টেক্সাস সিডনি’র লাটসাহেব ‘সেই’ মিজান
বিশেষ প্রতিনিধি : টেক্সাস সিডনি’র লাটসাহেব বাংলাদেশের ক্রিমিনাল পাগলা মিজানের অঢেল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক অনুসন্ধানে মিলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও অষ্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ির মালিক হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান। র্যাব জানায়, দেশ থেকে অবৈধ আয়ের অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন পাগলা মিজান। দেশের বাইরে দুটি বাড়ি ও দামি গাড়ি আছে। এর মধ্যে আমেরিকায় একটি বাড়ি এবং আরেকটি বাড়ি অস্ট্রেলিয়ায়। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ থেকেই মিজান এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। এর আগে শুক্রবার মিজানুরের মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোডের বাসভবনে অভিযান শেষে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযানে পাকরাও করা হয় পাগলা মিজানকে।
সে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান। শুক্রবার ভোরে তাকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানায়, এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও প্রায় তিন লাখ টাকা জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, ফ্রীডম পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, খুন ও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার বহু অভিযোগ রয়েছে। এসব কুকর্মের জন্য তিনি সম্প্রতি আলোচনায় ছিলেন।ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা মিজান শ্রীমঙ্গল সীমান্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমন খবরের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গলের গুহ রোডের মৃত ফজলুর রহমানের বাসা থেকে তাকে ধরা হয়েছে।
র্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জাতিরকন্ঠ কে জানান, চলমান জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে হাবিবুর রহমান মিজানকে আটক করা হয়েছে। কাউন্সিলর মিজান দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থেকে ভোরে তাকে আটক করা হয়। দুপুরেই মিজানকে ঢাকায় আনা হয়। এরপর তাকে নিয়ে তার লালমাটিয়ার কার্যালয় ও আওরঙ্গজেব রোডে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। শ্রীমঙ্গলে আটকের সময় একটি বিদেশি অস্ত্র, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও নগদ তিন লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, পাগলা মিজান ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি থেকে শুরু করে মানুষ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাসায় যারা হামলা করেছিল তার একজন পাগলা মিজান। অথচ সময়ের স্রোতে পাল্টে গেছে অনেক কিছু। ভোল পাল্টিয়েছেন তিনি। পাল্টে ফেলেছেন নামটিও। তিনি এখন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। মোহাম্মদপুরে গড়ে তুলেছেন অপরাধ সাম্রাজ্য। মাদক কারবার থেকে শুরু করে খুনখারাবি পর্যন্ত নানা অপরাধমূলক কাজে তার নাম উঠে এসেছে বার বার।আওয়ামী লীগের এই নেতার বর্তমান নাম হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান হলেও আগে তার নাম ছিল মিজানুর রহমান মিজান।
সূত্র জানায়, মহাজোট সরকার আমলে মিজান বাহিনী ৩০০-৪০০ কোটি টাকার শুধু টেন্ডারবাজি করেছে। এ ছাড়া ভূমি দখল, চাঁদাবাজিসহ মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পে মাদক ও চোরাই গ্যাস-বিদ্যুতের ব্যবসার নিয়ন্ত্রক তিনি। স্থানীয়রা বলেন, খুনখারাবি তো পাগলা মিজানের বাম হাতের খেলা। ভয়ে এলাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথাও বলে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনেক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসৎ কর্মকর্তা তার অপকর্মে সহযোগিতা করেন। এ কারণে অপরাধ করেও তিনি পার পেয়ে যান সবসময়।



