তথ্য ফাঁস! ক্যাসিনোবাজরা ধরা পড়েনি
বিশেষ প্রতিনিধি : তথ্য ফাঁস! অবশেষে পুলিশের নাকের ডগার ক্যাসিনোয় অভিযান হলেও কেউ ধরা পড়েনি। অভিযোগ উঠেছে ক্যাসিনোর সুবিধাভোগী পোষাকী কর্মীরা তথ্য ফাঁস করে দেয়ায় জুয়াড়ী ও জুয়াবাজরা সটকে পড়তে সক্ষম হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, র্যাবের পর এবার পুলিশ জুয়ার আসর বন্ধে মাঠে নেমেছে, ঢাকার মতিঝিল-আরামবাগ এলাকার চার ক্লাবে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, মদ আর নগদ টাকা।
রোববার দুপুরে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে একযোগে অভিযান শুরু হয় বলে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেন জাতিরকন্ঠ কে জানান। অভিযানে চারটি ক্লাবেই ক্যাসিনোর সরঞ্জাম পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এসব ক্লাবের নিয়ন্ত্রক বলে জানা গেছে।এর মধ্যে ভিক্টোরিয়া ক্লাব থেকে বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলার নয়টি বোর্ড, এক লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ তাস, জুয়ায় ব্যবহৃত চিপস ও মদ পাওয়া গেছে। মোহামেডানে পাওয়া গেছে দুটো রুলেট টেবিল, নয়টি বোর্ড, বিপুল পরিমান কার্ড, ১১টি ওয়্যারলেস সেট ও ১০টি বিভিন্ন ধরনের চাকু।
পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টায় আরামবাগ ক্লাবে গিয়ে দেখা যায় সেখানে আগে থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। অন্ধকারে সবকিছু দেখা যাচ্ছিল না। তবে সেখানে ক্যাসিনো চলে সেটা বোঝা যাচ্ছিল। এছাড়া অভিযানের খবর শুনে সবাই পালিয়ে গেছেন। দিলকুশায়ও কাউকে পাওয়া যায়নি।পুলিশের নাকের ডগায় এসব ক্যাসিনো কীভাবে এতদিন চলছিল? সেই প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে। রাজধানীর এসব ক্লাবে ক্যাসিনোগুলো কতদিন ধরে চলছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পুলিশের মতিঝিল জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কাছে খবর আসা মাত্রই অভিযানে এসেছি। কতদিন ধরে চলছে, কারা এর সাথে জড়িত -এসব বিষয় তদন্ত করে দেখব।
চারটি ক্লাবই পুলিশের নাকের ডগায়, এটাতো অস্বীকার করার উপায় নেই? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চারটি ক্লাবই পুলিশের নাকের ডগায় ছিল, এটা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। তবে আমরা জানা মাত্রই অভিযান শুরু করেছি। ক্যাসিনো পরিচালনা করা অবৈধ। এখান থেকে যাদের নাম আসবে তারা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
গত শুক্রবার রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করে র্যাব। এ সময় বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক দ্রব্য ছাড়াও নগদ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করার নথি জব্দ করা হয়।
এছাড়া শুক্রবার রাতে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় ক্লাবটির সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজের কাছে সাত প্যাকেট গন্ধহীন হলুদ রঙের ইয়াবাসহ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ক্যাসিনোতে খেলার কয়েন, স্কোরবোর্ড ও ৫৭২ প্যাকেট তাস। র্যাবের ধারণা, ক্লাবটি ক্যাসিনো খেলা হত।



