• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ছিয়াত্তরের পর দানবীয় সাইক্লোন ‘ফণী’


প্রকাশিত: ৪:৫৬ পিএম, ২ মে ১৯ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৬৫ বার

ঘূর্ণিঝড়-ফণির-প্রভাবে-ভারতের-অন্ধ্র-প্রদেশের-পোর্ট-সিটি-বিশাখাপত্তনমের-আকাশে-জমেছেকালো-মেঘ-

বিশেষ প্রতিনিধি : ছিয়াত্তরের পর সবচেয়ে বড় ও দানবীয় সাইক্লোন ‘ফণী’আতংকে সারাদেশে সর্ব্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সরকার। আবহাওয়াবিদদের মতে, ১৯৭৬ সারের পর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরে ও ভারত মহাসাগরে সবচেয়ে বেশী শক্তিশালী এই ফণী। ফণী’র আয়তন বাংলাদেশের আয়তনের চাইতেও বড়। বর্তমানে বিশাল এই ঘূর্ণিঝড়টির মুখ অধিকাংশই বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এবং আংশিক ভারতের উপকূলের দিকে। নিম্নচাপটি তিনদিন ধরে এক স্থানে স্থির থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে দানবীয় সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রের মতে, ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে ও ভারত মহাসাগরে যতগুলো ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে তার কোনোটি কখনই ‘ফণি’র মতো এতো শক্তিশালী আকার ধারণ করেনি। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সাধারণত ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। সেখানে উপকূলের কাছাকাছি আসার আগে এখনই ‘ফণি’র গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শুক্রবার ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে ‘ফণি’ আঘাত হানতে পারে। আছড়ে পড়ার সময় ফণির গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র সম্ভাব্য আঘাত থেকে বাঁচতে এরই মধ্যে উড়িষ্যা উপকূল থেকে ৮ লাখ মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে দেশটি।‘ফণি’ মোকাবেলায় বাংলাদেশও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপকূলীয় ১৯ জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে সেখানে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ফণী’র আয়তন বাংলাদেশের আয়তনের চাইতেও বড়। বর্তমানে বিশাল এই ঘূর্ণিঝড়টির মুখ অধিকাংশই বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এবং আংশিক ভারতের উপকূলের দিকে। নিম্নচাপটি তিনদিন ধরে এক স্থানে স্থির থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে দানবীয় সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে।বাংলাদেশের ভৌগলিক আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। আর ফণীর আয়তন ২ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি।তবে সম্প্রতি ভারতের কাছ থেকে পাওয়া ২৮ হাজার ৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার ভূমি এবং মিয়ানমারের কাছ থেকে পাওয়া ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র সীমাসহ বর্তমানে বাংলাদেশের আয়তন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৩৭ বর্গ কিলোমিটার।

বৃহস্পতিবার (২ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর ও চট্টগ্রামে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল, সেখান থেকে এখন উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে মোংলা থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এর চারদিকে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে ঘূর্ণিঝড়টি ভারতীয় উপকূল অতিক্রম করার পর বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া উপকূল অতিক্রম না করলেও বাংলাদেশে আসবে।

এটি ভারতীয় উপকূলে আঘাত করে দুর্বল না হয়ে যদি বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানে তাহলে তা ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় এবং সিডরের চেয়েও অনেক বেশি প্রবল বেগে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন এই তথ্য।আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমদ জানান, শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যায় ঝড়টি মূল আঘাত হানতে পারে। তবে এরা পরিবর্তনশীল। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসলেও এখন ফণী বেশ শক্তিশালী হয়ে গেছে। এখন তার গতি বেড়েছে।