গোয়েন্দাজালে ধরা ৪ ধর্ষক ছাত্রলীগার

সিলেট প্রতিনিধি : অবশেষে গোয়েন্দা পুলিশের পাতা জালে ধরা পড়ল সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণকারী ৪ ছাত্রলীগার।এই ধর্ষক ছাত্রলীগাররা হচ্ছে অর্জুন লস্কর, সাইফুর, মাহবুবুর রহমান রনি ও রবিউল ইসলাম। রোববার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে মাহবুবুর রহমান রনিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রবিউল ইসলামকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিউলকে গ্রেফতারের বিষয়টি রোববার রাত সাড়ে ৯টায় জাতিরকন্ঠ কে নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলী।
রোববার সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জালে ধরা পড়ে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণ মামলার আরেক আসামি অর্জুন লস্কর (২৫)। তাঁকে রোববার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়ে মাধবপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, পুরো অভিযানটি ছিল গোয়েন্দা পুলিশের। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ধর্ষণের ঘটনার পর এমসি কলেজ ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে জকিগঞ্জে নিজের বাড়িতে যান অর্জুন। পরের দিন বিকেলে জকিগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেন।
সেখান থেকে তিনি জকিগঞ্জের বাড়িতে এক ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। ভাইয়ের সঙ্গে একাধিকার তাঁর যোগাযোগ করার তথ্য পায় গোয়েন্দা পুলিশ। সকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মাধবপুরের মনতলা এলাকায় পৌঁছায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অর্জুনের অবস্থান শনাক্ত করে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মনতলা গ্রামে অর্জুনের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম দস্তগীর জাতিরকন্ঠ কে বলেন, অর্জুনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি মাধবপুর থানাকে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে শুধু অবহিত করা হয়েছে। পুরো অভিযানটি পরিচালনা করেছে গোয়েন্দারা। অর্জুনকে গ্রেপ্তারের পর সেখান থেকে সরাসরি সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে সিলেট জেলা গোয়েন্দা এক কর্মকর্তা জাতিরকন্ঠ কে বলেন, অর্জুন লস্করকে সিলেট এনে সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে (২৮) সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্ত হয়ে ভারতে পালানোর সময় রোববার ভোর ছয়টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ভোর ছয়টার দিকে সাইফুরকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সাইফুরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ছাতক থানা থেকে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এমসি কলেজ সূত্র জানায়, অর্জুন এই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।ঘটনার শুরু সিলেটের ১২৮ বছরের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজের ফটকের সামনে থেকে। ফটকটি সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশেই। ফটকের ভেতরের মাঠে অনেকে বেড়াতে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই দম্পতিও সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে স্বামী গিয়েছিলেন সিগারেট কিনতে। ফিরে এসে দেখেন, স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করছেন কয়েকজন তরুণ। স্বামী প্রতিবাদ করলে মারধর করে তাঁদের দুজনকে গাড়িসহ জোর করে তুলে নিয়ে যান ওই তরুণেরা।
এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতরে একেবারে শেষ প্রান্তে নেওয়ার পর স্বামীকে একটা স্থানে আটকে রাখেন তাঁরা। তরুণীকে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের একটি কক্ষের সামনে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ঘণ্টাখানেক পর স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে দুর্বৃত্তরা এলাকা ত্যাগ করেন। তরুণীর স্বামীর বরাত দিয়ে পুলিশ সাংবাদিকদের এ ঘটনা জানায়। ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি আছে।



