• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

টিকিট মিললেও করোনাটেস্টে দুশ্চিন্তা


প্রকাশিত: ১২:১৫ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৫৫ বার

লাবণ্য চৌধুরী : অবশেষে সৌদিগামী ফ্লাইটের টিকিট মিলেছে প্রবাসীদের।এই টিকিটের জন্যে কেউ টানা চার/পাঁচ দিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন । এদিকে টিকিট পেলেও করোনাভাইরাসের পরীক্ষার নন স্টপ ঢিলেমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে প্রবাসীদের। জানা গেছে, সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী দেশটিতে পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকতে হবে যাত্রীদের। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কমপক্ষে ১৫ জন প্রবাসী নমুনা দিতে গিয়েও মহাখালীর করোনা সেন্টার থেকে ফিরে এসেছেন। অথচ, শুক্রবার বিকালের মধ্যে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হবে তাদের।

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স (সাউদিয়া)-এর রিটার্ন টিকিট নিয়ে যারা ছুটিতে দেশে এসেছিলেন,বৃহস্পতিবার তাদের টিকিট রি-ইস্যু করা হয়েছে। নতুন করে কোনও টিকিট বিক্রি করছে না এই দুই এয়ারলাইন্স। টিকিট রি-ইস্যু করতে কোনও অতিরিক্ত ফি’ও নিচ্ছে না এয়ারলাইন্স দুটি। টিকিট প্রত্যাশীদের টোকেন নম্বর অনুসারে সিরিয়ালি টিকিট বিতরণ করেছে এয়ারলাইন্সটি। এক থেকে ৫০০ নম্বর টোকেনধারীদের বৃহস্পতিবার টিকিট দেওয়া হয়। ৫০১ থেকে ৮৫০ নম্বর টোকেনধারীদের ২৫ সেপ্টেম্বর, ৮৫১ থেকে ১২০০ নম্বর টোকেনধারীদের ২৬ সেপ্টেম্বর, ১২০১ থেকে ১৫০০ নম্বর টোকেনধারীদের ২৭ সেপ্টেম্বর সৌদি অ্যারাবিয়ার টিকিট দেওয়া হবে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিকিট পেয়ে খুশি প্রবাসীরা। তাদের দাবি— সাউদিয়া আরও বেশি কাউন্টার চালু করলে কম সময়ে অনেক বেশি মানুষ টিকিট পাবেন। একইসঙ্গে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ালে অনেকেই সঠিক সময়ে কাজে ফিরতে পারবেন।সাউদিয়ার অফিসের পাশে অবস্থানকারী শরিফুল আলম জাতিরকন্ঠ কে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তার টিকিট রি-ইস্যু করে দেয় সাউদিয়া। তিনি বলেন, ছুটিতে দেশে এসে করোনার কারণে আটকে যাই।ভিসার মেয়াদও শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। আজকে টিকিট পাওয়ায় বিপদমুক্ত হলাম।

২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৩০ মিনিটে সাইফুল করিরের ফ্লাইট। কাওরান বাজার থেকে দ্রুত মহাখালীর দিকে ছুটলেন তিনি।বললেন, বিকাল তিনটার দিকে টিকিট পাওয়ার পর ছুটে যান মহাখালীতে করোনার পরীক্ষার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাদের খুশির জোয়ারে মুহূর্তেই ভাটা নেমে এলো। করোনা পরীক্ষার নমুনা দিতে পারেননি তারা। শুক্রবার সকালে তাদেরকে আবারও নমুনা দেওয়ার জন্য মহাখালীতে যেতে হবে। বললেন, সকালে টেস্ট করতে যেতে বলেছে। কিন্তু আমাদের তো বিকালেই বিমানবন্দরে গিয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে, কারণ রাতে ফ্লাইট যাবে। শুক্রবার দুপুরের মধ্যে রিপোর্ট না পেলে আমাদের কী হবে।একই অবস্থার শিকার হয়েছেন বহু সৌদি প্রবাসী। দুপুরে টিকিট নিয়ে তারা মহাখালী গিয়ে দেখেন— নমুনা সংগ্রহ বন্ধ। একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন অনেকেই। তিনি বলেন, আমাদের সকালে যেতে বলেছে। কিন্তু ফ্লাইটের আগে রিপোর্ট না পেলে তো কি হবে আল্লাহই জানে।

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তারিখ অনুসারে যাত্রীদের টিকিট রি-ইস্যু করছে। করোনাভাইরাসের কারণে ১৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের আকাশপথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ১৬ মার্চ থেকে ক্রমান্বয়ে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর টিকিট রি-ইস্যু করছে বিমান।তবে দাম্মাম ও মদিনা রুটের যাত্রীদের এখনই টিকিট রি-ইস্যু করছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন জাতিরকন্ঠ কে বলেন, ‘আমরা রিয়াদ ও জেদ্দায় ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছি। তাই এ রুটের যাত্রীদের টিকিট রি-ইস্যু করা হচ্ছে। দাম্মাম ও মদিনার অনুমোদন পেলে সেই রুট গুলোতেও ফ্লাইট চলবে। নতুন ফ্লাইটের অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অন্য যাত্রীদেরও বুকিংয়ের শুরু হবে।