• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

কে চেপে ধরছে কোটার কাঁটা?


প্রকাশিত: ৭:৫১ পিএম, ১৪ মে ১৮ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৬৬ বার

kota-www.jatirkhantha.com.bd.11
শফিক রহমান  :  নেপথ্যে কে? আর কেনই বা সরাচ্ছেন না কেন কোটার কাঁটা? সরকারকে অজনপ্রিয় করার ধান্ধা’য় কেন মেতে উঠছে কেন প্রশাসন? এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কোটা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে সরকার প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত শিবির হাইব্রিড ধান্ধাবাজ নেতারা সব কলাকাটি নাড়ছে। কিন্তু তাদের রহস্যজনক কারণে পাকরাও করা হচ্ছেনা। এর ফলে কোটার কাঁটায় সরকারকে বিদ্ধ করানো হচ্ছে!

kota-shabag-www.jatirkhantha.com.bdসরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সোমবার ১৪ মে নতুন করে ছাত্ররা শাহবাগ চত্বর দখল করেছে। ছাত্ররা কোটা সংস্কার চেয়েছিল।কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কোটাই বাতিল করে সংসদে বক্তব্য দেন। এরপর এক মাস হয়ে যায়। সরকার রহস্যজনক ভাবে নিরবতা পালন করে। এর নেপথ্যে তো প্রধানমন্ত্রী দায়ী নন?

কারণ, যারা তাঁর উপদেষ্ঠা তাঁরা এটা নিয়ে মাথা ঘামাননি ভালোভাবে! কারণ উপদেষ্ঠা পারিষদ-রা সঠিকভাবে মাথা ঘামালে কোটা সংস্কার হতো এবং প্রজ্ঞাপনও ইতিমধ্যে জারি হয়ে যেতো। এতে করে সরকারও লাখ লাখ তরুণ সমাজের কাছে হিরো হয়ে যেতো। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারের পক্ষে কথা বলতো এই তরুণরাই।
15295237d7c34fdd5e00bbe35fe71f0e-5aaf7518b4fc3
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো সরকার প্রধানকে উল্টো তরুণ সমাজের অ-জনপ্রিয় করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে।এর ফলে সরকারের শেষ সময়ে এসে ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’ এই স্লোগান দিচ্ছে ছাত্ররা। সোমবার সকাল ১১টায় টিএসসিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিল করছিলো।

আর মিছিল থেকে মুহুর্মুহু স্লোগান দেয়া হচ্ছে, ‘ছাত্রসমাজ জেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘আর নয় প্রহসন, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, ‘প্রজ্ঞাপন নিয়ে টালবাহানা চলবে না’। মিছিলকারীদের অনেকের হাতে ধরা পোস্টারেও স্লোগানের কথাগুলো ছিল।

Quota-www.jatirkhantha.com.bdমিছিলটি দক্ষিণ দিকে গিয়ে শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর হয়ে ফের শাহবাগে এসে শেষ হয়। সেখানেই আন্দোলনকারীরা সমাবেশ করেন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে তাঁরা ছাত্রদের সমাবেশে বাধা দেননি। মোড়ের তিন দিকে গাড়ি ও মানুষের ভিড় জমে যায়।

তখনো সমাবেশ থেকে স্লোগান উচ্চারিত হচ্ছিল।বেলা বাড়তে থাকলে দুপর দেড়টা নাগাদ দখল হয়ে যায় শাহবাগ চত্বর। কোটা দাবীকারীদের কর্মসূচি পুলিশসহ সবাই জানতো। কিন্তু কেউই মাথা ঘামায়নি।আন্দোলনের একপর্যায়ে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে ‘আর কোটা থাকবে না’ বলে ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্দোলনের কর্মসূচি স্থগিত করেন।

du-vc-www.jatirkhantha.com.bdরোববার আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি ঘোষণা করার পর সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে কেউ যোগযোগ করলে হয়তো আজকের ছাত্র ধর্মঘটটি এড়ানো যেত। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের ধর্মঘটে যাওয়া সমীচীন নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রশাসন গত এক মাসেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

তবে বলা হয়েছে, সরকার কমিটি গঠন করেছে।  প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই কমিটি কেন আন্দোলনকারীদের কথা শোনার চেষ্টা করল না। ওবায়দুল কাদের সাহেব যে এক মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করবেন বলেছিলেন, সেটি তিনি ভুলে গেলেন কেন? এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণারও এক মাস পার হয়েছে ১১ মে। ফলে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ জমা থাকতেই পারে।

Quota-www.jatirkhantha.com.bd.222ওদিকে ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের স্লোগানে উত্তাপ ছিল এরকম যে, সরকার কালক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে। কারণ, দুদিন পরই রোজা শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। তখন ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের কেউ থাকবেন না।কিন্তু অবস্থা কিন্তু সেরকম দেখা যাচ্ছেনা। আজ দুপুর থেকে কিন্তু শাহবাগ দখল হয়ে গেছে।

যেটা পুলিশ ইচ্ছে করলে নানা কৌশল অবলম্বন করে ঠেকাতে পারতো কিন্তু তারা তা করেনি। ওদিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওযায় জনদূর্ভোগ যেমন বাড়ছে তেমনি সরকারের ওপর ক্ষোভও বাড়ছে মানুষের। এটা রমজানে শুরুতে ঘটতে থাকলে পরিস্থিতি যে ভালো হবেনা সেটা বলাই বহুল্য!

D-U-pilkhana-www.jatirkhantha.com.bd.999কাজেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন-ডিজিটাল সময়ের মূল্যায়ন করুন কোটার কাঁটায় সরকারকে বিদ্ধ করবেন না-কারণ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের ক্ষতি হলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে!কেনোনা তারা কিন্তু এটা জানে কোটার কাঁটার নেপথ্যে কারা কাজ করছে।

ওদিকে কোটার কাঁটাদের এখনো চিহ্নিত করতে পারেনি সরকারের সব সুবিধা নেয়া গোয়েন্দারা। অথচ স্বরাষ্ঠ্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন ভিসির বাসায় হামলাকারীরা চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও কেন নিরবতা??