• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

জাফরুল্লাহকে প্লাজমা থেরাপি-


প্রকাশিত: ১০:২৫ পিএম, ২৬ মে ২০ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩০ বার

মেডিকেল রিপোর্টার : অবশেষে ডা. জাফরুল্লাহ করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালে তাকে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিসের পর ‘ও পজিটিভ’ ব্লাড গ্রুপের ২০০ মিলি প্লাজমা দেওয়া হয়। এরআগে গণস্বাস্থ্যে’র কিটে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে। ঈদের দিন রাতে তিনি নিজেই জাতিরকন্ঠ কে এ তথ্য জানান। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গতকাল রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় তার শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তিনি পরীক্ষা করান। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটেই তার পরীক্ষা করানো হয় বলে জানান তিনি। যার ফলাফল পজিটিভ এসেছে।

এর আগে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ শুরু হওয়ার কথা ছিল । তবে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর আজ এক চিঠিতে পরীক্ষা না করানোর জন্য অনুরোধ জানানোর পর ট্রায়াল কার্যক্রম স্থগিত করে প্রতিষ্ঠানটি। নিজের পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ল্যাবে তো আগেও এ কিটে ইন্টারনালি পরীক্ষা হয়েছে। আমার পরীক্ষাও তার অংশ।জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, রবিবার ইফতারের পর গণস্বাস্থ্যের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করার পর রেজাল্ট আসে পজিটিভ। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমাকে জানিয়ে দেওয়া হলো যে আমি পজিটিভ। আমার বাসায় আমি একাই আক্রান্ত। নিজে থেকে আইসোলেশনে আছি।

তার নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয় জানিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সপ্তাহে একদিন আমাকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। সেক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় আমি এটা করাবো। করোনা পজেটিভ আসার বিষয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন এখন কেবল অ্যান্টিজেন পজিটিভ হয়েছে। দুদিন পর অ্যান্টিবডি পজিটিভ হবে।সরকার তো গণস্বাস্থ্যের কিটকে এখনও অনুমোদন দেয়নি সেক্ষেত্রে সরকারি কোনও প্রতিষ্ঠানে আবার পরীক্ষা করাবেন কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমার করোনা পরীক্ষা আমাদের ল্যাবেই হয়েছে। আর সরকার তো আজকে অনুরোধ করেছে কালকে পরীক্ষা না করানোর জন্য। আমাদের ইন্টারনাল টেস্ট আমরা করবো না?

তিনি বলেন, ইন্টারনাল টেস্ট আমরা অনেক দিন ধরেই করছি। নিজেদের উদ্ভাবিত কিটে ‘ইন্টারনালি’ অন্তত কয়েকশ পরীক্ষা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করেছে বলে জানান তিনি।
এখন সরকারি কোনও প্রতিষ্ঠানে আপনি করোনা টেস্ট করাবেন কিনা—এমন প্রশ্নে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কেন করাবো, কোনও দরকার নাই। হাজার-হাজার মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে পরীক্ষা করাতে না পেরে। আমিও একজন হতাম তাহলে, ঘুইরা বেড়াতাম। এখন যতটা পরিস্থিতি শরীরের, তারচে খারাপ হতো। যে জায়গায় যেতাম, সেখান থেকেই রোগ বাঁধিয়ে আসতাম।গণস্বাস্থ্যের কিটে করোনা পজিটিভ আসার পর সোমবার রাত সোয়া নয়টা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি বলেও জানান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

জাফরুল্লাহকে প্লাজমা থেরাপি-

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালে তাকে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিসের পর ‘ও পজিটিভ’ ব্লাড গ্রুপের ২০০ মিলি প্লাজমা দেওয়া হয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সাইমুম আরাফাত পান্থ জাতিরকন্ঠ কে এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি জানান, তিনি গত প্রায় ছয় বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে তিনবার করে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। বুধবার (২৭ মে) তার পিসিআর টেস্ট করার সম্ভাবনা আছে। জ্বর আগের থেকে কমলেও এখন তার কাশি বেড়েছে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী এখনও হোম আইসোলেশনেই আছেন। বিকেল ৩ থেকে ৫ টা পর্যন্ত তার কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয়। এরপরেই প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়।
মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সন্ধানী’ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহায়তায় এ প্লাজমা ট্রান্সফিউশন সম্পন্ন হয়েছে। সন্ধানীর সেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্লাজমাদাতা খুঁজে বের করেছেন।