• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ছাত্রলীগ ‘ডাকসু ভিপি’ হারল-যে কারণে


প্রকাশিত: ৪:৩৭ পিএম, ১২ মার্চ ১৯ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১২৪ বার

 

ঢাবি প্রতিনিধি : ডাকসু’র ভিপি হতে পারলনা কেন ছাত্রলীগ? তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। এনিয়ে ভোটের পরদিন ঘটলো ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ফলে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস। কিন্তু বৈরী আবহাওয়াটা কেন?অভিযোগ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন ছাত্রছাত্রীদের কাছে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের মনের কথাও বুঝতে সক্ষম হয়নি তারা। তাছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা নিয়েও ছাত্রলীগ ভিন্ন মতাবলম্বিদের নিজেদের কাছে টানতে পারেনি। ফলে ভিপি হাতছাড়া হয়ে চলে গেছে নূরদের হাতে।

এদিকে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিলে যোগ দিতে এসে হামলার মুখে পড়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মোর্চা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নূরুল হক নূর।মঙ্গলবার বেলা পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এই হামলার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে ছাত্রদল।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) পদে নুরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে গোলাম রাব্বানী নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

নুরুল হক কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে নির্বাচন করেন। অন্যদিকে জিএস পদে নির্বাচিত গোলাম রাব্বানী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।ঘোষিত ফলাফল অনুসারে ২৫ হাজারের কিছু বেশি ভোট প্রয়োগ হয়েছে। যা মোট ভোটারের ৫৯ শতাংশ। ভিপি পদে নুরুল হক পান ১১ হাজার ৬২ ভোট। এই নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ২৫৫ জন।

ওদিকে ডাকসু নির্বাচনেরে ভোট চলাকালে সোমবার দুপুরে রোকেয়া হলে গিয়ে নূর ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন বলে তার অনুসারীদের অভিযোগ। সেখান থেকে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে হাসপাতালেই তিনি ভিপি নির্বাচিত হওয়ার খবর পান।বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আনন্দ মিছিলে যোগ দিতে মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে আসেন নূর। বেলা দেড়টায় টিএসসি থেকে শুরু হয়ে আনন্দ মিছিলটি কলাভবন ঘুরে আবার টিএসসিতে হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জাতিরকন্ঠ কে জানান, নূর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে গেলে একদল তরুণ লাঠিসোটা নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। পাশাপাশি তার দিকে ঢিল ছোড়া শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে কয়েকজন সমর্থক নূরকে নিয়ে টিএসসির ভেতরে চলে যান।একই সময়ে টিএসসির সামনে আলাদাভাবে সভা করছিল ছাত্রদল, বাম জোট সমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলো এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট।

ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান খন্দকার বলেন, হামলাকারীরা সবাই ছাত্রলীগের। এ দলের নেতৃত্বে ছিল ফেরদৌস ও সায়েম। তিনি দাবি করেন, ‘ছাত্রলীগের’ হামলায় তাদের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে গেছে।নবনির্বাচিত ভিপি নূর পরে বেলা সোয়া ২টার দিকে তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। ছাত্রদল, বামজোট সমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলো ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোটও তাতে অংশ নেয়। এ সময় তারা স্লোগান দেন- “সন্ত্রাসীদের হামলা কেন? বিচার চাই, বিচার চাই।”