• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ঢাবিতে ক্রসমারা ব্যালট নিয়ে তুলকালাম


প্রকাশিত: ২:৪২ পিএম, ১১ মার্চ ১৯ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৭৫ বার

ঢাবি রিপোর্টার : ঢাবিতে ক্রসমারা ব্যালট নিয়ে তুলকালাম অবস্থা সৃষ্ঠি হয়েছিল। এ ঘটনায় কে দায়ী তা চিহ্নিত করার চেষ্ঠা চলছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটে মৈত্রী হলের প্রভোস্ট শবনম জাহানকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীনকে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। পরে নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আবারও শুরু হয় ভোটগ্রহণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল থেকে বস্তাভর্তি ক্রস মারা ব্যালট উদ্ধার করা নিয়ে তোলপাড় চলছে। ব্যালটে ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের নামের পাশে সিল দেয়া ছিল বলে দাবি করেন তারা। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, সিটি ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত প্রতীকে সিল মেরে ভোট দেয়ার নিয়ম থাকলেও ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন (x) দিয়ে ভোট দেয়া হচ্ছে।বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যালটে দেখা গেছে, ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের নামের পাশে ‘ক্রস’ দেয়া আছে।

এসব প্রার্থী হলেন— হল সংসদের সহসভাপতি পদের প্রার্থী রাজিয়া সুলতানা কথা, সাধারণ সম্পাদক শাওলিন জাহান সেঁজুতি, সহসাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল হাওয়া আঁখি, সাহিত্য সম্পাদক সাবিকুন্নাহার মুন, সংস্কৃতি সম্পাদক কবিতা রায়, পাঠকক্ষ সম্পাদক তামান্না তাসনিন তমা, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক মেহের আফরোজ সুরভী, বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, সমাজসেবা সম্পাদক কোহিনুর খাতুন। এ ছাড়া ব্যালট পেপারে হল সংসদের চারটি সদস্য পদের প্রার্থীদের নামের পাশেও ক্রস চিহ্ন দেয়া রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ঢাবির উন্নয়ন ও অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা নওশিন খান বলেন, যেসব নামের পাশে ভোট দেয়া আছে, তারা সবাই ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী।ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত।তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। ছাত্রলীগ কখনও এ ধরনের কাজ সমর্থন করে না।

কুয়েত মৈত্রী হলের কিছু ছাত্রী অভিযোগ করেন, ব্যালটবাক্স আগে থেকেই জালভোট দিয়ে ভরা হয়েছিল। পরে ব্যালটবাক্স দেখতে চাইলে সেই জালভোট দেয়া ব্যালট পেপার বস্তায় ভরে অন্যত্র সরানোর অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রীরা।মৈত্রী হলের ছাত্রীরা ভোটকেন্দ্রের সামনে জালভোট দেয়া ব্যালট পেপার নিয়ে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করছেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কখনই সুষ্ঠু ভোট হওয়া সম্ভব নয়।

এক ছাত্রী বলেন, ব্যালটবাক্স স্টিলের তৈরি হওয়ার কারণে আমরা সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সেটি চেক করে দেখতে চাই। কিন্তু হলের প্রভোস্ট শবনম জাহান আমাদের সেটি দেখতে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ রকম কোনো নিয়ম নেই। পরে অন্যান্য হলে দেখানো হচ্ছে জানালে তিনি বলেন, প্রক্টর এলে সেটি দেখানো হবে।পরে প্রক্টরিয়াল বডি এলে ভোটকেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়, আর আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন কথা বলে ব্যস্ত রাখা হয়।

এভাবে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে আমরা কয়েকজন অনেকটা জোর করেই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করি। ভোটকেন্দ্রে একটি প্রধান দরজা আর পেছন দিকে আরেকটি দরজা ছিল। যার মাধ্যমে বাইরের দিক থেকে আসা-যাওয়া করা যেত।গতকাল আমরা ওই দরজা বন্ধ করার আবেদন জানালে প্রভোস্ট শবনম জাহান আমাদের নিজেদেরই সেটি বন্ধ করে দিতে বলেন। পরে আমরা একটি বড় তালা এনে সেটি বন্ধ করে দিই এবং চাবি আমাদের কাছে রাখি।

কিন্তু আজ আমরা যখন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করি, তখন দেখি ওই তালাবদ্ধ দরজাটি খোলা। কিন্তু চাবি আমাদের কাছেই আছে।ওই দরজা দিয়ে দেখি জালভোট ভর্তি একটি বস্তা। আরও সামনে এগিয়ে বাথরুমে গিয়ে দেখি আরও কয়েকটি জালভোট ভর্তি বস্তা।পরে ছাত্রীরা হলগেটে দাঁড়িয়ে জাল ব্যালট মাটিতে বিছিয়ে প্রতিবাদ জানান। এরপর ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।