নিয়েছিলেন একজন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আট জন নির্বাচিত হন। এর মধ্যে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই জন আগেই শপথ নেন।

আইনত ২৯ এপ্রিল রাত ১২টার মধ্যে মধ্যে শপথ না নিলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসন শূন্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এ অবস্থায় তিনি শপথ নেওয়ার জন্য সময় চেয়ে আবেদন জানালেন।সংবিধান অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত ব্যক্তি যদি যৌক্তিক কারণে পরে শপথ গ্রহণের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে স্পিকারের সেটি বিবেচনার এখতিয়ার রয়েছে। অবশ্য এক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে না পারার কিংবা না নেওয়ার ‘যথার্থ কারণ’ দেখানোর কথাও সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা আছে। এছাড়াও সংবিধানে বলা আছে, স্পিকারের কাছে সময় বৃদ্ধির এই আবেদনও করতে হবে নির্ধারিত ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে।