• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

টাকা ছাড়াই ৫দিন জুম মিটিং ডেসটিনি রফিকুল আমিনের


প্রকাশিত: ৯:৫১ পিএম, ১৬ জুলাই ২১ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৬৫ বার

ডেসটিনির এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত, ১৩ জনের নামে মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমইউ) প্রিজন সেলে টাকা ছাড়াই ৫দিন জুম মিটিং করেন ডেসটিনি’র রফিকুল আমিন। এর আগে খবর বেরিয়েছিল জুম অ্যাপসের মাধ্যমে মিটিং করতেন ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন। তিনি গভীর রাতে চার থেকে পাঁচদিন আধাঘণ্টা থেকে একঘণ্টার মতো জুম মিটিং করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জাতিরকন্ঠ কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্স মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি জাতিরকন্ঠ কে বলেন, গত ১০ জুলাই আমরা তদন্ত শেষ করে কারা অধিদফতরে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। ওই প্রতিবেদনে নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯টি সুপারিশনামা তুলে ধরেছি।
তিনি বলেন, তদন্তে ভিডিও দেখে ১৪ জন কারারক্ষীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন অবসরে গেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাকি ১৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, প্রিজন সেলে ডিউটিরত কারারক্ষীর দায়িত্ব অবহেলার কারণেই বন্দি রফিকুল এ সুযোগ নিয়েছে।

এছাড়া তদন্তে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি ৪ জেলারকে সতর্ক করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি সবকিছু সুপারিশনামায় রাখা হয়েছে। কারাবিধি লঙ্ঘন করায় বন্দির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে টাকার বিনিময়ে রফিকুল আমীনকে জুম মিটিং করার সুযোগ দেওয়া হয়নি
বলে দাবি করা হয়েছে। রফিকুল আমীন জিজ্ঞাসাবাদে নিজেই স্বীকার করেছেন মধ্যরাতে বাটন মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তিনি মিটিং করেছেন। তবে সেই মোবাইলগুলো পাওয়া যায়নি।

কারা অধিদফতর গঠিত তদন্ত কমিটি গত ১০ জুলাই আইজি প্রিজন্স বরাবর ৩৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে- ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেলে বসে পাঁচদিন জুম মিটিং করেছেন।

বন্দি রফিকুল আমিনের প্রিজন সেলে বসে জুম মিটিং করার খবর প্রকাশের পর কারা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব ও মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. নুরন্নবী ভূঁইয়াকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া ১৭ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। চার কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অবশিষ্ট ১৩ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।