• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী মৌলভীবাজারে


প্রকাশিত: ২:৪৮ পিএম, ১৭ জুন ১৮ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০৭ বার

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি   :  মৌলভীবাজার পৌর এলাকার বাড়ৈকোনার মনু নদ বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে শহরের একাংশ প্লাবিত হয়ে গেছে। ফলে উপজেলা পরিষদ, বড়হাট, বাড়ৈকোনা ও আশপাশের এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে এই বাঁধ ভেঙে শহর এলাকায় পানি প্রবেশ করতে থাকে। সদর উপজেলা পরিষদসহ প্রাঙ্গণসহ বড়হাট ও বাড়ৈকোনা এলাকা বুক সমান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। শহরের কুসুমবাগসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় মৌলভীবাজার-শেরপুর অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা শহরের সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, পিটিআই, টেকনিক্যাল স্কুল ও পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে বানবাসী মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধারে ও বাঁধের অপরাপর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পানি আটকাতে সেনাবাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণ কাজ করছেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের পেছন দিকে বাড়ৈকোনা নামক স্থানে মনু নদ বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে উপজেলা শহরে পানি প্রবেশ করে। এতে উপজেলা পরিষদসহ আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

বড়হাট গ্রামের জাসদ জেলা কমিটির একাংশের সভাপতি আসম সালেহ সুহেল বলেন, পানি প্রবেশ করে উপজেলা পরিষদের সামনের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দ্বারক, পাগুলিয়া, হিলালপুর, বাহারমর্দান ও সম্পাসিসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বাড়ৈকোনা গ্রামের প্রফুল্ল দাস বলেন, পানিতে ঘরে কোমর সমান পানি। পরিবার পরিজন ও নিকটাত্মীয়রা দু’তলায় আশ্রয় নিয়েছেন। নিচতলার মালামাল পানিতে ভাসছে।

এ দিকে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সে. মি. ওপর দিয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর পয়েন্টে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সদর উপজেলার হামরকোনা, দাউদপুর ও ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় কুশিয়ারা নদী বন্যা প্রতিরক্ষা ডাইকের বিভিন্ন অংশে পানি উপছে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ফলে শতাধিক পরিবার বন্যা কবলিত হয়েছে। এছাড়া শেরপুর পুরাতনবাজার লঞ্চ এলাকা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানান স্থানীয় খলিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান অরবিন্দ পোদ্দার বাচ্চু।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নরেন শংকর চক্রবর্তী বলেন, শনিবার সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত মনু নদে ১৭৬ সে.মি. বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। মধ্যরাতের পর থেকে পানি নিম্নমুখী হয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত কমে গেলে মনুসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমবে। মৌলভীবাজার শহর রক্ষা ও বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বালু ভর্তি বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা চলছে।