• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ক্যান্সারে এ্যান্সারহীন খোকা নেই-


প্রকাশিত: ৮:২৬ পিএম, ৪ নভেম্বর ১৯ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৭০ বার

 

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি : ক্যান্সারে এ্যান্সারহীন খোকা নেই-। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জাতিরকন্ঠ কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ মে থেকে সপরিবারে নিউইয়র্কে থাকা খোকা ম্যানহাটনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল তাকে।

নিউইয়র্কে অবস্থানরত সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন ফেসবুকে জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রোববার রাত ২টা ৫০ মিনিটে সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যু হয়।মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি। বিএনপির বর্তমান কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন তিনি।

রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেটের কার পার্কিংয়ের ইজারা দুর্নীতির মামলায় খোকাসহ ৪ জনের ১০ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড হয়। গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় খোকাসহ আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

জুরাইন কবরস্থানে দাফন হবে-

ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।সাদেক হোসেন খোকার শ্যালক শফিউল আলম আজম খান জাতিরকন্ঠ কে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাদেক হোসেন খোকার ইচ্ছা অনুযায়ী জুরাইন কবরস্থানে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

তিনি বলেন, দুই বছর আগে সাদেক হোসেন খোকার বাংলাদেশ পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হবার পর, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসে তিনি মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেও জবাব পাননি। এখন তার মৃতদেহ ঢাকায় নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট প্রয়োজন।তিনি জানান, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে ট্রাভেল ডকুমেন্টের জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন। সেই কাগজ হাতে পাবার পরই তাঁর মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সময়ক্ষণ পরিবার ঠিক করবেন।

খোকার বর্ণাঢ্য জীবন-

১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সাদেক হোসেন খোকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পরিবারের অজ্ঞাতে যুদ্ধে চলে যান।১৯৭১ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন নেতা রুহুল আমীন এবং গোপীবাগের মাসুদসহ (বুড়া) বেশ কয়েকজন মিলে প্রথমে সাদেক হোসেন খোকারা যান নরসিংদীর শিবপুরে। সেখানে কয়েক দিন অবস্থানের পর যুদ্ধের ট্রেনিং নেয়ার জন্য আগরতলায় পৌঁছলে তাদের রিসিভ করেন শহীদুল্লাহ খান বাদল (রাশেদ খান মেননের ছোট ভাই)। সেখান থেকে প্রথমে বটতলাস্থ সিপিএম অফিস এবং পরে যান দুই নম্বর সেক্টরে। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ছিলেন সেই সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার। সেখানে মেজর হায়দারের (পরে কর্নেল হায়দার) নেতৃত্বে ঢাকার মুক্তিযোদ্ধারা নেন গেরিলা প্রশিক্ষণ। দুই নম্বর সেক্টরের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের নাম ছিল ‘মেলাঘর’।

মেলাঘরের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বসবাসের জন্য একেবারেই উপযুক্ত ছিল না। পাহাড় আর ঘন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল চারিদিক। লাল মাটির উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ একটু বৃষ্টি হলেই বেশ পিচ্ছিল হয়ে পড়তো। শৌচকর্ম সারতে যেতে হতো বনের ভেতরে। এ ক্যাম্পে বেশিরভাগই ছিল ঢাকা শহরের ছেলে, ফলে এ রকম পরিবেশে থাকতে তারা অভ্যস্ত ছিলেন না। তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মরহুম মেসবাহ উদ্দিন সাবু এক সঙ্গে থাকতেন। এ ক্যাম্পেই তার সাথে যাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয় আবু সাইদ খান, শাহাদত চৌধুরী, ফতেহ আলী চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সুলতান উদ্দিন রাজা, আতিকুল্লাহ খান মাসুদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, পল্টনের মানিক (পরে শহীদ), গাজী গোলাম দস্তগীর, মিজান উদ্দিন আহমেদ, শহিদুল্লাহ, শিল্পী শাহাবুদ্দিন, মাসুদ, কাজী ভাই, উলফাৎ ও বাকী (পরে শহীদ) তাদের মধ্যে অন্যতম।

মেজর হায়দারের অধীনে তিন সপ্তাহ গেরিলা ট্রেনিং শেষে তারা সম্মুখ যুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন গাফফারের (পরে জাতীয় পার্টি নেতা ও মন্ত্রী) নেতৃত্বাধীন সাব সেক্টরে। সেখানে ট্রেনিং শেষ করার পর প্রথমদিকে কসবা-মন্দভাগ (মির্জাপুর) যুদ্ধের নয় মাসই প্রতিদিন এক বা একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং তার দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।২০০১ সালে তার দল সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। এরপর তিনি সরাসরি নির্বাচনে জয় লাভের মাধ্যমে ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন।কিডনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৪ সালের মে মাসে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান সাদেক হোসেন খোকা।