• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

গোপালগঞ্জের ৪ মুন্সির টাকার পাহাড়ে দুদকের হানা


প্রকাশিত: ৮:৩৪ পিএম, ৩০ জুলাই ২০ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩৫৩ বার

লাবণ্য চৌধুরী : গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানির লুটেরা মুন্সিদের টাকার পাহাড়ে এবার হানা দিল দুদক। আটকে দিল কোটি টাকা। দুদক জাতিরকন্ঠ কে জানায়, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন হচ্ছে নাটের গুরু। ওরা চার ভাই ক্রিমিনালি করে সরকারের কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে। ওরা গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের বাট্টইডোবা গ্রামের বাসিন্দা। বাবার নাম মৃত মুন্সী আহমেদ আলী। মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন এলাকায় পরিচিত ঝন্টু মুন্সী হিসেবে। ওর আপন বড় ভাই মুন্সী ফররুখ হোসাইন ওরফে মিন্টু মুন্সী সাজাইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইনের ভাই মিন্টু মুন্সী জাতীয় পার্টি করলেও এখন আওয়ামী লীগ করেন বলে কাশিয়ানীর বাসিন্দারা জানান। গোপালগঞ্জের সাবেক একজন মন্ত্রীর পরিচয় সামনে রেখে মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন ওরফে ঝন্টু মুন্সী, ভাই মুন্সী ফররুখ হোসাইন ওরফে মিন্টু মুন্সী, মুন্সী ফারুক হোসাইন ওরফে পিন্টু মুন্সী ও আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে নান্টু মুন্সী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ঠিকাদারি শুরু করে নানা কারসাজির মাধ্যমে বনেছেন টাকার কুমির।এরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বহুল আলোচিত ‘মিঠুবিরোধী সিন্ডিকেট’ হিসেবে পরিচিত। সরঞ্জাম সরবরাহ না করে বিল তুলে নেওয়া, নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ ও ৪০ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে এই চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এরাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের বহুল আলোচিত পর্দা কেলেঙ্কারির নেপথ্য নায়ক।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে কোটি টাকা পাচারচেষ্ঠা ঠেকিয়ে দিয়েছে দুদক। বৃহস্পতিবার দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজের স্বাক্ষরে এক জরুরি পত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইউকে এই অর্থ অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার অনুরোধ করা হয়। পত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, তার ভাই মুন্সী ফারুক হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে থাকা এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন ফ্রিজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেনের দুর্নীতির বিষয়টি দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের টিম অনুসন্ধান করছে। পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন হাসপাতালে মেডিকেল যন্ত্রপাতি সরবরাহের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে মুন্সী সাজ্জাদ হোসেনসহ তার চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

দুদক সূত্র জানায়, প্রাইম ব্যাংক, ইব্রাহিমপুর শাখাসহ বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গিয়ে এবং ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করে অন্যত্র স্থানান্তর এবং পাচার করার চেষ্টা করছিলেন মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন। ওই ব্যাংকে মুন্সী ফারুক হোসেনের মালিনাধীন আহাদ এন্টারপ্রাইজের নামে ৭ কোটি টাকার এফডিআর যা সুদসহ ৯ কোটি টাকা রয়েছে। দুদক মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, মুন্সী ফারুক হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুনের নামে ব্যাংকে থাকা এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানো এবং ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনসহ সব লেনদেন বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএফআইউকে অনুরোধ করলে তারা টাকাপাচার বন্ধ করে হিসাব ফ্রিজ করে দেয়।

মুন্সিদের টাকার পাহাড়

কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাজাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মুন্সী ফররুখ হোসাইন ওরফে মিন্টু মুন্সী একসময় জাতীয় পার্টি করতেন। তার ভাই মুন্সী সাজ্জাদসহ অন্য ভাইয়েরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের এক আত্মীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। সেই সুযোগে তারা ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন। দুদকের মামলায় তারা দুই ভাই কারাগারে ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির রাজনীতি করা মুন্সী সাজ্জাদ ও তার ভাইয়েরা গোপালগঞ্জের সাবেক একজন মন্ত্রীর সঙ্গে সখ্য গড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ঠিকাদারি শুরু করেন। ঠিকাদারির নামে তারা কোটি কোটি টাকা লুট করেছেন। স্থানীয়ভাবে ইাইব্রিড আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচিত ঝন্টু মুন্সী, মিন্টু মুন্সী, পিন্টু মুন্সী ও নান্টু মুন্সীর নামে এলাকায় অভিযোগের শেষ নেই। একসময় হত্যা মামলার আসামি ছিলেন পিন্টু মুন্সী। মুন্সী ফররুখ হোসাইন ওরফে মিন্টু মুন্সী আগে জাতীয় পার্টি করলেও বিএনপির আমলে বিএনপি করতেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগ। তিনি আবার কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। হোসাইন ওরফে পিন্টু মুন্সী এখনো কেন্দ্রীয় বিএনপির কমিটিতে আছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চার ভাই স্বাস্থ্য’র টাকা লুট করে আঙ্গুল ফুলে বটগাছ বনে যান। কাশিয়ানী সদরে তাদের আলিশান বাড়ি, গ্রামের বাড়িতে বিপুল সম্পত্তি ও ঢাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ও ফ্ল্যাট এবং গাড়ির মালিক হয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন নিজের ভাই, ভগ্নিপতি ও আত্মীয়দের নামে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খুলে ঠিকাদারি শুরু করেন। সরঞ্জাম সরবরাহ না করে বিল তুলে নেওয়া, নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ ও ৪০ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে পণ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে মুন্সী সাজ্জাদ ও তার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, দুদকের সুপারিশের পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিম্নমানের এবং অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহের অভিযোগ মুন্সী ফররুখ হোসাইন, মুন্সী হোসাইন, মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন ও আবদুল্লাহ আল মামুনের দুটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে মুন্সী ফররুখ হোসাইনের মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ ও আবদুল্লাহ আল মামুনের অনিক ট্রেডার্স।

এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় এবং অবৈধভাবে প্রাক্কলন ব্যতীত উচ্চমূল্যে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা থাকার সুযোগে নিজের ভাই ও ভগ্নিপতির নামে অন্তত ৫টি কোম্পানি খোলেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুন্সী সাজ্জাদের তিন ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। তার মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (সজেকা) অনিক ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে মামলা করেন সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। ওই মামলায় ঠিকাদার, চিকিৎসকসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গণপতি বিশ্বাস, গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট মিনাক্ষী চাকমা, সাবেক প্যাথলজিস্ট এ এইচ এম নুরুল ইসলাম, অনিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, আহমেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্সী ফররুখ হোসাইন ও ঢাকার জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ না থাকলেও সেখানকার জন্য অন্তত ৪০ গুণ বেশি দামে রোগীকে আড়াল করে রাখার প্রতি সেট পর্দা কেনা হয়েছে। ২০১৪ সালে ফরিদপুর মেডিকেলের জন্য অনিক ট্রেডার্সকে ১০টি পণ্য সরবরাহের জন্য ১০ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় ওই সব সরঞ্জামের দাম বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি ধরে ১০ কোটি টাকা বিল জমা দেওয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিল অনুমোদন না করায় তা আটকে যায়।

ওই সব সরঞ্জাম সরবরাহের পর যে বিল জমা দেওয়া হয়, এতে আইসিইউতে ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়। একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একটি ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একটি বিএইইস মনিটরিং প্ল্যান্ট ২৩ লাখ ৭৫ হাজার, তিনটি ডিজিটাল ব্লাড প্রেশার মেশিন ৩০ লাখ ৭৫ হাজার, একটি হেড কার্ডিয়াক স্টেথিসকোপের দাম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। কার্যাদেশ পাওয়ার পর অনিক ট্রেডার্স ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মালামাল সরবরাহ করে এবং ৭ কোটি ৬০ লাখ ও ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার দুটি বিল মিলিয়ে ১০ কোটি টাকার বিল জমা দেয়।

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান তিনটির মালিক আপন তিন ভাই। ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন মূলত প্রতিষ্ঠান তিনটি চালান। তার দুই ভাই মুন্সী ফররুখ হোসাইন ও আবদুল্লাহ আল মামুনের নামে প্রতিষ্ঠানগুলো চালানো হয়। কাগজ-কলমে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিলেও মুন্সী সাজ্জাদই ছিলেন ওই টেন্ডারের মূল নিয়ন্ত্রক।

দুদকের মামলায় মুন্সী সাজ্জাদ ও আবদুল্লাহ আল মামুন বিচারিক আদালতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আত্মসমপর্ণ করেন। পরে ২১ জুন দুই আসামিকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের জামিন দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। তিনি জানান, বিলের টাকা উত্তোলন না করার শর্তে নিয়মিত কোর্ট খোলার এক সপ্তাহ পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন। আর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিলের টাকা দাবি করতে পারবেন না।

এদিকে গত বছরের ২৫ নভেম্বর বেশি দামে যন্ত্রপাতি কিনে মোট ৯ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইনের আরেক ভাই মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্সী ফারুক হোসাইন ও চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরীসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা করে দুদক। চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক মামলাটি করেন। মামলায় বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৯ মে থেকে ২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এভাবে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহের নামে ৯ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এমআরআই যন্ত্রের বাজারমূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এটি কিনতে তারা ব্যয় দেখিয়েছেন ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চারটি কালার ডপলারের বাজারমূল্য ১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।