• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

খালেদার কার্লাইল মিশন দিল্লীতে ফেল


প্রকাশিত: ৩:৫২ পিএম, ১২ জুলাই ১৮ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৮৬ বার

বিশেষ প্রতিনিধি :  খালেদা জিয়ার আইনজীবী কার্লাইল এর দিল্লী মিশন অবশেষে ফেল হয়েছে। দিল্লী ঢুকতে পারেনি কার্লাইল। karlile khalada-www.jatirkhantha.com.bdআমাদের দিল্লী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কারাবন্দী খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শক ব্রিটিশ আইনজীবী ও সাংসদ লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইলকে দিল্লী বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে ভারত। তিনি দিল্লিতে যাচ্ছিলেন একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে, যেখানে তুলে ধরা হতো খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা বিএনপির বলা ‘ভিত্তিহীন অভিযোগগুলো’র বিভিন্ন দিক।

লন্ডন থেকে উড়ে এসে বুধবার দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরপরই তাকে অনুপযুক্ত ভিসার কারণে ফেরত পাঠানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেন, ভারতে তিনি যেসব কাজ করবেন তা ভিসা আবেদনে উল্লেখ ছিল না। তাছাড়া যেসব কাজ তিনি করতে যাচ্ছিলেন তা ভিসার সঙ্গে বেমানান ছিলো। যদিও  ভারতে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আগেই নেয়া ছিলো।

khaleda_zia-www.jatirkhantha.com.bdএর আগে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।  লর্ড কার্লাইল বলেন, তিনি ঢাকা আসার অনুমতি পাননি। তাই ভারতেই তিনি একটা সংবাদ সম্মেলন করতে চান। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্প্রদায়কে খালেদা জিয়া মামলার জটিলতাগুলো ব্যাখ্যা করতে চান।

বিভিন্ন বিচারিক ভূমিকা পালন করা লর্ড কার্লাইলকে এই বছরের মার্চে বিএনপি নেত্রীর জন্যে আইনি দলে নিয়োগ দেয়া হয়। এই বছরের ফেব্রুয়ারিকে এক মামলায় অভিযুক্ত প্রমাণিত হয়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।সূত্র জানায়, দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব তার শুক্রবারের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে দিলেও কার্লাইল আজ বৃহস্পতিবার দিল্লি পৌছান।

কিন্তু কার্লাইল এর টার্গেট ছিল অন্য কোনো জায়গায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মিলিত হবেন।এটা তিনি বিবিসিকেও জানিয়েছিলেন। তার মূল কাজ ছিল- টাকা নিয়ে খালেদার পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করা।কার্লাইল মিডিয়াকে জানাতে চেয়েছিল বাংলাদেশে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি কেন ‘সাজানো’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ’।

কিন্তু সরকার কার্লাইলের গোপন ফন্দি ধরতে পেরে দিল্লীকে জানায়।একাধিক সূত্রে জানা গেছে, লর্ড কার্লাইল দিল্লিতে আসছেন এ খবর জানাজানি হওয়ার পরই ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন ভারতের কাছে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। এমনকি দুই-তিনদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ভারত সফরে এসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর এবং রাম মাধবের মতো বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতের সময় প্রসঙ্গটি উঠিয়েছেন।

ঢাকার পক্ষ থেকে যে যুক্তি দেয়া হয়েছে সেটি এরকম- লর্ড কার্লাইল খালেদা জিয়ার হয়ে মামলা লড়তে আর্থিকভাবে চুক্তিবদ্ধ। ফলে দিল্লিতে তিনি যেসব কথা বলতে আসছেন সেগুলো একটা ‘পেইড রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে’র অংশ যার নিশানা হল বাংলাদেশ সরকার।ঢাকার পক্ষ থেকে এমন কথাও বলা হয়েছে যে এখন বাংলাদেশ যেভাবে তাদের ভূখণ্ডকে ভারতবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হতে দেয় না, সেভাবে ভারতেরও উচিত নয় দিল্লির মাটিকে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হতে না দেওয়া।

এর আগে লর্ড কার্লাইল বিবিসিকে হোয়াটসঅ্যাপে জানিয়েছেন, তার দিল্লি সফর মোটেও বাতিল হচ্ছে না এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা নিয়ে তিনি কথা বলতে চান, সেটাও দিল্লিতে অবশ্যই বলবেন। গত সোমবার লর্ড কার্লাইল বিবিসিকে বলেন, তার ভারতীয় ভিসা হয়ে গেছে।