• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ঢাকায় সস্তায় কোরবানি গরু মিলছে


প্রকাশিত: ১২:১০ এএম, ২২ আগস্ট ১৮ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০১ বার

মাসুম/হালিম : ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে মঙ্গলবার রাতে ১৭ হাজার টাকায়ও কোরবানীর গরু পাওয়া গেছে বলে জাতিরকন্ঠকে জানালেন মিরপুরের ক্রেতা আসমানী রহমান ও নিপা মোনালিসা। রাত ৯টায় তারা হাটে যান। দেখেন গরু প্রচুর কিন্তু ক্রেতা নেই। অথচ দামও কম। কেন এমন অবস্থা এ সম্পর্কে হাট ইজারাদার জানালেন, আসলে ভাই এবার গরু বেশী এসেছে।ফলে দাম পড়ে গেছে। কোরবানির ঈদের আগের দিন ঢাকায় পশুর হাটগুলোতে ‘ক্রেতা সঙ্কটে’ দর পড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অন্যান্য হাট কর্তৃপক্ষ ও বেপারীরা।

মঙ্গলবার শেষ বেলায় পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটলে লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে বলে হাটের বেপারীদের অনেকের চোখেমুখে দেখা গেছে হতাশার ছাপ।কুষ্টিয়া থেকে আফতাবনগর পশুর হাটে আসা গরুর বেপারী হালিম বলেন, যে গরু গতকাল ৫০ হাজার টাকা দর উঠেছিল, সেটি আজকে সকালে ৪৫ হাজার টাকা দিতে চাইল, তারপর দুপুরে আরও কমে ৪০ হাজার টাকা বলছে।

তিনি বলেন, ছয় মাস আগে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে যে গরুটি তিনি কিনেছিলেন, সোমবারও হাটে ক্রেতারা ওই গরুর জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিতে চাইছিলেন।। কিন্তু মঙ্গলবার দর পড়তে পড়তে মঙ্গলবার দুপুরে ৮০ হাজার টাকার বেশি কেউ দিতে চাইছেন না।এবার ১৩টি গরু নিয়ে হাটে এসেছিলেন জানিয়ে এই বিক্রেতা বলেন, এখনও দুইটা গরু বিক্রি বাকি। শেষ বেলায় এসে বিপদে পড়ে গেলাম।

এবার হাটের শুরু থেকেই ক্রেতারা বেশি দাম চাইছেন বলে অভিযোগ করে আসছিলেন ক্রেতারা। তার মধ্যেও গত দুই দিনে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা হয়। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারতীয় গরু না আসায় শেষ মুহূর্তে পশুর সঙ্কটে দাম আরও বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় অনেকেই সোমবার একটু বেশি দামেই গরু কিনে ফেলেছেন। কিন্তু সোমবার রাতে ঢাকার হাটগুলোতে নতুন করে প্রচুর পশু আসায় দাম পড়ে যেতে শুরু করে।

মঙ্গলবার সকালেও ঢাকার গাবতলী, মেরাদিয়াসহ অন্যান্য হাটে ট্রাকে করে কোরবানির গরু আসতে দেখা গেছে। সেই তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা ছিল কম।যে গরুর দাম সোমবার এক লাখ ৬৫ হাজার টাকায় উঠেছিল, বাজার খারাপ বুঝে মঙ্গলবার সেটা এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন দাবি করে বিক্রেতা সেলিম মোল্লা বলেন, এবার আমরা শেষ হয়ে গেছি, প্রতি গরুতে ১০/২০ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে।

নাটোর থেকে আসা গরু বেপারী এম এম খলিল বাবু বলেন, ১৭টি গরু এনেছিলাম। রাত পোহালে ঈদ, কিন্তু এখনও ছয়টা বিক্রি হয়নি। গতকাল যে তিনটা গরুর জন্য দুই লাখ ৩৫ হাজার দাম উঠেছিল, সেটা আজকে দুই লাখ ২০ হাজার দাম বলছে।সাত বছর ধরে ঢাকায় গরু বিক্রি করছেন জানিয়ে রহিম বলেন, ইন্ডিয়ান গরু না আসার পরও কেন দাম কমে গেল তা বুঝতে পারছি না, নাকি মানুষের হাতের অবস্থা খারাপ?