• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

জুয়ায় লোপাট প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাড়ে ৩কোটি


প্রকাশিত: ১২:৩৫ এএম, ৩০ জানুয়ারী ২০ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০৭ বার

স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলার জন্যই প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ভল্ট থেকে চুরি করেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম ফয়সাল। জুয়া খেলে এই টাকা তিনি হেরেছেন। ব্যাংকের টাকা চুরির কথা স্বীকার করে বুধবার বিকেলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ফয়সাল। তিন দিনের রিমান্ডে ফয়সাল স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হলে দুপুর ১২টার দিকে তাকে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে টাকা চুরির ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ্ আলমের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত টিম রাজশাহীতে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান শাহ্ আলম জানান, এই টাকা চুরির ঘটনায় ফয়সাল একাই নাকি ব্যাংকের আরো কেউ জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভোল্টে টাকা সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় অন্তত দু’জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকে। এক্ষেত্রে কী হয়েছে তাও দেখা হচ্ছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জাতিরকন্ঠ কে বলেন, ফয়সাল ব্যাংকের টাকা দিয়ে নিজের নামে সুবর্ণভূমি আবাসিক এলাকায় প্লট ও বাকি টাকা দুই বন্ধুকে ধার দিয়েছে বলে প্রথমে পুলিশকে জানায়। কিন্তু পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন অন্তত দু’বছর ধরে বীট ৩৬৫ অ্যাপেসর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ব্যাংকের ভোল্ট থেকে টাকা চুরি করে নিয়ে তিনি জুয়া খেলে হেরেছেন।

ফয়সাল পুলিশকে আরও জানায়, জুয়া খেলতে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরি করেছিলেন। ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ভোল্টে সবসময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকতো। টাকা রাখার ভল্টের সামনের লাইন ঠিক রেখে পেছনের লাইন থেকে তিনি টাকা চুরি করতেন। এতে করে ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তার সন্দেহ হতো না। ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে তিনিই দৈনিক টাকার হিসাব রাখতেন। খাতা-কলমে টাকার কোনো গড়মিল ছিল না।

তবে গত ২৩ জানুয়ারি ভোল্টের সমস্ত টাকা গণনার পর ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম পাওয়া যায়। এসময় তিনি টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন। প্রথমে তিনি বলেন, টাকাগুলো তার দুই বন্ধুকে এবং তার ব্যবসার একটি প্রকল্পের কিস্তি দিয়েছেন। টাকা ফেরত দেয়ার জন্য তিনি সময়ও চান। তবে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে রাত ১২টার দিকে তাকে পুলিশে দেন ব্যাংকের ম্যানেজার ও অন্য কর্মকর্তারা। পরে প্রিমিয়ার ব্যাংকের জোনাল ম্যানেজার সেলিম রেজা খান বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফয়সালের বিরুদ্ধে মামলা করেন।