কে হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু ছবির নায়ক?

শফিক রহমান : কে হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু ছবির নায়ক? যার কন্ঠ হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মতো জলদ গম্ভীর কণ্ঠ। কার কন্ঠের সঙ্গে মিলবে এই মহান নেতার! তা নিয়েও চলছে আলোচনা। বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি আদর্শের নাম। পৃথিবীর কোনো দেশে এমন রাষ্ট্রনায়ক আর কেউ হতে পারবে না। তার জীবনী নিয়েই হবে সিনেমা। ভারতের বিখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল এই ছবিটি নির্মাণ করবেন। তিনিও হন্য হয়ে খুঁজছেন!
আসলে বঙ্গবন্ধুর মতো মহান এক আদর্শবান নেতার নাম ভূমিকায় অভিনয়ে কে পারবেন? কে পারবেন বঙ্গবন্ধুর চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে? মূলত তার ভূমিকায় কে হবেন পর্দার নায়ক, তা নিয়ে বেশ উদ্ধিগ্ন বাংলাদেশের ভক্তকুল। তাই জল্পনা কল্পনার যেন শেষ নেই এমন একজন আদর্শবান মানুষের চরিত্র কে পারবেন ফুটিয়ে তুলতে?

ওদিকে পরিচালক শ্যাম বেনেগাল বিবিসি বাংলা দিল্লীকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর যে সিনেমাটি নির্মিত হতে চলেছে, তার প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ‘সরু ও রোগা চেহারার একজন বঙ্গবন্ধু’কে খুঁজছেন। তবে তিনি এও বলেছেন, শেখ মুজিবের চরিত্রে বাংলাদেশের কোনও অভিনেতাকেই তিনি নিতে চান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নামের সঙ্গে বাংলাদেশে যে আবেগ জড়িত, একজন বিদেশি পরিচালক তার প্রতি সুবিচার করতে পারবেন না বলেও ঢাকার কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন- কিন্তু শ্যাম বেনেগাল পরিষ্কার জানাচ্ছেন তিনি এই ধরনের সমালোচনা নিয়ে আদৌ ভাবিত নন।২০২০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে তার জীবন নিয়ে যে চলচ্চিত্র বা বায়োপিক তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটির পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ সরকার মুম্বাইয়ের শ্যাম বেনেগালকেই বেছে নিয়েছে।
জানা গেছে, বলিউডের ৮৩ বছরের এই প্রবীণ পরিচালক অবশ্য তার অনেক আগে থেকেই শেখ মুজিবকে নিয়ে গবেষণা ও পড়াশুনো শুরু করে দিয়েছিলেন, মুজিবের আত্মজীবনীও তিনি এর মধ্যে পড়ে ফেলেছেন। ছবির নামভূমিকায় কে অভিনয় করবেন তা নিয়েও তিনি ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছেন।তার কথায়, ব্যক্তিগতভাবে আমি চাইব বাংলাদেশ থেকেই কোনও অভিনেতা এই চরিত্রে অভিনয় করুন – কারণ সেটাই বেশি সমীচীন হবে। আর তিনি একটু রোগা হলেই ভাল – কারণ জীবনের বেশিটা অংশ শেখ মুজিব নিজেও কিন্তু বেশ সরু আর রোগা ছিলেন।

এদিকে এই ছবির প্রধান চরিত্রে নামভূমিকায় অভিনয় করার জন্য চূড়ান্ত ব্যক্তির নাম ঠিক করতে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার দিকে তাকিয়ে আছেন শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছর দশেক আগে লন্ডন প্রবাসী লেখক সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীও বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি সিনেমা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নানা কারণে সে ছবি আলোর মুখ দেখেনি। গাফফার চৌধুরী একবার ঢাকায় এসে দৈনিক ডেসটিনিতে এসেছিলেন। ওইসময় তিনি দৈনিক ডেসটিনিতে নিয়মিত কলাম লিখতেন। যাহোক বঙ্গবন্ধু ছবির প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি দৈনিক ডেসটিনির বিশেষ প্রতিনিধি শফিক রহমান এর সঙ্গেও কথা বলেছিলেন গাফফার চৌধুরী।
একপর্যায়ে গাফফার চৌধুরী বলেন, সে সময় শেখ হাসিনার পরামর্শক্রমেই নামভূমিকায় বলিউডের কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনের কথা ভাবা হয়েছিল। এর একটি প্রধান কারণও ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জলদ গম্ভীর কণ্ঠের সঙ্গে বচ্চনের বিখ্যাত ব্যারিটোন কণ্ঠস্বরের দারুণ মিল রয়েছে। বিশেষ করে যারা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং বচ্চনের গলা দুটোই শুনেছেন, তারাও কয়েকজন নাকি সে সময় এমন মত দিয়েছিলেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার কাছ থেকে এখনো কিছু জানা না গেলেও এই চরিত্রের জন্য শোনা যাচ্ছে, কৌশিক সেনের নামও। তার চেহারা ও বয়সের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বয়সের একটা মিল আছে। যে বয়সে বঙ্গবন্ধু নেতা ছিলেন সেই বঙ্গবন্ধু’র সঙ্গে ওনার দারুণ মিলও রয়েছে।তবে সমস্যা হলো, বচ্চনের বয়স বেড়ে গেছে অনেকটাই। তার বর্তমান বয়স ৭৫ বছর। এই বয়সে বিখ্যাত এমন মানুষের নামভূমিকায় অভিনয় করতে তিনি কী রাজি হবেন? তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে।
তাছাড়া অমিতাভ বচ্চন নিজেও কাজের ও ডাবিংয়ের ব্যাপারে ভীষণ খুঁতখুঁতে। তিনি বাংলা বলতেও সাবলীল নন। তাই তিনি পর্দার বঙ্গবন্ধু হবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। তবে এমন কাউকে জাতির জনকের চরিত্রে রূপদান করা হবে, যিনি তার সমসাময়িক যেতে না পারলেও চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।এখন দেখা যাক, কে হচ্ছেন পর্দার বঙ্গবন্ধু। সময়ই বলে দেবে কে চলচ্চিত্রে রূপদান করছেন এই মহান নেতার চরিত্রে।

শ্যাম বেনেগাল বলেন, খুব কম লোকই এটা খেয়াল করেন যে শেখ মুজিবের যে বিশাল, ভারিক্কি চেহারার ছবিগুলোর সঙ্গে আমরা বেশি পরিচিত – সেটা তার জীবনের পরের দিকটার। শেষের দিকে তার কিছুটা ওজন বেড়েছিল ঠিকই, কিন্তু জীবনের বেশিটা সময় তিনি রীতিমতো রোগাই ছিলেন – যেমনটা টিপিক্যাল বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও অ্যক্টিভিস্টরা হন আর কী!
শেখ মুজিবের চরিত্রে বাংলাদেশী অভিনেতা খোঁজার আর একটা কারণ মূল ছবিটা হবে বাংলাতেই -আর পরিচালক চান মূল অভিনেতার নিজের কন্ঠস্বরই সেখানে ব্যবহার করতে।ফলে চেহারা একটু রোগা হলেও মুজিবের জলদগম্ভীর কন্ঠস্বর বা ব্যারিটোন ভয়েসটাও থাকতে হবে – আর অভিনেতা নির্বাচনে সেটাই প্রধান চাবিকাঠি।শ্যাম বেনেগাল অবশ্য নিশ্চিত এই ধরনের উপযুক্ত অভিনেতা খুঁজে পেতে বড় একটা সমস্যা হবে না আর পরে ছবিটা ডাব করা হবে হিন্দি, উর্দু বা ইংরেজিতেও।২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর আগেই ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে জানিয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি ইতিপূ্র্বে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক আগেই চলচ্চিত্র তৈরি হওয়া উচিত ছিল।
যাহোক আমরা চাই একটি আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র নির্মাণ হোক। আজ থেকে দুইশ বা তিনশ বছর পরও যেন সেই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষ বঙ্গবন্ধুকে জানতে পারেন চিনতে পারেন মহান আদর্শবান এই নেতাকে।



