‘জামায়াত’ প্রশ্নে ড.কামাল ‘খামোশ’ কেন!
এস রহমান : ব্যবহারে বংশের পরিচয়; কথাটি অনেকের মনে থাকলেও ড. কামাল বিষয়টি নিশ্চয় ভুলে গেছেন। তা না হলে তিনি শুক্রবার যেভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যবহার করলেন তাতে বোঝা যাচ্ছে না তিনি কোন বংশের? কিংবা তার আদৌ বংশ পরিচয় রয়েছে কিনা? তবে এটা বোঝা যাচ্ছে যে- তিনি ক্ষমতার দম্ভে বিভোর হয়ে গেছেন ইতো-মধ্যেই! এটাও মনে হচ্ছে যে, তিনি নিশ্চয়ই ক্ষমতার কাছাকাছি চলে এসেছেন এমন একটা ভাব তিনি প্রকাশ করেই ফেললেন তাঁর আচরন ও ব্যবহারে-!
ড. কামাল এও বলেছেন যে-, খামোশ কোথাকার..কি নাম তোমার-নামটা মনে রাখলাম দেখে নিব? তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে তিনি এটাই বোঝাতে চাচ্ছেন যে-ক্ষমতায় এলে তিনি ওই সাংবাদিকের ১৪ গুষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়বেন।তবে হাঁ-এটা না বললেই নয় যে, তার পাশে ছিলেন আ স ম আব্দুর রব। তিনিও ক’দিন আগে ৭১ টিভিতে অনুষ্ঠান চলাকালে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ‘বয়স’ জিজ্ঞাসা করে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তুলেছিলেন।
বিজ্ঞজনরা বলছেন, এমন আচরণ তারা ওইসময়’ই করেন যখন তাদের থলের বেড়াল বেড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়। ড. কামাল ও মি. রবের’ ক্ষেত্রে আসলে কি তা ঘটছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।
কামালের পাকিস্তানি মুখোশ উম্মোচন-
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সারাদেশে নৌকার গণজোয়ার দেখে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বেসামাল হয়ে পড়েছেন এবং বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো ড. কামাল হোসেনও বেপরোয়া আচরণ শুরু করেছেন।শনিবার দুপুরে নিজের নির্বাচনী এলাকা নেয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ যাওয়ার পথে ফেনীর দাগনভূঁঞয়ায় একটি সড়ক কাজের পরিদর্শনকালে এ কথা বলে ওবায়দুল কাদের।
কাদের বলেন, ভাবতেও অবাক লাগে, কামাল হোসেন এতো নিচে নামতে পারেন। তিনি খামোশ এই পুরাতন পাকিস্তানি শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি তার স্বরূপ ঢাকতে পারেননি। নষ্ট রাজনীতির কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। কিন্তু এখন তিনি প্রমাণ করলেন তিনিই নষ্ট রাজনীতির প্রবক্তা।
আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান ড. কামাল হোসেন নীতি নৈতিকতার কথা বলেন কিন্তু সারাদেশে নৌকার গণজোয়ার দেখে তারা বেসামাল হয়ে পড়েছেন।
জামায়াত-প্রশ্নে ড. কামালের ব্যবহার-
শুক্রবার ৮১ বছর বয়সী ড. কামাল জামায়াত প্রশ্নে ক্ষেপে ওঠেন। তিনি বলেন, বেহুদা কথা বলো। কত পয়সা পেয়েছ এই প্রশ্নগুলো করতে? কার কাছ থেকে পয়সা পেয়েছ? তোমার নাম কী? জেনে রাখব তোমাকে। চিনে রাখব। পয়সা পেয়ে স্মৃতিসৌধকে অশ্রদ্ধা কর তোমরা। আশ্চর্য!পাশে থাকা দু-একজন নেতা সে সময় কামাল হোসেনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু আরেকজন সাংবাদিক এ সময় প্রশ্ন চালিয়ে গেলে ধমকে ওঠেন কামাল। বলেন, শহীদদের কথা চিন্তা কর। হে হে হে হে করছ! শহীদদের কথা চিন্তা কর। চুপ কর। চুপ কর। খামোশ। পরে ড. কামাল প্রশ্ন করেন, ‘আশ্চর্য! তোমার নাম কী? … কোন পত্রিকার? … টেলিভিশন, জেনে রাখলাম—
ড. কামালের বিরুদ্ধে জিডি-
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন ইবির ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ও দৈনিক বাংলাদেশ সময়’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ড. মুস্তাফিজুর রহমান (মিঠুন মুস্তাফিজ)।
ইবি থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নম্বর-৬২১।
অভিযোগে ড. মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, ড. কামাল সাংবাদিকদের ভর্ৎসনা করে হুমকি ও ভয় ভীতি প্রদর্শন করেছেন। যা স্বাধীন মত প্রকাশে সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগের কপি
অভিযোগে আরও বলা হয়, শুক্রবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকরা ড. কামাল হোসেনের কাছে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের ভর্ৎসনা করেন এবং তাদের হুমকি দেন। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ ও বাংলাদেশ পেনাল কোড অনুযায়ী ফৌজদারী অপরাধ।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ সমকালকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা জিডি গ্রহণ করে কুষ্টিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়েছি। তিনি অনুমোদন দিলে তদন্ত করবো। তারপর ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা হবে।



