• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

‘কয়েক পুলিশ কর্তাকে হত্যার চক্রান্ত হচ্ছে’


প্রকাশিত: ১১:৩২ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ১৮ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩০ বার

শফিক রহমান : নির্বাচনের আগে পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সরকারবিরোধীরা হত্যার ষড়যন্ত্র করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘নির্বাচনের আগে পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে সরকারবিরোধীরা। লন্ডন থেকে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখনও শুনি নির্বাচন সামনে রেখে তাদের মূল টার্গেটই হবে পুলিশের কিছু উর্ধ্বতন কয়েকজনকে মেরে ফেলা। এতেই নাকি সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। তাদের দুইটা পরিকল্পনা। সেই একটা ক্রিমিন্যাল আছে, লন্ডনে বসে বসে পরিকল্পনা করে। একটা হচ্ছে, পুলিশকে পয়সা দিয়ে হাত করা আরেকটা হচ্ছে এদেরকে হত্যা করে এদের ‘ডিমোরালাইজড’ করা। এই দুইমুখী পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগুচ্ছে।

আজ সন্ধ্যায় আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তাদের পর এবার ৮৮ জন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছেন। পুলিশের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তারা গণভবনে এসে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও আস্থার কথা জানান।

শুধু তাই নয়, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকবেন এমন কথাও বলেন কয়েকজন তাদের বক্তব্যে। সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের সঞ্চালনায় বেশ কয়েকজন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।সংহতি ও সমর্থন জানানো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি ১৫ জন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ১৫ জন, সাবেক ডিআইজি ২৪ জন, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি তিনজন, সাবেক এআইজি ও পুলিশ সুপার ১১ জন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১৫ জন।

পুলিশকে নিয়ে লন্ডনের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, তারা যেটা চিন্তা করে তা না। এখন পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতা অর্জন করেছে, অনেক আত্মবিশ্বাস তাদের মাঝে ফিরে এসেছে, তাদের যে দায়িত্ব তারা সেটা কঠিন ভাবে পালন না করলে এই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন আমরা করতে পারতাম না। আজকে জঙ্গিবাদ-দুর্নীতিবাজ-মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে এতে আমরা সফল হতে পারতাম না। সবথেচে বড়ো কথা, জনগণের সর্মথন আছে। এখন পুলিশের ওপর জনগণের একটা বিশ্বাস, আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিশ্বাসটাই সবথেকে কার্যকর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিক থেকে আমি মনে করি, যেকোনো দূর্যোগ আসলে তা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা আমাদের আছে। আর আমাদের মানুষও এখন এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। মানুষের সচেতনতাটাই সবচেয়ে বড়ো শক্তি।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জেটের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘এই খুনী, অগ্নিসংযোগকারী, পুলিশের লোকদের হত্যাকারী, যেভাবে তারা হত্যা করেছে চিন্তা করা যায় না। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা, পিটিয়ে পিটিয়ে মারা, এতো জঘন্য কাজ তারা করতে পারে। এরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে।’আওয়ামী লীগের ভিশনের কথা জানিয়ে দলটির সভাপতি বলেন, ‘একটা সময় আমরা হয়তো থাকবো না আমাদের প্রজন্ম থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারাও যেন একটা সুন্দর জীবন পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

আওয়ামী লীগের প্রতি সংহতি জানানো পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হলেন- সাবেক পিএসপি কর্মকর্তা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক আইজিপি এ টি আহাম্মেদুল হক চৌধুরী, সাবেক সচিব ও পুলিশ কর্মকর্তা মো. মমিনউল্লাহ পাটওয়ারী, সাবেক আইজিপি কুতুবুর রহমান, মো. শামসের আলম, এ কে এম এনায়েতউল্লাহ দেওয়ান, মো. আব্দুর রউফ, মো. আওলাদ হোসেন মিয়া, কাজী বজলুর রহমান, মো. আব্দুল হাননান, মো. রুহুল আমিন, মুহ. আব্দুল হাননান খান, এম সানাউল হক, মো. নুরুল আনোয়ার, এ কে এম শহীদুল হক।

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. সরওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আবদুর রহিম খান, মো. নুরুল আলম, মো. আলী ইমাম চৌধুরী, মো. ফজলুল হক, মো. আব্দুর রহিম, খন্দকার মোজাম্মেল হক, গোলাম মোস্তফা, মো. লুৎফর রহমান মিয়া, মো. মতিউর রহমান, মো. আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল মাবুদ, আমূল্য ভূষণ বড়ুয়া, মো. নাজমুল হক, ফাতেমা বেগম, বিনয় কৃষ্ণ বালা, নওশের আলী।

সাবেক ডিআইজি মো. আবু হানিফ, দেওয়ান হাবিবুল্লাহ, মো. সফিক উল্লাহ, খন্দকার সাহেব আলী, কাজী নজরুল ইসলাম, মো. মোখলেসুর রহমান, শাহ আলম সিকদার, পি আর বড়ুয়া, মো. তোফাজ্জল হোসেন, মো. ওয়ালিউর রহমান, নিরাবরণ কুমার চন্দ, মোস্তফা জামাল উদ্দিন আল আজাদ, কাজী আনোয়ার হোসেন, মো. আলতাফ হোসেন মোল্লা, চৌধুরী আহসানুল কবীর, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মোস্তাক হোসেন খান, সফিকুর রহমান, মকবুল হোসেন ভূঁইয়া।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা, মীর নওশের আলী, মো. সিরাজুল ইসলাম, আওরঙ্গজেব খান লেনিন, নূর মোহাম্মদ।