• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ট্রাফিক পুলিশে অতিষ্ঠ হয়ে বাইকে আগুন


প্রকাশিত: ৪:৪৪ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২১ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৫০ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/ বাড্ডা প্রতিনিধি : ‘আকাশের যত তারা পুলিশের তত ধারা..কিংবা মাছের রাজা ইলিশ আর রাস্তার রাজা পুলিশ’ এসব প্রবাদ কেবল ভুক্তভোগীরাই স্বীকার করেন আর বেদনায় গুমরে প্রকাশ্য কাঁদেন। এমনিতেই যখন করোনা’র ফেরে মানুষের আয় রোজগারে বিধ্বস্ত অবস্থা তখন রাস্তার রাজা পুলিশও কিন্তু নির্বিকার। সামান্য পান থেকে চুন খসলেই দে ফাইন…! অনেক বিষয় বুঝিয়ে বলে দিলেও হয়, কিন্তু রাস্তার রাজা পুলিশ বলে কথা…! ওরা নাছোড় বান্দা!! ফলে যা হবার তাই হয়েছে বার বার ফাইন দিয়ে অতিষ্ঠ ব্যক্তি আর যাতে ফাইন দিতে না হয় সেজন্য নিজের মোটর সাইকেলেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

পুলিশ সার্জেন্টদের বার বার মামলায় জর্জরিত এক বাইক চালক রাগে ক্ষোভে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়। আগুন দেয়ার সময় ওই ব্যক্তি উচ্চস্বরে কথা বলে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে নিজের হেলমেটও ভেঙ্গে ফেলেন আছাড় মেরে। কাগজপত্র আগুনে নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি ক্ষুদ্ধ ব্যক্তিকে মাথা ঠান্ডা করতে বলে আগুন নেভাতে পানি ঢাললে মোটর সাইকেলের মালিক তাকেও নিবৃত করেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি রাজধানীর লিংক রোড এলাকায় ট্রাফিক আইন অমান্য করায় দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট তার কাগজপত্র দেখতে চান

রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন শওকত আলী নামে এক ব্যক্তি। জানা গেছে, বাইকে রাইড শেয়ারিং করা ওই ব্যক্তি সেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। এমন সময় ট্রাফিক সার্জেন্ট এসে তার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র নিয়ে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটান।সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে এ তথ্য জানান স্থানীয় এক প্রতক্ষদর্শী। প্রতক্ষদর্শীরা জানান, ভুক্তভোগী সার্জেন্টকে মামলা না দিতে অনুরোধ করেন এবং কাগজপত্র ফেরত চান। এতে কাজ না হলে হতাশ হয়ে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।পরে ভুক্তভোগী স্থানীয়দের অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও একাধিকবার ট্রাফিক পুলিশ তাকে অহেতুক আইন অমান্যের অভিযোগে জরিমানা করে।

বাড্ডা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি জেনেছেন, ওই ব্যক্তি রাজধানীর লিংক রোড এলাকায় ট্রাফিক আইন অমান্য করায় দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট তার কাগজপত্র দেখতে চান। ভুক্তভোগী তার কাগজপত্র দেখালেও সার্জেন্ট খুশী হননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে কর্তব্যরত পুলিশ ও স্থানীয় জনতা তাকে থামিয়ে মোটরসাইকেলটির আগুন নেভায়। ওসি জানান, মোটরসাইকেলটি এবং ওই বিক্ষুব্ধ চালককে আমরা থানায় নিয়ে এসেছি। তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তার ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণটি এবং সে কেন এমনটি করেছেন বুঝার চেষ্টা করছি।এদিকে মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনার ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শওকত আলী থানা হেফাজতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া নেয়া সম্ভব হয়নি।