ছাত্রদলের হুজি ক্যাডার ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলাকারী ইকবাল পাকরাও

বিশেষ প্রতিনিধি : ছাত্রদলের হুজি ক্যাডার ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলাকারী সেই ইকবাল অবশেষে পাকরাও হয়েছে। ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইকবাল হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল মঞ্চে গ্রেনেড ছোড়ার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদে প্রশিক্ষণ নিয়ে হামলায় অংশ নেয় বলেও জানায় সে।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দেশের ইতিহাসে নৃশংস এক হামলার ঘটনা ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট। সেই সময়ের বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও নিহত হন আইভি রহমানসহ ২৩ জন, আহত হন অনেকে।এই ঘটনায় আদালতের রায়ে দণ্ডিত হন মোট ৩৬ জন। তাদের মধ্যে পলাতক আছেন ১৯ জন। তাদেরই একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ইকবাল। র্যাব জানায় সোমবার রাত ৩টায় দিয়াবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।
র্যাব জানায়, ২০০৩ সালে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের সংস্পর্শে আসে ইকবাল। এর আগে ঝিনাইদহে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদে প্রশিক্ষণ নিয়ে হামলায় অংশ নেয়। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার পর চার বছর দেশেই আত্মগোপনে ছিল ইকবাল ওরফে জাহাঙ্গীর। ২০০৮ সালে সে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যায়। র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জাতিরকন্ঠ কে বলেন, তাকে প্রাথমিকভাবে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে এইচএসসি পাস। স্কুল কলেজ থেকেই ছাত্রদলের সাথে যুক্ত। মুফতি হান্নানের নির্দেশে ইকবাল ২১ আগস্ট সরাসরি গ্রেনেড হামলার সাথে যুক্ত ছিল।
র্যাব মহাপরিচালক আরও জানান, ২০০১ সালে তার চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আসে এবং তিনি হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হন। মুফতি হান্নানের সংস্পর্শে তিনি আসেন ২০০৩ সালে। তখন থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। মুফতি হান্নান ও হুজি–বির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার সংস্পর্শে এসেছেন তিনি। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন গোপন বৈঠকেও অংশ নেন। মুফতি হান্নানের নির্দেশেই তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন এবং মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়েন। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় ২০২০ সালে দেশে ফিরতে বাধ্য হন ইকবাল।



