• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ঝোপ বুঝে কোপ মারবে বিরোধীরা!


প্রকাশিত: ২:০৪ এএম, ১০ অক্টোবর ১৯ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১১১ বার

 

বিশেষ প্রতিনিধি :  ঝোপ বুঝে কোপ মারার ফর্মুলায় বিরোধীরা-তারা দেশের সামগ্রিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অনেকটা একযোগে কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে। জানা গেছে,এতে অংশ নেবে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট, জাতীয় মুক্তিমঞ্চসহ আরও কয়েকটি দল ও জোট। আজ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীতে একাধিক পৃথক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব কর্মসূচির ঘোষণা করা হতে পারে।একাধিক বিরোধী নেতা-জোট নেতারা জাতিরকন্ঠ কে বলছেন, এবার ঝোপ বুঝে কোপ মারতে হবে। সেজন্য তারা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান ও দোষীদের আটক করার পর ভারতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফেনী নদীর পানি দিয়ে আসা এবং সর্বশেষ বুয়েটে শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠ কে পুঁজি করতে চাইছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, ‘পরিস্থিতির চাপে’ কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও কেন্দ্রীয় দফতর বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলন করা হবে। এতে কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বক্তব্য দেবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

সূত্রগুলোর দাবি, গত এক মাসে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই রহস্যজনক ছিল। বুয়েটে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকবে বিএনপি।জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে কথা বলা হবে। সেখান থেকে কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।ওদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বৈঠক করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ বৈঠক থেকে কর্মসূচির ঘোষণা আসবে— এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ দুটি বৈঠকে বিএনপির কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। তবে কালকের বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর উপস্থিতি থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সুব্রত চৌধুরী।ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে করণীয় ঠিক করতে জোটের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মানববন্ধন, আলোচনা সভা বা অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। আবরার হত্যাকাণ্ডে বিচারের দাবিতে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবিতেও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।

ওদিকে-
জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। দলটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ড. কামাল দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে এই সংবাদ সম্মেলন থেকে কোনও কর্মসূচি আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।আর সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিসহ দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। গণফোরাম এককভাবে কর্মসূচি দেওয়ার অবস্থায় নেই। কর্মসূচির ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, দেশকে বাঁচাতে হবে।

এছাড়াও বিকাল ৩টায় এলডিপির সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। তারা-আবরার হত্যাকাণ্ড, প্রধানমন্ত্রী ভারতে সফরে তিস্তা চুক্তি না হওয়া, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের কোনও নির্দেশনা না থাকা, চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করবে বিএনপির নেতৃত্বধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।অলি আহমদ বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ড, সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা, মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ আসছে, ক্যাসিনো-কাণ্ডে সরকারদলীয় নেতাদের জড়িত থাকা— এসব বিষয়ে প্রতিবাদ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
কোনও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। তবে কর্মসূচির ধরন সম্পর্কে কালকে জানতে পারবেন।

সন্ধ্যায় ২০ দলীয় জোটের বৈঠকদীর্ঘদিন পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৬টায় গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠক থেকে কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এ বৈঠক ডাকা হয়েছে।এছাড়াও শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মদ-জুয়া, খুন, সন্ত্রাস বন্ধের দাবি ও আবরার হত্যার প্রতিবাদসহ ভারতের সঙ্গে ‘দেশবিরোধী’ সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা।