• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ঘরবন্দী পহেলা বৈশাখ-


প্রকাশিত: ৪:২২ এএম, ১৪ এপ্রিল ২১ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৪৬ বার

লাবণ্য চৌধুরী : ঘরবন্দী পহেলা বৈশাখ-ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ সাল। আজ বুধবার সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হলো বঙ্গাব্দ। আজ ১৪ এপ্রিল থেকেই দেশে শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের ‘কঠোর’ লকডাউন। সরকারি নানা বিধিনিষেধে এবার ঘরবন্দি সব আনন্দ আয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন, আজ জীবন বাঁচুক পরে উৎসব করা যাবে। জীবন বাঁচলে উদযাপন করা যাবে আরো অনেক নতুন বছর।

এবার করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকানোর যুদ্ধে আবারও রঙ হারালো বাঙালির নতুন বছর উদযাপনের উৎসব। রাজধানীতে রমনার বটমূল থেকে দিনের শুরুতে ভৈরবী রাগিনীতে বুধবার নতুন বছরের আগমনী বার্তা যেমন ঘোষিত হবে না, তেমনি বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রাও বের হবে না চারুকলা থেকে, উৎসবেও মাতবে না দেশ।এসব আয়োজন ঘিরে নগরজুড়ে রাস্তায় থাকবে না বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত মানুষের পদচারণা। এখানে সেখানে বসবে না মেলা। নাগরদোলায় ছোটদের সঙ্গে শখ করে বড়দেরও দোল খাওয়া হবে না।

করোনাভাইরাস মহামারীর বিস্তারে গতবছরও বর্ণহীনভাবে কাটে বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’। সেবারও নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশে ও বিদেশে ঘরবন্দী বৈশাখ কাটে বাঙালিদের। এবার আশা ছিল করোনাভাইরাস মুক্ত নতুন ভোরের। তা হচ্ছে না মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ আরও বেশি ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে আসায়।

শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের ‘কঠোর’ লকডাউন। এ সময় সব অফিস, গণপরিবহন বন্ধের পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এই সময় অতি জরুরি দরকার ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বিধিনিষেধের আগে আশা ছিল এবার বৈশাখে আবার জমবে মেলা। মহামারীর অতি বিস্তারে তা আর হচ্ছে না। এর আগে অবশ্য বাংলা বর্ষবরণকে সামনে রেখে বরাবরের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের দেয়ালে আঁকা হয়েছে আল্পনা। তবে মহামারীর কারণে এবারও হচ্ছে না মঙ্গল শোভাযাত্রা।

মহামারীর কারণে গত বছরও পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়নি। তবে মুজিববর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষকে গুরুত্ব দিয়ে এবার মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত পরিসরে ১০০ জনের ‘প্রতীকী’ মঙ্গল শোভাযাত্রার সিদ্ধান্ত ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এ উপলক্ষে চারুকলা অনুষদ ইতোমধ্যে বিভিন্ন রঙের মুখোশ, সরা ও নানারকম ফেস্টুনও তৈরি করেছে। চারুকলার প্রাচীরগুলো রাঙানো হয়েছে আল্পনায়। সরকারের লকডাউনের ঘোষণা আসলে সব আয়োজন বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ফসলি সন হিসেবে মুঘল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা বাঙালির সার্বজনীন উৎসবে রূপ নেয়; শুধু তাই নয় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বলীয়ান করে বাঙালিকে লড়াইয়ের প্রেরণাও দিয়ে আসছে এই উৎসব। আনন্দের এই দিনটি ঘিরে প্রস্তুতির সময়কেও নিরানন্দ করে দিয়েছে করোনাভাইরাস, মহামারীর রূপ নেওয়া এই মারাত্মক সংক্রামক রোগের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে বাংলাদেশে।